অস্বাভাবিক পতন: শেষ কবে ধনতেরাসের আগে সোনা-রুপোর দাম ৬০০০ টাকা কমেছে? সামনে কি খুব খারাপ দিন আসছে?
Gold and Silver Price Fall: টানা তিন দিন কমল সোনা ও রূপোর দাম। ১০ গ্রাম সোনা নামল ১.৪৬ লাখে, রূপো সস্তা ৫,৫০০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে পতনের কারণ জানুন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ধনতেরাস ও দীপাবলির আগেই ধাতুর বাজারে বিরাট ধস। টানা তিনদিন ধরে দেশের বাজারে পতনের সাক্ষী থাকল হলুদ ধাতু সোনা (Gold) ও চকচকে সাদা ধাতু রুপো (Silver)। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের (US Dollar) শক্তিবৃদ্ধির জেরে বহুমূল্য ধাতুর ওপর চড়া বিক্রিবাটার চাপ (Selling Pressure) তৈরি হয়েছে। ফলে সপ্তাহান্তে দিল্লি-সহ গোটা দেশের বুলিয়ন বাজারে (Bullion Market) সোনা ও রূপোর দামে বড় ধরনের পতন রেকর্ড করা হয়েছে।
অল ইন্ডিয়া সরাফা অ্যাসোসিয়েশনের (All India Sarafa Association) রিপোর্ট অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে কর-সহ ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে এক ধাক্কায় ১,৯০০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১,৪৬,১০০ টাকায় (ট্যাক্স সমেত)। আগের দিন এই দর ছিল প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৮,০০০ টাকা। অন্যদিকে, রুপোর ক্ষেত্রে পতনের মাত্রা আরও মারাত্মক। এক কেজি রূপোর দাম এক দিনে ৫,৫০০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২,০২,০০০ টাকায়।
কেন হু হু করে নামছে সোনা ও রুপোর দর?
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকস্মিক পতনের নেপথ্যে কাজ করছে একাধিক বৈশ্বিক কারণ:
১. উচ্চ মার্কিন বন্ড ইল্ড ও শক্তিশালী ডলার: আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ট্রেজারি ইল্ড (Treasury Yields) চড়া থাকায় সোনা-রুপোর মতো সুদহীন নিরাপদ বিনিয়োগের (Non-yielding Assets) আকর্ষণ কমেছে।
২. ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বৃদ্ধি: পশ্চিম এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি (Inflation) বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময় চড়া রাখতে পারে—এই আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক হচ্ছেন।
৩. টেক শেয়ারের ক্ষতিপূরণ ও মার্জিন কল: বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে (Technology Stocks) হওয়া ব্যাপক লোকসান পূরণ করতে অনেক বড় তহবিল ও হেজ ফান্ড মূল্যবান ধাতু বিক্রি করে নগদ জোগাড় (Liquidity Sell-off) করছে।
জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন স্তরে সোনা, রূপো নামল ১৩%
দেশীয় বাজারে সোনার দাম নেমে এসেছে চলতি বছরের জুলাই মাসের শুরুর দিকের সর্বনিম্ন স্তরে। এইচডিএফসি সিকিউরিটিজের (HDFC Securities) সিনিয়র কমোডিটি অ্যানালিস্ট সৌমিল গান্ধী জানিয়েছেন, দুর্বল আন্তর্জাতিক ইঙ্গিতের কারণেই দেশীয় বাজারে এই পতন। বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে ৪,০০০ ডলারের নিচে নেমে ৩,৯৮৬ ডলারে ঠেকেছিল, যা সাম্প্রতিক চক্রের সর্বনিম্ন।
অন্যদিকে, রুপোর পতন আরও জোরালো। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে রুপোর দাম প্রতি কেজিতে ৩০,০০০ টাকা বা প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। চয়েস ব্রোকিংয়ের অ্যানালিস্ট পিঙ্কি যাদব জানিয়েছেন, রুপো একদিকে যেমন মূল্যবান ধাতু, অন্যদিকে বিভিন্ন আধুনিক শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল (Industrial Commodity)। ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও শিল্প চাহিদার ঘাটতির আশঙ্কায় রুপোর ওপর দ্বিমুখী ধাক্কা লেগেছে।
উৎসবের মুখে সাধারণ ক্রেতাদের করণীয় কী?
দীপাবলি ও ধনতেরাসে গয়না বা কয়েন কেনার পরিকল্পনা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের জন্য এই মূল্যহ্রাস নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডলার ইনডেক্স ও তেলের গতিবিধি যতদিন স্থিতিশীল না হচ্ছে, ততদিন বাজারে অস্থিরতা থাকবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই পতনকে পর্যায়ক্রমে ক্রয়ের সুযোগ (Buying on Dips) হিসেবে দেখছেন অনেকে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)