জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপনের আরও একটি কারণ জুড়ল। আর এবার আলোচনার কেন্দ্রে পটনা। বিশ্বের অন্যতম স্বীকৃত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের তালিকায় জায়গা করে নিল বিহার মিউজিয়াম! বিশ্বজুড়ে জাদুঘরের মানচিত্রে বিহার আলাদাই জায়গা করে নিল। এই অর্জনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল- বিহার মিউজিয়াম এমন দু'টি বিশ্ববন্দিত জাদুঘরকে ফেলেছে, যেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক ভিড় করেন। এই স্বীকৃতি বিহারের ইতিহাস, শিল্পকলা ও স্থাপত্যের প্রতিও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যা সাধারণ পর্যটন কেন্দ্রগুলির বাইরেও অনেক অজানা গল্পের সন্ধান দেয়। ২০২৬ সালের বিশ্বের সেরা ১০০ জাদুঘরের তালিকায় বিহার মিউজিয়াম ৯ নম্বর স্থান অর্জন করেছে। ট্রাভেল গাইড ওয়ার্থ আ জার্নি প্রকাশিত এই তালিকায় ভারত থেকে স্থান পাওয়া একমাত্র জাদুঘর বিহার মিউজিয়ামই। তালিকায় প্রথম পাঁচে রয়েছে মেক্সিকো সিটির মিউসেও ন্যাসিওনাল দে আন্ত্রোপোলোজিয়া, মাদ্রিদের মিউসেও দেল প্রাডো, ডেনমার্কের হুমলেবেকের লুইজিয়ানা মিউজিয়াম অফ মডার্ন আর্ট , সেন্ট পিটার্সবার্গের স্টেট হারমিটেজ মিউজিয়াম এবং ভিয়েনার কুন্সথিস্টোরিশেস মিউজিয়াম। প্যারিসের লুভর মিউজিয়াম ( ক্রমতালিকায় ৩১) এবং নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটান মিউজিয়াম অফ আর্টকে ( ক্রমতালিকায় ১০) পিছনে ফেলেছে বিহার মিউজিয়াম (ক্রমতালিকায় ৯)। শীর্ষ ১০ জাদুঘরের মধ্যে বিহারই একমাত্র এশীয় জাদুঘর হিসেবে ঠাঁই পেয়েছে। পাটনার বেইলি রোডে অবস্থিত এই জাদুঘরটিতে ঐতিহাসিক নিদর্শন, ভাস্কর্য, মুদ্রা, পাণ্ডুলিপি এবং লোকশিল্পের এক অসাধারণ সংগ্রহ রয়েছে।
বিহার জাদুঘর পরিদর্শনের নির্দেশিকা
২০১৫ সালে এই বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এই জাদুঘরের উদ্বোধন করেছিলেন। মূলত পুরনো পাটনা জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রত্নবস্তুগুলিকে যথাযথভাবে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই এই নির্মাণ। জাপানি স্থপতি ও প্রিৎজকার পুরস্কারজয়ী ফুমিহিকো মাকি, মুম্বাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওপোলিস আর্কিটেক্টসের সহযোগিতায় এই জাদুঘরের নকশা প্রণয়ন করেন। এখানে প্রাচীন ভারত থেকে ১৭৬৪ সাল পর্যন্ত সময়ের বিভিন্ন প্রত্নবস্তু সংরক্ষিত রয়েছে। জাদুঘরের গ্যালারিগুলি মৌর্য যুগ থেকে শুরু করে মুঘল ও সুর বংশ পর্যন্ত বিভিন্ন ঐতিহাসিক পর্যায় অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। এছাড়া এখানে শিশুদের জন্য একটি গ্যালারি রয়েছে, যেখানে প্রাণী, লোকশিল্প, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের নানা বিষয় প্রদর্শিত হয়। জাদুঘরের ডায়াসপোরা গ্যালারি ভৌগোলিক সীমানার বাইরে বিহারের প্রভাব ও উপস্থিতিকে তুলে ধরে। এখানকার সংগ্রহের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো মৌর্য আমলের ‘দিদারগঞ্জ যক্ষিণী’, যা প্রাচীন ভারতীয় ভাস্কর্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। ১৯১৭ সালে পাটনার নিকটবর্তী এলাকা থেকে এটি আবিষ্কৃত হয়। এছাড়া জাদুঘরে কুষাণ আমলের ‘বুদ্ধের জন্ম’ বিষয়ক ভাস্কর্য খোদাই করা একটি আয়তাকার ফলক রয়েছে। এখানে পাল আমলের কুরকিহারের ব্রোঞ্জ বুদ্ধমূর্তি, কুরআনের একটি অলঙ্কৃত পাণ্ডুলিপি এবং সুর বংশের আমলের মুদ্রাও প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে।
প্রধান গ্যালারিগুলি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ভবনের ভিতরে থাকা রেস্তোরাঁ রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে। সোমবার কিন্তু বিহার মিউজিয়াম বন্ধ থাকে। ভারতীয় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণ টিকিটের মূল্য জনপ্রতি ১০০ টাকা। বিদেশি পর্যটকদের জন্য প্রতিটি টিকিটের মূল্য ৫০০ টাকা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)