SOCIAL MEDIA

Newsletter

PARTNER SITES
Select Language Select State

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লি বিক্ষোভ: পাবলিক প্লেসে কি নজরদারি? ফেসিয়াল স্ক্য়ানার নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিমকোর্টের ঐতিহাসিক শুনানি

Supreme Court on Delhi Protest: ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক কে. এস. পুত্তস্বামী রায়ে সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির বেঞ্চ রায় দিয়েছিল যে গোপনীয়তা একটি মৌলিক অধিকার (Fundamental Right)। তবে প্রকাশ্য রাস্তায় বা জনপরিসরে এই অধিকার কতটা প্রযোজ্য, তা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের

Reported By Nabanita Sarkar Written By Nabanita Sarkar
Published: Nov 03, 2026, 07:42 PM IST | Updated: Nov 03, 2026, 08:02 PM IST
Image Credit: দিল্লি বিক্ষোভ নিয়ে করা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ক্ষুব্ধ
Join
অর্ণবাংশু নিয়োগী: গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন, আর ওপর থেকে আপনার মুখের প্রতি ইঞ্চি খুঁটিয়ে স্ক্যান করছে আধুনিক ক্যামেরা-- এমন দৃশ্যের সঙ্গে দেশবাসী দিন দিন পরিচিত হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রকাশ্য রাজপথে পা রাখা মানেই কি একজন নাগরিক তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার (Right to Privacy) বিসর্জন দেন? এমনই এক মৌলিক সাংবিধানিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court of India)। প্রতিবাদস্থলে ফেশিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তি (Facial Recognition Technology বা FRT) ব্যবহারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে আদালত খতিয়ে দেখছে-- প্রকাশ্য স্থানে একজনের'যুক্তিসঙ্গত গোপনীয়তার প্রত্যাশা' (Reasonable Expectation of Privacy) ঠিক কতটুকু হতে পারে?
 
কেন এই মামলা শীর্ষ আদালতে?
 
বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সমাবেশ বা নাগরিক প্রতিবাদস্থলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে পুলিশ ও প্রশাসন স্বয়ংক্রিয় ফেস স্ক্যানার বা ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও শনাক্তকরণের কাজ চালিয়েছে। মামলাকারীদের মূল অভিযোগ:
 
স্পষ্ট আইনি কাঠামোর অভাব (Absence of Legal Framework): দেশে নির্দিষ্ট ও শক্তিশালী আইন ছাড়া এই ধরণের সংবেদনশীল ডিজিটাল নজরদারি সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের (Article 21) পরিপন্থী।
 
ভীতি প্রদর্শনের আবহ (Chilling Effect): প্রতিবাদে মুখ দেখালেই চিহ্নিত হওয়ার ভয় থাকলে সাধারণ মানুষ মত প্রকাশের স্বাধীনতা (Freedom of Speech and Expression) প্রয়োগ করতে পিছপা হবেন।
 
ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি (Risk of False Positives): ফেশিয়াল রিকগনিশন অ্যালগরিদম ১০০ শতাংশ নির্ভুল নয়; বিশেষ করে প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে নির্দোষ নাগরিকদের হেনস্থার মুখে পড়ার ঝুঁকি প্রবল।
 
দিল্লি বিক্ষোভ সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় বিরক্ত প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আইনজীবীদের ভর্ৎসনা করলেন 
 
প্রধান বিচারপতি বলেন,  আপনারা একে একে যুক্তি পেশ করতে পারছেন না কেন? আদালতকে কি আপনারা মাছের বাজার বানিয়ে ফেলেছেন? আদালত যখন রায়দান করছে  আপনারা সবাই একসাথে কথা বলছেন।
 
মঙ্গলবার মামলার শুনানি চলাকালীন, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা বলেন, 'এরা তো বন্দী নন। ৫০০-৬০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি সরাসরি  ভিডিয়ো রেকর্ড করছেন, সরকারের বিরোধিতা করছেন। এঁদের বিষয়ে কী বলবেন'? 
 
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, 'গত শুনানির দিন আপনি যা বলেছিলেন আপনার কাছে একটি নির্দিষ্ট তারিখের তথ্য বা ডেটা ছিল। এটি কি রাষ্ট্রের বৈধ স্বার্থের আওতায় পড়ে'?
 
