জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ব্লু ড্রাম হত্যাকান্ড, মেরঠের মুসকান ও সাহিলের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। এবার সেই সৌরভ রাজপুত মার্ডার কেসেই মুসকান-সাহিলের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করল আদালত। প্রামিকের সহায়তায় স্বামীকে খুন করে, ১৫ টুকরো করে ড্রামে ভরে রেখেছিল। মেরঠকাণ্ড চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল গোটা দেশে। মার্চেন্ট নেভি অফিসারকে নৃশংসভাবে খুন করে দেহ নীল ড্রামে সিমেন্টবন্দি করে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি এবং তার প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনাল মেরঠ জেলা আদালত।
কী ঘটেছিল?
অভিযোগ, গত ৪ মার্চ প্রেমিক সাহিল শুক্লার সহযোগিতায় সৌরভকে খুন করে মুসকান। তারপর তাঁর দেহ ১৫ টুকরো করে ড্রামে লুকিয়ে রাখে। পরে পুলিসকে মুসকান বলে, ২০২১ সালেই সৌরভের সঙ্গে তার ডিভোর্সের মামলা শুরু হয়ে গিয়েছিল। তখনও সাহিলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়নি। পরে যত তাদের সম্পর্ক গাঢ় হয়েছে ততই সৌরভের সঙ্গে বিচ্ছেদ পাকাপাকি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল সে। আর সেই কারণেই নাকি শেষমেশ আর ধৈর্য ধরতে না পেরে স্বামীকে খুন করে সে।
সাজা শুনে কী বক্তব্য মুসকানের?
১২৬টি শুনানি ও ২২ জনের সাক্ষ্যদানের পর মুসকান ও সাহিলকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। অবশেষে এদিন সাজা ঘোষণা হল। জেলা কারাগার থেকে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন মুসকান ও সাহিল। বিচারক দু’জনের কাছেই জানতে চান, সাজা ঘোষণার আগে তাদের কিছু বলার আছে কি না। কিন্তু নিজেদের বক্তব্য জানাতে চায়নি কেউই।
আদালতে আবেগে ভাসলেন সৌরভের মা
নিম্ন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ২২ জন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মুসকান ও সাহিল, দু’জনকেই খুন এবং প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছিলেন সরকার পক্ষের আইনজীবী। এ দিন রায় ঘোষণা করে আদালত। ১৪ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় মেরঠের জেলা জজ অরবিন্দ কুমার মিশ্র যখন সাহিল ও মুসকানকে মৃত্যুদণ্ড দেন, তখন সেই রায় শুনে সৌরভ রাজপুতের পরিবারের সদস্যরা আবেগে ভেসে যান। সৌরভের মা বলেন, 'আমরা কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পেয়েছি। মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষিত হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গভীরভাবে সন্তুষ্ট। ছোট মেয়ের বিষয়ে আমাদের কোনও সম্পর্ক বা করণীয় নেই; তবে বড় মেয়েকে আমরা নিঃশর্তভাবে আমাদের কাছেই রাখব।'
অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন মুসকান
এদিকে গত নভেম্বরে মা হয় মুসকান। তার আগেই জানা গিয়েছিল, স্বামীকে খুনের সপ্তাহখানেক আগেই সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিল। যদিও ব্যাপারটা প্রথমে সে বুঝতে পারেনি। ৫ এপ্রিল জেলের মধ্যে মুসকানের ঘনঘন বমি ও দুর্বলতার লক্ষণ দেখা দেয়। চিকিৎসকরা তাঁকে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। ১১ এপ্রিল জেল থেকে লালা লাজপত রায় মেডিক্যাল কলেজে তাঁকে পরীক্ষা করাতে নিয়ে যাওয়া হয়। রিপোর্টে জানা যায়, চার থেকে ছ'মাসের অন্তঃসত্ত্বা সে। নভেম্বরে মুসকান এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)