সোনা-রুপো গড়াগড়ি খাচ্ছে মাটিতে: ধনতেরাসের আগে ২ লক্ষেরও কম সাদা ধাতু? এই দরপতন কি অশুভ ইঙ্গিত? বড় আর্থিক সংকটের পূর্বাভাস?
মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) সোনা ও রুপোর দামে ওঠানামা। কেন থমকাল উর্ধ্বগতি? বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও ফেড রিজার্ভের নীতির প্রভাব নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: উত্থান-পতনের দোলাচলে উত্সবের আগে বড় ধাক্কা খেল মূল্যবান ধাতুর বাজার। রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর এক লহমায় মুখ থুবড়ে পড়ল রুপোর দর। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX - Multi Commodity Exchange) প্রতি কিলোগ্রাম রুপোর দাম নেমে এসেছে ২ লক্ষ টাকার নীচে। অন্য দিকে, গতি হারিয়ে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দামও এখন ১ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকার কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে।
হঠাৎ কী কারণে এই উলটপুরাণ? বিশ্ববাজারের কেন আছড়ে পড়ল ভারতের অলঙ্কার ব্যবসা (Bullion Market)?
এক নজরে আজকের বাজারের ওঠানামা
ঘরোয়া ফিউচার্স মার্কেটে (Futures Market) শেষ কয়েক সেশনে টানা বিক্রির চাপ (selling pressure) লক্ষ করা গিয়েছে।
রুপোর পতন: এমসিএক্স-এ রুপো প্রতি কেজি প্রায় ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৮০০ থেকে ১ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে। অর্থাৎ, এক ধাক্কায় ২ লক্ষ টাকার বহু প্রতিক্ষিত গণ্ডি ভেঙে নীচে নেমেছে সাদা ধাতু।
সোনার অবস্থান: ২৪ ক্যারেট সোনা প্রতি ১০ গ্রামে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৪২ হাজার ৭৫০ থেকে ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩০০ টাকার স্তরে।
কেন হঠাৎ এই পতন? নেপথ্যে তিন মূল কারণ
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকস্মিক মূল্যহ্রাসের পিছনে নির্দিষ্ট কয়েকটি বৈশ্বিক ও অর্থনৈতিক অনুঘটক কাজ করছে:
মুনাফা তোলার হিড়িক (Profit Booking): গত কয়েক সপ্তাহে সোনা ও রুপো উভয়েই অভাবনীয় শিখরে পৌঁছেছিল। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক ও খুচরো লগ্নিকারীদের মধ্যে চড়া দামে মুনাফা তুলে নেওয়ার (profit booking) প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা বাজারে বড় সংশোধন (market correction) ডেকে এনেছে।
আন্তর্জাতিক ডলার সূচকের শক্তি (US Dollar Index & Bond Yields): মার্কিন ডলার সূচক ও ট্রেজারি ইল্ড মাথাচাড়া দিতেই আন্তর্জাতিক বাজারে ধাক্কা খেয়েছে বুলিয়ন। সোনা ও রুপোয় যেহেতু সরাসরি কোনও সুদ (non-yielding asset) মেলে না, তাই ডলার শক্তিশালী হলে লগ্নিকারীরা ধাতব সম্পদ ছেড়ে মুদ্রাবাজারের দিকে ঝোঁকেন।
ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অপরিশোধিত তেল: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দামের ওঠানামা মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। ফলে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার (interest rate) সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কী করণীয়?
বিয়ের মরসুম বা উৎসবের মুখে যাঁদের গয়না কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই দরপতন নিঃসন্দেহে কিছুটা স্বস্তিদায়ক। তবে মনে রাখা দরকার, স্পট মার্কেট বা খুচরো দোকানে সোনার দামের সঙ্গে ৩ শতাংশ জিএসটি (GST) এবং মেকিং চার্জ যুক্ত হয়।
বাজার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ-- যাঁরা দীর্ঘমেয়াদি লগ্নির উদ্দেশ্যে ডিজিটাল গোল্ড, ইটিএফ (Gold ETF) বা ফিজিক্যাল মেটালে বিনিয়োগ করতে চান, তাঁদের জন্য এটি 'বাই অন ডিপস' (Buy on Dips) বা ধাপে ধাপে সঞ্চয়ের সুযোগ হতে পারে। তবে ফিউচার্স ও অপশন ট্রেডারদের এই তীব্র অস্থিরতার (volatility) বাজারে কঠোর স্টপ-লস (Stop-loss) মেনে চলাই শ্রেয়।
আরও পড়ুন: অস্বাভাবিক পতন: শেষ কবে ধনতেরাসের আগে সোনা-রুপোর দাম ৬০০০ টাকা কমেছে? সামনে কি খুব খারাপ দিন আসছে?
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)