জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দিল্লির সত্য নিকেতন পিজি ভেঙে পড়ার ঘটনার ঘা এখনও টাটকা। এরই মধ্যে ফের ভেঙে পড়ল এক বহুতল। উত্তর-পূর্ব দিল্লির নিউ সীমাপুরীতে গত বুধবার বিকেলে চারতলা বাড়ি ভেঙে পড়ে। ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে এক শিশু ও চার মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা তরুণী-সহ মোট চার। বৃহস্পতিবার ভোরে ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একটি দেহ উদ্ধার করেছে পুলিস। পুলিস ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। তাদের অনুমান, সেখানে এখনও এক থেকে দু’জন আটকে থাকতে পারেন।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে ভূমিকম্পের মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। পুলিস আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সেই সময় এই চারতলা বাড়িটিতে ফাটল ধরেছিল। ঠিক তার পরের দিনই বাড়িটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। স্থানীয় বাসিন্দারাও সঙ্গে সঙ্গে হাত লাগান। তাঁরা কয়েক জনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২১ বছর বয়সী গুলাফসা নামের এক তরুণী, যিনি প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বাকি দুজনের মধ্যে একজনের বয়স আনুমানিক ১২ বছর এবং অপরজন একটি ছোট শিশু। এদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। ডিসিপি রাজেন্দ্র প্রসাদ মীনা জানিয়েছেন, নিহত দুই শিশুর মধ্যে একজনের দেহ ক্ষতবিক্ষত ও ছিন্নভিন্ন অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে।
উদ্ধারকাজ এখনও পুরোদমে চলছে। দিল্লির পুরনিগম (এমসিডি) জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের প্রায় ৭৫ শতাংশ পরিষ্কার করা হয়ে গিয়েছে। পুরো জায়গাটি খালি করতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ডিসিপি (উত্তর-পূর্ব) আর পি মীনা জানান, বাড়িটি ২২৫ বর্গফুটের ছিল। ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে এখনও কয়েক জনের কথা বলার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সেখানে আরও কেউ জীবিত আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখে সতর্কতার সঙ্গে কাজ চালানো হচ্ছে।
এমসিডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ডুসিব-এর (DUSIB) প্রায় ২৫ বর্গগজের জমিতে গড়ে উঠেছিল বাড়িটি। বস্তি এলাকার এই নির্মাণটি ছিল ‘গ্রাউন্ড প্লাস থ্রি’ অর্থাৎ চারতলা। বাড়িটি প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছরের পুরনো। অত্যন্ত ঘিঞ্জি এলাকায় একটি মসজিদের ঠিক পাশেই এটি দাঁড়িয়ে ছিল। বাড়িটি ভেঙে পড়ার তীব্র অভিঘাতে মসজিদের সীমানা প্রাচীর ভেঙে যায়। ধ্বংসস্তূপের বড় অংশ মসজিদের চত্বরে গিয়ে পড়ে। পাশাপাশি লাগোয়া আরেকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জানা গেছে, সেই পাশের বাড়িতে ভাঙার কাজ (ডেমোলিশন) চলছিল। চারপাশের অন্যান্য বহুতলের কারণে সেখানে জায়গা অত্যন্ত কম ছিল।
বাড়িটি আনোয়ার নামে এক ব্যক্তির। প্রথম তিনটি তলায় তাঁর পরিবার থাকত। পরিবারে ছিলেন তাঁর স্ত্রী সালমা (৫০), ছেলে রেহমান (২৮), ছেলের স্ত্রী সকিনা, দুই মেয়ে নুসরত ও আমিনা এবং নুসরতের তিন বছরের ছেলে আবদান। বাড়ি ভেঙে পড়ার সময় আনোয়ার, আমিনা এবং রেহমানের স্ত্রী বাইরে ছিলেন। তবে নুসরত এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছেন বলে জানা গেছে। আত্মীয়দের সূত্রে জানা যায়, ওপরের তলায় সকিনা (৩৫) নামের এক ভাড়াটিয়াও থাকতেন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাকিদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)