তিহাড়ে বন্দি সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী দিল্লি পুলিস: জামিন তো দূর, অপরাধ মামলা গেল ক্রাইম ব্রাঞ্চে
CJP Leaders Sourav Das and Asutosh Ranka case trasfered to Crime Branch: তিহাড় জেলে বন্দি সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দ্বিতীয় মামলাটিও ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দিল দিল্লি পুলিশ। বিপাকে নেতৃত্ব।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (Chief Election Commissioner - CEC) পদত্যাগের দাবি ও তেরঙা পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজধানীর রাজনীতি। এবার তিহাড় জেলে (Tihar Jail) বন্দি 'ককরোচ জনতা পার্টি'র (Cockroach Janta Party - CJP) দুই সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস (Saurav Das) ও আশুতোষ রাঙ্কার (Ashutosh Ranka) ওপর আইনি ফাঁস আরও জোরালো করল দিল্লি পুলিস। সাধারণ থানা থেকে সরিয়ে সৌরভ ও আশুতোষের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দ্বিতীয় মামলাও দিল্লি পুলিসের বিশেষ ক্রাইম ব্রাঞ্চের (Crime Branch) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে যন্তর মন্তরে প্রবেশ এবং নিরাপত্তা বিধিভঙ্গ সংক্রান্ত দুটি পৃথক এফআইআরের (Two FIRs) তদন্তই এখন পুলিসের স্পেশালাইজড ইউনিটের আওতায় চলে গেল। একদিকে আদালতে জামিনের শুনানি পিছিয়ে বিচারবিভাগীয় হেফাজত বৃদ্ধি, অন্যদিকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তভার গ্রহণ-- গোটা ঘটনায় সিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক চাপ ভয়ংকর মাত্রায় পৌঁছেছে।
ঠিক কী অভিযোগ সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিরুদ্ধে?
দিল্লি পুলিসের দাবি অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিঙ্কা শিন্ডে-সহ সিজেপির মোট ১৪ জন সদস্য যন্তর মন্তরে পৌঁছন।
বেআইনি অনুপ্রবেশ ও ব্যারিকেড টপকে যাওয়া
যন্তর মন্তরকে আগেই ধর্না বা বিক্ষোভের তালিকা থেকে ডিনোটিফাই (Denotified Protest Site) করা হয়েছিল। অভিযোগ, সিজেপি নেতারা ব্যক্তিগত সীমানা এবং তালাবন্ধ গেট টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন।
পিস বন্ড লঙ্ঘন (Breach of Peace Bond)
গত ১০ অক্টোবরই এই নেতারা শান্তি বজায় রাখার লিখিত বন্ড সই করেছিলেন। কিন্তু সেই চুক্তি অমান্য করে ব্যারিকেড ভেঙে তেরঙ্গা ওড়ানোর চেষ্টা এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার দিনই ১৪ জনকে আটক করা হয় এবং দুটি পৃথক এফআইআর রুজু করা হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM) শান্তিভঙ্গের অভিযোগে তাঁদের ৫ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠান। পরে আরও দু'দিন বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
কেন ময়দানে ক্রাইম ব্রাঞ্চ?
পুলিস মহলের একাংশের মতে, যন্তর মন্তরের মতো কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে কেন্দ্রীয় ব্যারিকেড ভেঙে ঢোকা এবং সেখানে পরিকল্পিতভাবে তেরঙা ওড়ানোর পিছনে কোনও বৃহত্তর রাজনৈতিক চক্রান্ত বা আর্থিক মদত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই মামলা দুটি ক্রাইম ব্রাঞ্চকে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় থানার পরিকাঠামো ছাড়িয়ে এই আন্দোলনকারী যুবনেতাদের ব্যাকগ্রাউন্ড, যোগাযোগ এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট খতিয়ে দেখতেই এই সিদ্ধান্ত।
অভিজিৎ দীপকের আবেগী বার্তা
মামলা ক্রাইম ব্রাঞ্চে হস্তান্তরের ঠিক আগেই সিজেপির অন্দরে অন্য আবহ। দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপক (Abhijeet Dipke) সোশ্যাল মিডিয়ায় ১৬ মিনিটের এক ভিডিয়ো বার্তায় সৌরভ ও আশুতোষকে আন্দোলনের 'আসল ডিসিশন-মেকার' (Real Decision-Makers) বলে উল্লেখ করেন।
অভিজিৎ বলেন, সৌরভ এবং আশুতোষ তাঁর ভাইয়ের মতো এবং তিনিই তাঁদের নির্দেশ অনুসরণ করতেন। জুলাই মাসে ধর্মেন্দ্র প্রধানের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে হওয়া আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সিইসি বিরোধী লড়াই-- সবক্ষেত্রেই এঁদের নেতৃত্ব ছিল মুখ্য। তবে অভিজিৎ ঘোষণা করেন, দীপাবলি (Diwali) পর্যন্ত দল কোনও বিক্ষোভ কর্মসূচি রাখবে না। তিনি কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর ও সাময়িক বিরতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
জেল হেফাজত বৃদ্ধি এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের জোড়া তদন্তের মুখে সিজেপির এই যুব আন্দোলন কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)