ভয়ংকর রহস্যময় এই ত্রিভুজ ভূখণ্ডেই সারাবছর ভেসে বেড়ায় তন্ত্রমন্ত্রের ঘন মেঘ! জানেন, কোথায় এই আশ্চর্য তন্ত্রগ্রাম?
Mayong Land of Black Magic: খ্রিস্টীয় প্রথম সহস্রাব্দের শুরুতে এবং গুপ্তযুগের শেষভাগে তন্ত্র সাধনার বিকাশ ঘটে ভারতে। তন্ত্র কী? তন্ত্র তন্ত্র হল শিব ও মহাশক্তির উপাসনা এবং তাঁদের দিব্যলীলা, যে দিব্যলীলায় এই মহাবিশ্বের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। এর একটা গোপনধারা বরাবরের জন্যই প্রবহমান ভারতীয় আধ্যাত্মিক জগতে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কালীপুজো আসছে। এই সময়টায় তন্ত্র মন্ত্রের বিপুল চর্চা হয়। সারা ভারতেই তন্ত্রের চর্চা আছে। এর মধ্যে পূর্ব ভারতে একটু বেশি। তার মধ্যে আবার অসম হল তন্ত্রের পীঠস্থান। তন্ত্রচর্চার সূত্রে উঠে আসে কামাখ্যার নাম। আর একটি জায়গার নামও উঠে আসে। যে জায়গাটি নিয়ে এক ভারতজোড়া আগ্রহ। কালীপুজো এলেই সকলে এই জায়গাটির কথা বলে, চর্চা করে।
মায়ং
সেটি হল মায়ং। মায়ং গ্রামটি তন্ত্রচর্চার ক্ষেত্রে অতি বিশিষ্ট নাম। তন্ত্র কী? তন্ত্র হল শিব ও মহাশক্তির উপাসনা এবং তাঁদের দিব্যলীলা, যে দিব্যলীলায় এই মহাবিশ্বের ব্যাখ্যা লুকিয়ে আছে। খ্রিস্টীয় প্রথম সহস্রাব্দের শুরুতে এবং গুপ্তযুগের শেষভাগে তন্ত্র সাধনার বিকাশ ঘটে বলে মনে করা হয়। কিন্তু এর একটা গোপন ধারা বরাবরের জন্যই প্রবহমান থেকেছে ভারতীয় আধ্যাত্মিক জগতে-- এমনটাই মত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের।
যোনিপীঠ ও শিবলিঙ্গ এবং
এহেন বিশেষজ্ঞেরা কী বলছেন মায়ং নিয়ে বা মায়ংয়ের তন্ত্র নিয়ে? এক বিশিষ্ট গবেষক বলেন, 'কাঁচশিলায় পাওয়া একটি বৌদ্ধ-তান্ত্রিক শিলালিপি, সূর্যচক্র ও পদ্মচক্রের মতো বিভিন্ন যন্ত্র, একটি যোনিপীঠ ও শিবলিঙ্গ এবং শিব-পার্বতী ও উমা-লিঙ্গের মূর্তি এ বিষয়ে খুবই জরুরি সংযোজন। গবেষকরা বেশ কিছু গণেশ মূর্তিও খুঁজে পেয়েছেন, যার বেশিরভাগই অষ্টম ও নবম শতাব্দীর। গণেশকে জ্ঞানের দেবতা হিসেবে পূজা করা হত, আর তন্ত্র, মন্ত্র ও যোগকে জ্ঞানের সাধনা বলে গণ্য করা হত।'
ত্রিভুজাকার ভূখণ্ড
ওই গবেষক জানান, কালিকা পুরাণ ও যোগিনী তন্ত্রে মায়ং-এর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা নেই। তবে সেখানে তন্ত্র-মন্ত্র সাধনার সঙ্গে যুক্ত একটি ত্রিভুজাকার ভূখণ্ডের বর্ণনা দেওয়া রয়েছে। এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানও হয়তো ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে এই বর্ণনা যে, কেন এটি এতদিন তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্ন একটা জায়গা ছিল। এখানে ছিল নদী। সমস্ত এলাকাটা ঘন জঙ্গলে ঘেরা। সেই জঙ্গলে ছিল হাতি ও বাঘ। আর প্রাকৃতিক ভাবে এরকম দুর্গম হওয়ার কারণে বহিরাগতদের পক্ষে এখানে সহজে পৌঁছনোও ছিল কঠিন। ফলে, দীর্ঘদিন এখানে কোনও বাইরের মানুষের পায়ের ছাপ পড়েনি।
লোকমুখে
তবে শাস্ত্রে বা পুরাণে উল্লেখ না থাকলেও মায়ং-এর ইতিহাসের অনেকটাই বেঁচে রয়েছে এবং এতদিন ধরে বেঁচে থেকেছে মূলত লোকমুখে প্রচলিত কথার মাধ্যমেই। এখানকার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কাহিনিই লিখিত রেকর্ডের পরিবর্তে মানুষের স্মৃতিতে রয়ে গিয়েছে। সকলেই মনে করেন, মায়ং-এর প্রাচীনত্ব ও এর পবিত্র তীর্থস্থানগুলিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে সেগুলির ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট না করে বরং সেসব সংরক্ষণ করা জরুরি। এ-অঞ্চলে দর্শনার্থীরা শুধু যে বন্যপ্রাণী দেখতেই আসেন তা নয়, বরং মায়ংয়ের প্রাচীন তীর্থক্ষেত্র এবং এর সন্নিহিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও উপভোগ করতে আসেন তাঁদের কেউ কেউ। কেউ কেউ একে একশো তীর্থের দেশ বা পাঁচ দেবতার ভূমি বলেও বর্ণনা করেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)