রাজীব চক্রবর্তী: পুলিসি হেফাজতে দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কাউকে প্রতিরোধমূলক আটক (Preventive Detention) করা যায় না। সম্ভলের হিংসার ঘটনায় মোল্লা আফরোজকে NSA আইনে আটক রাখার এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ খারিজ করে মঙ্গলবার এই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ একই সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ সরকারের উপর ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা চাপিয়েছে। ২০২৪ সালের সম্ভল হিংসার ঘটনায় মোল্লা আফরোজকে NSA আইনে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নিয়েছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিস।
পুলিসের দাবি ছিল, হেফাজতে থাকাকালীন সম্ভলের হিংসায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন আফরোজ। সেই স্বীকারোক্তিকে আটক রাখার অন্যতম ভিত্তি করা হয়েছিল। তবে, সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, হেফাজতে দেওয়া এমন স্বীকারোক্তির উপর নির্ভর করে Preventive Detention-এর নির্দেশ দেওয়া যায় না।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভলের শাহি জামা মসজিদে আদালত নির্দেশিত সমীক্ষাকে ঘিরে ওই হিংসা ছড়িয়েছিল এবং চারজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রায় ৫৪ দিন পর আফরোজকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি এলাহাবাদ হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। কিন্তু ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর তাঁর ওপর জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করে নতুন করে প্রতিরোধমূলক আটকাদেশ জারি করে প্রশাসন। পরে হাইকোর্ট সেই আটকাদেশ বহাল রাখায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন আফরোজ। গত ৮ সেপ্টেম্বর রায়দান স্থগিত রাখার সময়ই শীর্ষ আদালত প্রশ্ন তুলেছিল, পুলিশি হেফাজতের স্বীকারোক্তিকে কি এমন আটকের আইনি ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা যায়?
শীর্ষ আদালতে মামলাকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, হিংসার সময় খোদ পুলিস গুলি চালিয়েছিল, কিন্তু সেই ঘটনার কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি। এই বিষয়ে প্রতিবাদী পিটিশন (প্রোটেস্ট পিটিশন) দাখিলের অনুমতি চান তিনি। আফরোজের আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, হেফাজতে নেওয়া স্বীকারোক্তি আইনের চোখে প্রমাণ হিসেবে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য। পাশাপাশি একাধিক ফৌজদারি মামলা থাকলেই কাউকে আগাম আটকে রাখা যায় না; তার জন্য অকাট্য তথ্যপ্রমাণের প্রয়োজন। এর সপক্ষে শীর্ষ আদালতের ‘রেখা বনাম তামিলনাড়ু রাজ্য’ এবং ‘আমিনা বেগম বনাম তেলেঙ্গানা রাজ্য’ মামলার নজির তুলে ধরে বলা হয়, কেবল অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কাউকে আটকে রাখা বেআইনি।
পাল্টা যুক্তিতে উত্তরপ্রদেশ সরকার দাবি করেছিল, আফরোজ মুক্ত থাকলে ফের হিংসা ছড়ানো বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা ছিল। সেই কারণেই তাঁকে আটকের সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত। পুলিসি স্বীকারোক্তির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও সরকারের দাবি ছিল, এটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে যোগী প্রশাসনের এই যুক্তি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)