সন্তান প্রতিপালনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: চাইল্ড কেয়ার লিভে বড় চেঞ্জ, মা-বাবা কে কতদিন ছুটি পাবেন?
Big Change proposal in CCL by National Women's Commission: ২০৩০ সালের মধ্যে দেশজুড়ে কর্মজীবী মা-বাবার সুবিধার্থে অন্তত ৫ লক্ষ ডে-কেয়ার বা ক্রেশ আসন তৈরির জাতীয় পরিকাঠামো গঠনের প্রস্তাব।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চাকরিজীবী অভিভাবকদের জন্য চাইল্ড কেয়ার লিভে (CCL) আমূল সংস্কারের পথে কি এবার কেন্দ্র? কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের ক্যারিয়ারের বাধা দূর করতে এবং পরিবারে যৌথ অভিভাবকত্বের ধারণা গড়ে তুলতে বড় সংস্কারের বার্তা দিল জাতীয় মহিলা কমিশন। ‘চাইল্ড কেয়ার লিভ’-এর নিয়মে বদল এনে বাবা ও মা-- দুজনের জন্যই সমান ছুটির অধিকার নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে কেন্দ্রকে। কমিশনের মতে, সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ করে নেওয়া গেলে একদিকে যেমন কর্মজীবী মায়েরা পেশাগত জীবনে স্বস্তি পাবেন, তেমনই সমাজে প্রতিষ্ঠা হবে প্রকৃত লিঙ্গসমতা।
৭৩০ দিনের CCL ছুটির সমবণ্টন
বর্তমানে প্রচলিত নিয়মে কর্মজীবী মায়েরা সন্তান প্রতিপালনের জন্য সর্বোচ্চ ৭৩০ দিনের (দুই বছর) চাইল্ড কেয়ার লিভ পান। জাতীয় মহিলা কমিশনের দেওয়া সুপারিশে বলা হয়েছে, এই ছুটির অধিকার কেবল মায়েদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে পরিবারের ভারসাম্য রক্ষার্থে বাবা-মা উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য করতে হবে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি বাবা-মা দুজনেই চাকরিজীবী হন, তবে সেই ৭৩০ দিনের ছুটি তাঁদের দুজনের মধ্যে সমভাবে ভাগ করে দেওয়া উচিত। অর্থাৎ, বাবা এবং মা প্রত্যেকে ৩৬৫ দিন করে সন্তান লালন-পালনের এই ছুটি নিতে পারবেন। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে সন্তান জন্মের পর মহিলাদের ক্যারিয়ারে তৈরি হওয়া দীর্ঘ বিরতি বা প্রতিবন্ধকতা হ্রাস পাবে এবং পিতৃত্বের দায়িত্ব আরও প্রত্যক্ষ ও কার্যকর হবে।
বেসরকারি ও অসংগঠিত ক্ষেত্রে পিতৃত্বকালীন ছুটি
সরকারি ক্ষেত্রে পিতৃত্বকালীন ছুটির কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা থাকলেও বেসরকারি সংস্থা এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা প্রায় নেই বললেই চলে। এই বৈষম্য দূর করতেই বেসরকারি ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের সমস্ত পুরুষ কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক 'বেতন-সহ পিতৃত্বকালীন ছুটি' (Paid Paternity Leave) চালুর জোরালো সুপারিশ জানিয়েছে কমিশন। কমিশনের মতে, সন্তান জন্মের পর শুরুর দিনগুলিতে মায়ের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি শিশুর সঠিক যত্নের জন্য বাবার উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি, এর ফলে পরিবার ভাল থাকবে সঙ্গে সমাজের স্বাস্থ্যকর বিকাশ হবে।
২০৩০ সালের মধ্যে ৫ লক্ষ ক্রেশ তৈরির মেগা-পরিকল্পনা
চাকরিজীবী বাবা-মায়েদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হল কর্মক্ষেত্রে থাকার সময় সন্তানের নিরাপদ আশ্রয় ও যত্ন। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে জাতীয় মহিলা কমিশন ২০৩০ সালের মধ্যে গোটা দেশ জুড়ে অন্তত পাঁচ লক্ষ ডে-কেয়ার বা ক্রেশ (Creche) গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। এর জন্য একটি শক্তিশালী জাতীয় পরিকাঠামো দরকার। বড় শিল্পসংস্থাগুলো ছাড়াও পর্যায়ক্রমে মাঝারি ও ছোট মাপের (MSME) সমস্ত সংস্থাকে এই পরিষেবার আওতায় নিয়ে আসার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে, যাতে লেবার স্তরের কর্মজীবী নারীরাও এর আওতায় পড়েন ও নিশ্চিন্তে কাজে অংশ নিতে পারেন।
জাতীয় মহিলা কমিশনের এই সামগ্রিক রূপরেখা কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে একটি মাইলফলক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান প্রতিপালনকে একতরফা মায়েদের দায়িত্ব থেকে মুক্ত করে যৌথ অভিভাবকত্বে রূপান্তরিত করলে কর্পোরেট ক্ষেত্রে নারীদের বিরুদ্ধে হওয়া নিয়োগ-বৈষম্য অনেকটাই দূর হবে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় সরকার এই সুপারিশগুলি কত দ্রুত নীতিগত রূপ দিয়ে কার্যকর করে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)