জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিবাহবার্ষিকীর ঠিক আগের দিন আনন্দ উদযাপনের বদলে নেমে এল চরম বিষাদের ছায়া। উত্তরপ্রদেশের মিরাটে (Meerut, Uttar Pradesh) বিজেপি নেতার ছেলের আত্মহত্যার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। কঙ্করখেড়া মণ্ডলের বিজেপি সহ-সভাপতি রাজীব গুপ্তর ২৬ বছর বয়সী ছেলে প্রবাল গুপ্ত বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মঘাতী হওয়ার আগে প্রবাল প্রায় আট মিনিটের একটি ভিডিয়ো রেকর্ড করেন। ওই ভিডিয়োয় তিনি স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে শারীরিক নিগ্রহ, চরম মানসিক নির্যাতন (mental harassment) এবং পারিবারিক সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য লাগাতার চাপের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
ছেলের মৃত্যুর খবর পেতেই শোকে হৃদরোগে আক্রান্ত (heart attack) হয়েছেন তাঁর বাবা রাজীব গুপ্ত।
কেন চরম পদক্ষেপ? ভিডিয়োতে যে অভিযোগ তুলেছেন প্রবাল
গাজিয়াবাদের একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত প্রবাল গুপ্তর বিয়ে হয়েছিল গত বছর ২ নভেম্বর ঋষিনগরের বাসিন্দা স্নেহার সঙ্গে। অভিযোগ, বিয়ের অল্প কিছুদিন পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য কলহ (marital discord) চরম রূপ নেয়।
মৃত্যুর আগে বানানো ওই ভিডিয়োতে প্রবাল জানান:
শারীরিক মারধর ও অসদাচরণ (Domestic violence): স্ত্রী স্নেহা প্রায়শই তাঁকে গালিগালাজ করতেন এবং মারধর করতেন। এমনকি তাঁদের সদ্যোজাত কন্যা ও অসুস্থ স্ত্রীকে দেখাশোনা করতে যখন প্রবালের মা আসেন, তখন শাশুড়িকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
সম্পত্তির জন্য চাপ (Pressure for property transfer): প্রবালের দাবি, স্ত্রী ক্রমাগত সমস্ত সম্পত্তি তাঁর নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য ব্ল্যাকমেল ও চাপ দিচ্ছিলেন।
পোড়া রুটি ও অবহেলা (Extreme negligence): পরিবারের অভিযোগ, স্নেহা সংসারের কোনও কাজ করতেন না, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দরজা বন্ধ করে ফোনে কথা বলতেন এবং স্বামীকে পোড়া রুটি খেতে দিতেন।
পারিবারিক কাউন্সেলিং ও পুলিসের ভূমিকা
দাম্পত্য বিবাদের জেরে স্ত্রী স্নেহা আগেই পুলিসে পণপ্রথা ও গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ (dowry and domestic violence complaint) দায়ের করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে পুলিস লাইন্সের ফ্যামিলি কাউন্সেলিং সেন্টারে (Family Counselling Centre) দুই পক্ষকেই বোঝাপড়ার জন্য ডাকা হয়। প্রবালের পরিবারের অভিযোগ, কাউন্সেলিং চলাকালীন এক পুলিস আধিকারিক তাঁদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন এবং পুরো পরিবারকে জেলে পাঠানোর হুমকি দেন।
স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির হুমকির সঙ্গে পুলিসের এই আচরণেই মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন যুবক।
উদ্ধার ও চিকিৎসা
১ নভেম্বর দুপুরে বিষপানের পর মিরাটের ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার হন প্রবাল। পুলিস ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত কৈলাশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উচ্চতর চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হলেও রবিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বর্তমান তদন্ত ও আইনি পরিস্থিতি
পুলিস মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। মিরাট পুলিসের পদস্থ আধিকারিক শিব ঠাকুর জানিয়েছেন, ভিডিয়োতে উল্লিখিত অভিযোগ, কাউন্সেলিংয়ের নথি এবং পারিবারিক বিবাদের প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পরিবারের অভিযোগ জমা পড়লেই দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা (legal action) গ্রহণ করা হবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)