'সর্বসম্মতিতেই SIR-র সিদ্ধান্ত', সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশনের
Supreme Court SIR case: জুন ২০২৫, অক্টোবর ২০২৫ ও মে ২০২৬ তারিখে তিন নির্বাচন কমিশনার সম্মতিতেই SIR সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: SIR মামলায় বড় আপডেট। সুপ্রিম কোর্টে এবার হলফনামা দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল, তিন কমিশনের সম্মতিতেই SIR। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একা কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। হলফনামায় উল্লেখ, 'তিন কমিশনারের মধ্যে আলোচনায় কী প্রশ্ন উঠেছে, কী পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কী পর্যবেক্ষণ রাখা হয়েছে, তার সঙ্গে কমিশনের সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই'।
SIR মামলার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা কমিশনের
-
জুন ২০২৫, অক্টোবর ২০২৫ ও মে ২০২৬ তারিখে তিন নির্বাচন কমিশনার সম্মতিতেই এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়
কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিশনের আধিকারি ও নির্বাচন কমিশনের মতামত, প্রশ্ন বিবেচনার করা হয়। সবদিক খতিয়ে দেখার পর কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন এবং সেই মতো নির্দেশ জারি করা হয়।
প্রথমে একজন নির্বাচন কমিশনারের কাছে ফাইল পাঠানো হয়, তারপর দ্বিতীয় কমিশনারের কাছে। সবশেষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে ফাইল পৌঁছয়। তাঁর অনুমোদনের পর সিদ্ধান্তটি কমিশনে ফাইলে নথিভুক্ত করে, সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের সচিবালয় এবং তা কার্যকর করা হয়।
এখন এই গোটা প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন, কমিশনের কোনও আধিকারিক যদি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা কমিশনারজের কোনও মতামত জানান কিংবা কোনও প্রশ্ন তোলেন, তা কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হবে না। নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটাই কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত।
SIR বিতর্কের উত্তাল গোটা দেশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারে পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন রাহুল গান্ধী। সেই মামলাতেই শীর্ষ আদালতে হলফনাম দিল কমিশন।
এদিকে বিতর্কের পর SIR-র একাধিক বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
SIR-এ বদল
নোটিস পেলেই ERO দফতরে হাজিরা নয়
SIR-এ ‘আনম্যাপড’ বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’-র নোটিস পাওয়া ভোটারদের এ বার নথি দিতে কমিশনের দফতরে ডাকা হবে না। BLO-রা বাড়িতে গিয়ে নথি সংগ্রহ করে ECINet-এ আপলোড করবেন। প্রয়োজন হলে শুনানি হবে অনলাইনে।
শুনানি হবে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে
প্রয়োজন মনে করলে ERO শুনানির নির্দেশ দিতে পারবেন। সম্ভব হলে অনলাইনেই শুনানি হবে। ভোটারের অনুমতিতে পরিবারের কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যও তাঁর হয়ে শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন।
অনলাইন শুনানির পরিকাঠামো বাড়ানো হবে
বিশেষ করে দূরে থাকা বা প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে দফতরে পৌঁছতে সমস্যায় থাকা ভোটারদের কথা মাথায় রেখেই জোরদার করা হবে অনলাইনে শুনানির পরিকাঠামো।
বিশেষ হেল্প ডেস্ক ও ক্যাম্প
গৃহহীন, শ্রমিক, দরিদ্র এবং রাতের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য DEO-দের পর্যাপ্ত হেল্প ডেস্ক ও বিশেষ শিবির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Form 6-এর ঘোষণা বহাল
SIR-এর ক্ষেত্রে Form 6-এর সঙ্গে থাকা ঘোষণাপত্র বহাল রয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে। SIR-এর সময়সীমার বাইরে নাম তোলা বা সংশোধনে Registration of Electors Rules, 1960 অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফর্মই ব্যবহার হবে।
আরও পড়ুন: প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে ভারতের বিপ্লব, লড়াইয়ের ধারণাই বদলে দেবে মাতাঙ্গি-বরুণ
ECINet পর্যালোচনা
enior Deputy Election Commissioner-এর নেতৃত্বে কমিটি এবং IIT/IIIT-এর এক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ECINet পরীক্ষা করবেন। আইন ও বিধি মেনেই ব্যবস্থা চলছে কি না, তা দেখা হবে। নতুন কোনও IT module বা portal চালুর আগে Committee of Officers-এর আলোচনার পর কমিশনের অনুমোদন নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।
SIR-এর পরেও নাম তোলার সুযোগ
কমিশনের দাবি, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ-সহ ২০টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR শেষ। নাম বাদ পড়লে, নতুন ও প্রথম বার ভোটার-সহ সংশ্লিষ্ট ERO-র কাছে Continuous Updation-এর মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যাবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)