বিছানা তুলতেই টাকার পাহাড়, ড্রয়ার খুলতেই দামি ঘড়ির স্তূপ! আমলা দম্পতির ঘরে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের
Bihar vigilance raid: অভিযানে এক কোটি টাকারও বেশি নগদ, দামি গয়না, ৪৮টি বিলাসবহুল ঘড়ি এবং কোটি টাকার ফ্ল্যাট-জমির নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা হিসাব মেলাচ্ছেন। অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হলেই এই দম্পতির বিরুদ্ধে দায়ের হবে এফআইআর।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আমলা দম্পতির বাড়িতে রাজ্য ভিজিল্যান্স ব্যুরো বড়সড় অভিযান। উদ্ধার এক কোটি টাকারও বেশি ক্যাশ, গয়না, দামি ঘড়ি এবং বিপুল স্থাবর সম্পত্তির নথিপত্র। অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন পটনার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সরবরাহ) রবীন্দ্র কুমার দিবাকর এবং তাঁর স্ত্রী দানাপুরের জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কুমারী সুইটি। তাঁদের পটনা ও বেগুসরাইয়ের ঠিকানায় একযোগে হানা দিয়ে তদন্তকারীরা সব কিছু উদ্ধার করেছে।
ভিজিল্যান্স সূত্রে জানা গিয়েছে, দম্পতির পটনার বাড়ির পাশাপাশি বেগুসরাইয়ের পৈতৃক বাড়িতেও অভিযান চালায়। তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া টাকা গোনার জন্য ঘটনাস্থলে আনা হয় যন্ত্র। ভিজিল্যান্স দফতরের ডিআইজি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে গোটা অভিযানের তদারকি করেন। নগদ টাকা, সোনা-রুপোর গয়না, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের নথি আধিকারিকরা যাচাই করে দেখেছেন।
এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ এক কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে পটনার বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে ৭০ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ৬ লক্ষ টাকা মূল্যের ৪৮টি দামি হাতঘড়ি। অন্যদিকে বেগুসরাইয়ের বাড়ি থেকে ৯ লক্ষ টাকা নগদ এবং সোনা ও রুপোর গয়না বাজেয়াপ্ত হয়েছে। দুটি জায়গা থেকেই উদ্ধার হয়েছে প্রচুর জমি ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি।
প্রাথমিক তদন্তে রবীন্দ্র দিবাকরের নামে বিপুল সম্পত্তির হদিস মিলেছে। নিজের ও স্ত্রীর নামে পটনায় ১ কোটি ৭ লক্ষ টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট কেনেন তিনি। এ ছাড়া স্ত্রী ও বাবার নামে পাটনাতেই আরও তিনটি প্লট কিনেছেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা।
বাজেয়াপ্ত করা সামগ্রী ও নথিপত্র বর্তমানে খতিয়ে দেখছেন ভিজিল্যান্সের কর্তারা। তল্লাশি পুরোপুরি শেষ হওয়ার পরই উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা এবং সোনা-রুপোর সঠিক পরিমাণ ও মোট মূল্য নিশ্চিত করা হবে। এই বিষয়ে দফতরের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষাও রয়েছে। এক আধিকারিক জানান, আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির প্রমাণ পাকাপোক্ত হলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করা হবে। পুরো ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)