অর্ণবের হিংস্র থাবা! বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে নদী, ক্রমশ অবনতি ঘটছে বন্যা-পরিস্থিতির
Cyclone Arnab Updates: ওড়িশার আসিকায় বন্যা-পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ঋষিকুল্যা নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। একই সঙ্গে বাড়ছে বড়া নদীর জলস্তর। নদীর জল ঢুকে পড়েছে শহরের একাধিক নীচু এলাকায়। আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওডিশা জুড়ে অর্ণবের জেরে মোট মৃত্যু ৫।
পিয়ালী মিত্র: ওড়িশার আসিকায় বন্যা-পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ঋষিকুল্যা নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। একই সঙ্গে বাড়ছে বড়া নদীর জলস্তর। নদীর জল ঢুকে পড়েছে শহরের একাধিক নীচু এলাকায়। আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওডিশা জুড়ে অর্ণবের জেরে মোট মৃত্যু ৫।
ঋষিকুল্যা নদী
ঋষিকুল্যা নদীর জল ঢুকে পড়েছে হরিহর হাই স্কুল স্কোয়ার, হাটপদা স্কোয়ার এবং লালা গুরুজি স্কোয়ার সংলগ্ন এলাকায়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দোকানের জিনিসপত্র। অন্য দিকে, ধরাকোট ব্লকের দশমাইলি গ্রামে প্রায় ১০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে বন্যার জল বলে খবর। এর জেরে বাড়ির ভিতরে আটকে পড়া বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
আরও পড়ুন: 'অর্ণব'কে ধাক্কা মেরে পূর্বে সরানোর জন্য জম্মু কাশ্মীর-
বন্যাবন্দি
দশমাইলি, সুন্দরপল্লি, পোদাপল্লি, রাপিলি লক্ষ্মীপুর এবং সুনাপল্লি-সহ একাধিক গ্রামের মানুষ বন্যার জেরে আটকে রয়েছেন। লক্ষ্মীপুর ও সুনাপল্লি গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ওডব়্যাফ (ODRAF) বাহিনী। অন্য দিকে, নন্দিনী নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় একাধিক গ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যার জেরে আসিকা-ব্রহ্মপুর এবং আসিকা-সরদা রুটে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ত্রাণ ও সহায়তার কাজও চলছে।
সাইক্লোন 'অর্ণব'
বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্য ও সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছিল। এটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে ধাবিত হয়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোচ্ছিল। এবং অন্ধ্রপ্রদেশই এর ল্যান্ডফল হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস ছিল, গভীর নিম্নচাপটি বিশাখাপত্তনম এবং গোপালপুরের মাঝে কলিঙ্গপত্তনমের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, এটি খুব বড় ঘূর্ণিঝড়ে রূপ না নিলেও গভীর নিম্নচাপ হিসেবেই উপকূলে আঘাত হানতে পারে। শেষ পর্যন্ত এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই ল্যান্ডফল করেছে। এবং এর জেরে ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলিতে অতি ভারী থেকে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা ছিলই। জারি করা হয়েছিল অ্যালার্ট। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ওড়িশার গঞ্জাম, গজপতি, খুরদা-সহ একাধিক জেলায় স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন। সমুদ্র উত্তাল থাকায় পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপরও যথারীতি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। প্রস্তুত রাখা হয়েছিল দুর্যোগ মোকাবিলা দল। নিচু এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিপদ ঘনিয়ে আসার আগেই। সংখ্যাটা কম নয়-- ৩০ হাজার!
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)