বাংলা-সহ ১৭ রাজ্যে আবার শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ: কবে শুরু? কী ভাবে নাম তুলবেন? কোন ফর্ম? কী নিয়ম সব জেনে নিন
SIR in Bengal: ১ জানুয়ারি ২০২৭ ভিত্তিবর্ষ ধরে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের। চূড়ান্ত তালিকা ৪ জানুয়ারি। ফর্ম ৭-এ কড়া সীমা, মিথ্যে তথ্যে আইনি পদক্ষেপ।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২০২৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে ভোটার তালিকার মানোন্নয়ন এবং নিখুঁত রূপরেখা তৈরি করতে বিরাট পদক্ষেপ ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI - Election Commission of India)। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকেই যোগ্যতার তারিখ (Qualifying Date) ধরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হতে চলেছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন (SSR - Special Summary Revision)। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (CEO) কাছে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত সময়সূচি ও নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছে কমিশন।
একদিকে যেমন সদ্য ১৮ বছর পূর্ণ করা তরুণ প্রজন্মকে আগাম ভোটার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, তেমনই ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো বা মিথ্যে তথ্যের ভিত্তিতে গণহারে নাম কাটার চক্রান্ত রুখতে ৭ নম্বর ফর্মে (Form 7) নজিরবিহীন রাশ টেনেছে কমিশন।
ভোটার তালিকা সংশোধনের গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি
কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গোটা প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে:
২ নভেম্বর ২০২৬
ভোটকেন্দ্রের পুনর্বিন্যাস (Rationalization of Polling Stations) ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার কাজ শেষ করতে হবে।
১২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা (Draft Electoral Roll)।
১২ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর ২০২৬
খসড়া তালিকার ওপর নাম তোলা, বাদ দেওয়া বা সংশোধনের দাবি ও আপত্তি (Claims and Objections) জানানোর পর্ব চলবে।
২৮ ডিসেম্বর ২০২৬
সমস্ত জমা পড়া আবেদন ও আপত্তির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে হবে।
৪ জানুয়ারি ২০২৭
আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Final Electoral Roll)।
বছরে ৪টি যোগ্যতার তারিখে তরুণদের জন্য বিশেষ সুযোগ
শুধু ১ জানুয়ারি ২০২৭-এ যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে তাঁরাই নন; কমিশনের নয়া নিয়মে পরবর্তী তিনটি ত্রৈমাসিক যোগ্যতার তারিখ-- ১ এপ্রিল, ১ জুলাই এবং ১ অক্টোবর ২০২৭-এ যাঁরা ভোটার হওয়ার বয়সসীমায় পৌঁছবে, তাঁরাও খসড়া তালিকা প্রকাশের পর থেকেই আগাম আবেদন (Advance Application) জমা দিতে পারবেন।
তালিকায় নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ (Form 6), বিদেশে থাকা ভারতীয়দের জন্য ফর্ম ৬এ (Form 6A), নাম বাদ দেওয়ার জন্য ফর্ম ৭ (Form 7) এবং ঠিকানা বদল বা তথ্য সংশোধনের জন্য ফর্ম ৮ (Form 8) পূরণ করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ভোটার সার্ভিস পোর্টাল (Voters' Services Portal) অথবা মোবাইল অ্যাপ 'ECINET'-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতেও সম্পন্ন করা যাবে।
ফর্ম ৭-এ কড়া রাশ
১. সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ: দাবি ও আপত্তির পর্বে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০টি ফর্ম ৭ জমা দিতে পারবেন। সারা বছরের নিয়মিত আপডেটের ক্ষেত্রে মাসে সর্বোচ্চ ৫টির বেশি ফর্ম ৭ নেওয়া হবে না। অনলাইন বা অফলাইন-- উভয় ক্ষেত্রেই এই নিয়ম বাধ্যতামূলক।
২. স্বাক্ষরের সিলমোহর নিষিদ্ধ: আবেদনকারীকে সশরীরে নির্দিষ্ট ফর্মে আসল সই করতে হবে; কোনও সিলমোহর বা স্ট্যাম্প দেওয়া সই গ্রাহ্য হবে না। আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রকৃত ভোটার কি না, তা ইআরও (ERO - Electoral Registration Officer) যাচাই করবেন।
৩. মিথ্যে তথ্যে কঠোর শাস্তি: ইচ্ছাকৃতভাবে কারও নাম কাটানোর জন্য মিথ্যে বা সাজানো অভিযোগ দায়ের করলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৩১ নম্বর ধারা (Section 31 of RPA 1950) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা ও আইনানুগ কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৪. রাজনৈতিক বিএলএ-দের নিয়ম: তবে রাজনৈতিক দলগুলির বুথ লেভেল এজেন্টরা (BLA) বিশেষ নিবিড় সংশোধন চলাকালীন খসড়া প্রকাশের আগে দিনে সর্বোচ্চ ৫০টি এবং খসড়া প্রকাশের পর দিনে সর্বোচ্চ ১০টি ফর্ম জমা দেওয়ার পুরনো সুবিধা পাবেন।
২ কিমির মধ্যে ভোটকেন্দ্র এবং একই বুথে গোটা পরিবারকে দিতে হবে
ভোটদান প্রক্রিয়াকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ করতে একাধিক পরিকাঠামোগত সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন:
ভোটার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ: কোনও ভোটকেন্দ্রে সাধারণভাবে ১২০০-র বেশি ভোটার রাখা যাবে না।
দূরত্ব ও প্রাকৃতিক বাধা: ভোটারদের বাড়ি থেকে ভোটকেন্দ্রের দূরত্ব যাতে কোনওভাবেই ২ কিলোমিটারের বেশি না হয় এবং যাতায়াতের পথে কোনও নদী বা বিপজ্জনক প্রাকৃতিক বাধা না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবার ভাঙা যাবে না: একই বাড়ি, ফ্ল্যাট বা আবাসনের ভোটারদের নাম যেন কোনও অবস্থাতেই আলাদা পার্ট বা পৃথক ভোটকেন্দ্রে না চলে যায়; সবাইকে একই ভোটকেন্দ্রে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
যাচাই ছাড়া নাম বাদ নয়: কোনও বুথে ২ শতাংশের বেশি নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব উঠলে ইআরও-কে নিজে এলাকায় গিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে। একই ব্যক্তি ৫টির বেশি আপত্তি জানালেও বিশেষ স্ক্রুটিনি ও ব্যক্তিগত শুনানির সুযোগ বাধ্যতামূলক।
মহিলা, রূপান্তরকামী, প্রবীণ নাগরিক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ওপর বাড়তি জোর দেওয়ার পাশাপাশি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে পর্যন্ত যুক্ত আধিকারিকদের বদলিতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কমিশন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)