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা উত্তরে বলেন, 'আবেদনকারীদের আইনজীবীরা অহেতুক ঝামেলা পাকাচ্ছেন। যদিও আমি এই শব্দ ব্যবহার করতে চাইনি। এখনকার ওকালতির ধরনই যেন এমন। ডেটাবেস থেকে যদি কারও মুখ শনাক্ত করা হয়, তবে সেই ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। যেমন, তাঁর টাওয়ার লোকেশন কী ছিল, প্রতিবেশীরা কী বলছেন এসব খতিয়ে দেখা হবে। এটি কেবল একটি প্রাথমিক সূত্র বা 'ট্রিগারিং পয়েন্ট' মাত্র'।
 
প্রধান বিচারপতি সূর্য্যকান্ত এক আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'আপনারা একে একে যুক্তি উপস্থাপন করছেন না কেন? আদালতকে কি মাছের বাজার বানিয়ে ফেলেছেন? আপনারা কি জানেন না যে আমি এখন আদালতের নির্দেশ লিখে দিচ্ছি'?
 
আদালতের নির্দেশ,  আবেদনকারীদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই আয়োজকদের এই মামলায় সংযুক্ত করতে হবে।
 
আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি বলেন,  'কোনও বিদেশি নাগরিক এমনকি ওসিআই  কার্ডধারীদেরও এই ধরনের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অধিকার নেই। এটি স্পষ্ট করা জরুরি যে, তাঁদের এই অধিকার নেই'।
 
আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং বলেন, 'মহামান্য আদালতের , এসআইটি  গঠন করার কথা ছিল। আপনারা এমন একটি এসআইটি গঠনের নির্দেশ দিতে পারেন, যা শুধুমাত্র মহিলা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হেনস্থার ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখবে। আমি একটি সিল করা খামে কিছু নাম জমা দিয়েছি। আমি কেবল আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। এরপর আমরা আমাদের অভিযোগগুলো তুলে ধরব'।
 
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর মন্তব্য, 'সেদিন আমরা কোনও নির্দেশ দিইনি, কারণ আমরা বিবাদী পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে চেয়েছিলাম'।
 
সুপ্রিম কোর্টের মূল বিবেচনা
 
২০১৭ সালের ঐতিহাসিক কে. এস. পুত্তস্বামী রায়ে সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির বেঞ্চ রায় দিয়েছিল যে গোপনীয়তা একটি মৌলিক অধিকার (Fundamental Right)। তবে প্রকাশ্য রাস্তায় বা জনপরিসরে এই অধিকার কতটা প্রযোজ্য, তা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের।
 
শীর্ষ আদালত এই মামলায় তিনটি মৌলিক স্তর খতিয়ে দেখছে:
 
১. আইনসম্মত প্রয়োজনীয়তা (Legality): নজরদারির পেছনে কোনও বিধিবদ্ধ আইন আছে কি না।
 
২. বৈধ উদ্দেশ্য (Legitimate Aim): জননিরাপত্তা রক্ষা বনাম নাগরিকদের নজরবন্দি করার অনুপাত ঠিক রাখা।
 
৩. আনুপাতিকতা পরীক্ষা (Proportionality Test): আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য চরম নজরদারি ছাড়া অন্য কোনও কম হস্তক্ষেপকারী উপায় ছিল কি না।
 
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কী বলছে?
 
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইনে (EU AI Act) জনপরিসরে লাইভ বা রিয়েল-টাইম ফেশিয়াল রেকগনিশন ব্যবহারের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশ্বের একাধিক গণতান্ত্রিক দেশে বিক্ষোভের সময় অবাধ বায়োমেট্রিক নজরদারির বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা রয়েছে। ভারতও এখন সেই আইনি ও প্রযুক্তিগত ভারসাম্যের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
Add Zee News as a Preferred Source
TAGS:

About the Author

সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরামর্শদাতাদাতা হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা। আইন-আদালত থেকে বিনোদন, দেশ থেকে দুনিয়ার হরেক খবরে শেখার চেষ্টা অবিরাম...  

ZEENEWS TRENDING STORIES