দেশের 'সিক্রেট' পাকিস্তানে পাচার? নৌসেনায় 'অপারেশন ফায়ারওয়াল', স্ক্যানারে ১৩ অফিসার-জালে ২
নৌবাহিনীর ১৩ জন কর্মী ও ৫ জন সাধারণ নাগরিক সহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে দেশের গোপন প্রতিরক্ষা তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে। ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’-এর মাধ্যমে ১০টি রাজ্যে তল্লাশি চালিয়ে নৌবাহিনীর এক কর্মী ও এক ঠিকা চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তানি গুপ্তচরবৃত্তির এক বড়সড় চক্রের পর্দাফাঁস করল অন্ধ্রপ্রদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (সিআই) সেল। নৌবাহিনীর ১৩ জন কর্মী এবং ৫ জন সাধারণ নাগরিক-সহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে তোলপাড়। ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ১ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু থেকে নৌবাহিনীর এক কর্মী এবং এক ঠিকা চালককে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা পিআইও-র (PIO) সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে দেশজুড়ে চালানো এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে 'অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬'।
অন্ধ্রপ্রদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেলের কাছে আগে থেকেই এই সংক্রান্ত গোপন খবর ছিল। জানা যায়, বিশাখাপত্তনম এবং দেশের অন্যান্য স্পর্শকাতর প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলোর অত্যন্ত গোপন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। তারপর এনক্রিপ্টেড মাধ্যমের সাহায্যে সেগুলো পাচার করা হচ্ছিল বিদেশে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর বিজয়ওয়াড়ার কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৬১(২), ১৪৭, ১৪৮ ও ৩(৫) ধারা, ইউএপিএ (UAPA)-র ১৭ ও ১৮ ধারা এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ নম্বর ধারায় এই মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যেতে ৫ কোটি টাকা? বিস্ফোরক দাবির জবাব দিলেন কোহলি
তদন্তের অংশ হিসেবে ১ অক্টোবর দেশজুড়ে সমন্বিত তল্লাশি অভিযান চালায় সিআই সেল। অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরলম, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, গুজরাত, গোয়া, দিল্লি, তামিলনাড়ু, ছত্তীসগঢ় এবং বিহার—এই ১০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একযোগে নামানো হয় ১২টি বিশেষ দল। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির এটিএস (ATS), নৌবাহিনীর আধিকারিক এবং স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় ১৮ জন সন্দেহভাজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়। বাজেয়াপ্ত করা হয় একাধিক ইলেকট্রনিক গ্যাজেট। প্রাথমিক তদন্তে সরাসরি প্রমাণ মেলায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি সন্দেহভাজনদের ভূমিকা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেফতার হওয়া দু’জনের মধ্যে প্রথম জন হলেন আন্নাম সাই বরপ্রসাদ। তিনি বিশাখাপত্তনমে নৌবাহিনীর আধিকারিকদের গাড়ির ঠিকা চালক হিসেবে কাজ করতেন। পাক গোয়েন্দাদের কাছে নৌবাহিনীর গোপন নথি পাচার এবং বিনিময়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে বিশাখাপত্তনম থেকেই গ্রেফতার করা হয়। আদালতের নির্দেশে আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে বিশাখাপত্তনম জেলা সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
দ্বিতীয় ধৃতের নাম প্রদীপ মুখোপাধ্যায়। তিনি বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটির কর্মী। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, পাক গোয়েন্দাদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালু করার জন্য নিজের ওটিপি (OTP) দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি পাক চরদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য পাচার করতেন। কোয়েম্বাটুর আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে এনে তাঁকে বিজয়ওয়াড়া আদালতে তোলা হয়। তাঁকেও আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিজয়ওয়াড়া জেলা সংশোধনাগারে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
'অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬'-এর তদন্তে পাক গোয়েন্দাদের কাজ করার এক চাঞ্চল্যকর ছক সামনে এসেছে। জানা গেছে, মহিলা চররা সমাজমাধ্যমে ভুয়ো প্রোফাইল খুলে প্রথমে ভারতীয় প্রতিরক্ষা কর্মীদের সঙ্গে আলাপ জমাত। পরে হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট, অডিয়ো ও ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদ (হানিট্র্যাপ) পাতা হত। বিশ্বাস অর্জন করে নৌবাহিনীর জাহাজ, সাবমেরিনের ছবি, ভিডিও এবং বিভিন্ন সামরিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হত।
টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হত নগদ টাকা এমনকি ক্রিপ্টোকারেন্সিও। ভারতীয় কর্মীদের কাছ থেকে হোয়াটসঅ্যাপের ওটিপি কিনে সেই নম্বরে পাকিস্তানে বসে অ্যাকাউন্ট চালানো হত গোয়েন্দাগিরির কাজে। এই ঘটনার পর কড়া সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। জানানো হয়েছে, অননুমোদিত কোনও ব্যক্তিকে ওটিপি বা প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া গুরুতর অপরাধ এবং আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির যোগ্য।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)