জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবিতে ঢেউ উঠেছে সারা দেশে। ইন্ডিয়া ব্লক, বিরোধী শক্তি, ককরোচ এবং তারকাদের বেশ কিছু অংশের মানুষ এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দেশের সবথেকে বড় খবেরর শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে। এবার এই সর্বাত্মক আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়ল কর্নাটকের রাজধানীতেও। দিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের পর এবার বেঙ্গালুরুর ঐতিহাসিক ফ্রিডম পার্কে যুব সংগঠন 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)-র ডাকে নজিরবিহীন 'চটি বিক্ষোভ' (Chappal Protest) এবং গণ-আদালত বা 'পিপলস ট্রাইব্যুনাল'। এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রতিবাদে সামিল হন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠী, বিশিষ্ট অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং সমাজকর্মী ও ককরোচের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও নাগরিক অধিকার কর্মী। আর এর মাঝেই সব হারিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে কোনওক্রমে বেঁচে থাকতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দুপুর ১:৩০টায় কনট প্লেসের মোয়েট রেস্তরাঁয় ফের মিলিত হবেন ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। সূত্রের খবর, ইতোমধ্যেই সব দলের তরফে তাঁদের সাংসদদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। গত দুদিনের থেকে আরও বেশি শক্তি নিয়ে পথে নামার পরিকল্পনা ইন্ডিয়া জোটের তরফে। প্রসঙ্গত, আজকের বিক্ষোভে যোগ দেবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
ককরোচদের হুঁশিয়ারি
প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে আয়োজক সংগঠন সিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা করা হয়। তাদের স্পষ্ট স্লোগান ছিল-- 'জ্ঞানেশ কুমার, ককরোচেরা তোমার দিকেই আসছে' (Gyanesh Kumar, Cockroaches are coming for you)। প্রতীকী ও ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণের নিন্দা জানাতে বিক্ষোভকারীরা চটি হাতে নিয়ে এই অভিনব প্রতিবাদে অংশ নেন। আয়োজকদের দাবি, গণতন্ত্রের ভিত্তি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, অথচ ভোটার তালিকা ছাঁটাইয়ের নামে সাধারণ নাগরিকের ভোটাধিকার হরণ করে আসলে গণতন্ত্রের হত্যা করা হচ্ছে।
পিপলস ট্রাইব্যুনাল
ফ্রিডম পার্কে 'পিপলস ট্রাইব্যুনালে- এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বহু সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁদের ক্ষোভ ও দুর্দশার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
অভিনেতা প্রকাশ রাজ ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী এই মঞ্চে উপস্থিত থেকে ভোটারদের অধিকার রক্ষার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন।
প্রকাশ রাজ কড়া ভাষায় কেন্দ্রের শাসক দল ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে দেশের সাধারণ নাগরিকদের আওয়াজ রুদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু নাগরিক সমাজ ও দক্ষিণ ভারতের মানুষ এই একতরফা আধিপত্য মেনে নেবে না।
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রাতিষ্ঠানিক অসঙ্গতি এবং একতরফা নিয়মের কারণে লাখ লাখ বৈধ ভোটারের নাম মুছে ফেলার যে চক্রান্ত চলছে, তা আধুনিক গণতন্ত্রের জন্য চরম অশনিসংকেত।
হিংসার আশঙ্কা ও কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী
কর্মসূচি শুরুর আগেই আয়োজকদের পক্ষ থেকে এক চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। তাদের দাবি, বিজেপির উচ্চপর্যায় থেকে খবর এসেছে যে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীকে জড়ো করা হয়েছে।
এই আশঙ্কার জবাবে সিজেপি স্পষ্টভাবে জানায়
'যা-ই ঘটুক না কেন, আমাদের প্রতিবাদ সম্পূর্ণ অহিংস ও শান্তিপূর্ণ থাকবে। হাত হামারা নহি উঠেগা (আমরা হাত তুলব না)। তবে দেশের সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। অমিত শাহ-- গোটা দেশ দেখছে। এবার আর এটা শুধু দিল্লি পুলিসের বিষয় নয়।'
যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ফ্রিডম পার্ক ও সংলগ্ন এলাকা জুড়ে কর্নাটক পুলিস কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। গোটা পার্ক চত্বর ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় এবং বিপুল সংখ্যক পুলিস মোতায়েন করা হয়।
প্রতিবাদের নতুন বার্তা
দিল্লির রাজনৈতিক উত্তাপের পর বেঙ্গালুরুর এই অহিংস অথচ চাঁচাছোলা যুব বিক্ষোভ জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সামাজিক মাধ্যমের তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে বিশিষ্ট নাগরিকরা যেভাবে পথে নেমে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি চাইছেন, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ভোটার তালিকা বিতর্ক সহজে থামছে না।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)