জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীরের মধ্য বাডগাম জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে মঙ্গলবার এক বড়সড় সাফল্য পেল যৌথ বাহিনী। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে খতম লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ জঙ্গি সুলেমান শাহ ওরফে মুসা। উপত্যকায় একাধিক নাশকতামূলক হামলায় জড়িত থাকা এই মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গির গতিবিধির খবর পেয়েই যৌথভাবে অভিযান চালায় রাষ্ট্রীয় রাইফেলস ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী।
সেনার চিনার কোর সূত্রে প্রথমে নাম প্রকাশ না করা হলেও পরে নিরাপত্তা আধিকারিকরা নিহত জঙ্গির পরিচয় নিশ্চিত করেন। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সেন্ট্রাল কাশ্মীরের ইউসমার্গ এলাকার কোরাগে সন্দেহভাজন গতিবিধি লক্ষ্য করেন জওয়ানরা। সন্দেহভাজনদের থামতে বললে তারা জওয়ানদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। পালটা জবাব দেয় বাহিনীও। শুরু হয় তীব্র গুলির লড়াই। সেনা সূত্রে খবর, দুধপাথরির বনাঞ্চলে চলা এই গুলির লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ওই জঙ্গি খতম হয়। গোটা এলাকায় তল্লাশি অভিযান এখনও জারি রয়েছে।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর ধরে পির পাঞ্জাল পাহাড়ের দুই পাশে একাধিক সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত ছিল এই মুসা। চলতি মাসের শুরুতে ইউসমার্গ পাহাড়ি অঞ্চলে একটি অভিযান চালিয়েছিল বাহিনী। সেই সময় নিরাপত্তা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে পালাতে সক্ষম হয় সে। সেবার তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়াসিরের মৃত্যু হয়েছিল সেনার গুলিতে। এবার আর শেষরক্ষা হল না, এনকাউন্টারে মৃত্যু হল মুসার।
মুসার মৃত্যু জম্মু ও কাশ্মীরে লস্কর-ই-তৈবার কার্যকলাপের ক্ষেত্রে এক বিরাট বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন সামরিক আধিকারিকরা।
প্রসঙ্গত, অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়ায় ভয়ংকর কাণ্ড ঘটে। সেওয়া হাইড্রো ইলেকট্রিক প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সিআইএসএফ জওয়ান নির্বিচার গুলি চালিয়ে দিলেন সহকর্মীদের লক্ষ্য করে। প্রাণ হারালেন ৪ সিআইএসএফ জওয়ান। মর্মান্তিক ওই ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার বিকেলে।
অভিযুক্ত সিআইএসএফ জওয়ান অবধেশ সিংকে গ্রেফতার করা হয়েছে। টিক কী কারণে তিনি এমন নির্মম কাণ্ড ঘটিয়ে ফেললেন তা জানতে অবধেশকে জিজ্ঞাসবাদ করা হচ্ছে। এখনও পর্য়ন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, সহকর্মীদের সঙ্গে কোনও একটি কারণে বচসায় জড়িয়ে পড়েন অবধেশ। তার পরই তিনি তার সার্ভিস বন্দুক থেকে সহকর্মীদের লক্ষ করে গুলি চালিয়ে দেন।
সূত্রের খবর, ডিউটি বদল নিয়েই তর্কাতর্কি শুরু হয়ে যায় জওয়ানদের মধ্যে। তবে এনিয়ে সিআইএসএফের কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ওই তর্কাতর্কির পরই ওই ৪ জওয়ানকে গুলিতে ঝাঁজরা করে দেন অবধেশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিত্সকেরা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)