হাওড়া-রাজধানী এক্সপ্রেস বাতিল, রেল চলাচল স্তব্ধ: বন্ধ ৫৭ মেট্রো স্টেশন, দিল্লি জুড়ে ১৬৩ ধারা, সিজেপি বিক্ষোভে রাজধানী দিল্লিতে কী কী বন্ধ থাকছে?
CJP Protest in Delhi: সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত সুগম রাখতে অবশ্য শীর্ষ আদালত (Supreme Court) কেন্দ্রকে এই সার্বিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে এবং সাধারণ নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে নিয়ন্ত্রণ (Principle of proportionality) বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা সিইসি (CEC - Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা ‘সিজেপি’ (Cockroach Janta Party - CJP)-র বিক্ষোভকে ঘিরে কার্যত অচলাবস্থার মুখে দিল্লি। ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে এই প্রতিবাদ জমায়েত আটকাতে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিস। রাজধানীর সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন করতে একগুচ্ছ দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করল ভারতীয় রেল (Indian Railways)। একই সঙ্গে নিউদিল্লির ৫৭টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং সীমান্ত সিল করে দেওয়ার ঘোষণায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম দুর্ভোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টানা ১০ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ
হাওড়া-শিয়ালদহ রাজধানীও বাতিল
উত্তর রেলওয়ে (Northern Railway)-র তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যানজট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশঙ্কায় শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নিউদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে সমস্ত ট্রেন আসা ও যাওয়া স্থগিত থাকবে।
বাতিল ট্রেনের তালিকা
শুক্রবার দুপুর ২টোর পর যে সমস্ত এক্সপ্রেস ও মেল ট্রেন রওনা হওয়ার কথা ছিল, সেগুলি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।
তালিকায় রয়েছে
১২৩০১ হাওড়া-নয়াদিল্লি রাজধানী এবং ১২৩১৩ শিয়ালদহ-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসের মতো একাধিক প্রিমিয়াম ট্রেন।
বাতিল হয়েছে বেনারস, কানপুর, প্রয়াগরাজ ও জম্মু থেকে আসা বহু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনও।
শর্ট টার্মিনেশন
দূরদূরান্ত থেকে আসা যে ট্রেনগুলো ইতোমধ্যেই যাত্রা শুরু করেছে, সেগুলিকে দিল্লিতে ঢুকতে না দিয়ে আশেপাশের প্রান্তিক স্টেশনে থামিয়ে দেওয়ার (Short-termination) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৫৭ মেট্রো স্টেশনে ঝাঁপ বন্ধের নির্দেশ
ট্রেনের পাশাপাশি রাজধানীর অভ্যন্তরীণ পরিবহনেও নজিরবিহীন কোপ পড়েছে। দিল্লি পুলিসের নির্দেশে শুক্রবার রাত ৯টা থেকেই দিল্লি মেট্রোর (DMRC) ৫৭ স্টেশনে বিধিনিষেধ ও গেট বন্ধ রাখার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
রাজীব চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, প্যাটেল চক, জনপথ, মাণ্ডি হাউস এবং কাশ্মীরি গেটের মতো প্রধান জংশন স্টেশনে যাত্রী চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত সুগম রাখতে অবশ্য শীর্ষ আদালত (Supreme Court) কেন্দ্রকে এই সার্বিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে এবং সাধারণ নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে নিয়ন্ত্রণ (Principle of proportionality) বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
সীমান্তে কড়া নাকা চেকিং ও বিঅ্যান্ডএসএস ১৬৩ ধারা
দিল্লি পুলিসের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন না করা এবং আগের কর্মসূচির নির্দেশিকা না মানার কারণে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সীমান্ত সিল
হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে দিল্লি পুলিসের উচ্চপর্যায়ের সতর্কতা জারি হয়েছে। গাজীপুর, সিঙ্ঘু ও টিকরি সীমান্তে ত্রিস্তরীয় লোহার ব্যারিকেড ও ড্রোন নজরদারি চলছে।
সিএপিএফ মোতায়েন
নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রায় ২২১ কোম্পানি আধা-সামরিক বাহিনী (CAPF) ও দিল্লি পুলিশের হাজার হাজার জওয়ান মোতায়েন রয়েছে।
আইনি খাঁড়া
মধ্য দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ বা বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা (Section 163 of BNSS) জারি করে চারজনের বেশি জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও নিরাপত্তা রক্ষায় রাজধানী এখন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মুখোমুখি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)