সরকারের বিরাট ঘোষণা: পুজোর পর গভর্মেন্ট ও প্রাইভেট সব সংস্থার কর্মীদের ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার নির্দেশ, কেন?
Delhi Govt WFH announcement: শীতের বায়ুদূষনে পরিবেশ এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, বেশিরভাগ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। সঙ্গে আছে অতিরিক্ত গাড়ি চলাচলের দূষণ। উত্তর ভারত জুড়ে বিস্তৃর্ণ অঞ্চল জুড়ে দীপাবলীর আলোয় বাজি পটকার জ্বালানোর পরে অনেক দিন, সেই ধোয়া বাতাসে ভাসে। সামান্য নিঃশ্বাস নেওয়াও সেখানে কষ্টকর হয়ে যায়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শীতকাল আসতে আর বাকি মাত্র এক দু মাস। কিন্তু দেশের বেশিরভাগ মানুষ শীতকাল উপভোগ করলেও, কিছু কিছু অংশের মানুশের কাছে এই শীতকাল কষ্টের, আতঙ্কের এবং যন্ত্রণার। কারণ শীতকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই মারাত্মক রূপ ধারণ করে বায়ুদূষণ। অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেকেই। হাসপাতালে প্রিয়জনের সুস্থতায় দিন গোনে প্রচুর মানুষ। নিউমোনিয়া থেকে ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি, তীব্র কাশি, জ্বর, সর্দি-সহ আরও অন্যান্য রোগ থেকে বাঁচতে-- তাই এই বছর থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দিল্লি সরকার। শীতের শুষ্কবায়ু আর দূষণ প্রতিরোধ পরিকল্পনা বা উইন্টার অ্যাকশন প্ল্যানের অংশ হিসেবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিসে ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ পরিচালনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হল, শীতের ওই নির্দিষ্ট সময়কালে ৫০ শতাংশ কর্মী বাড়ি থেকে কাজ (Work from Home) করবেন এবং বাকি ৫০ শতাংশ কর্মী অফিসে হাজিরা দিয়ে কাজ করবেন। আবার বাড়ি থেকে কাজ করা কর্মীরা কিছুদিন পর অফিসে আসবেন, তখন অফিসে আসা কর্মীরা আবার বাড়ি থেকে কাজ করবেন। এইভাবে উত্তর ভারতের শীতকালীন অফিস-জীবন চলবে।
দিল্লিতে শীতকালে পরিবেশ কেমন থাকে?
প্রতি বছর শীতকালে বায়ুর গুণমান বা AQI বিপজ্জনক স্তরে নেমে যায়। এই পরিস্থিতিতে যানবাহনের ধোঁয়া এবং অতিরিক্ত যানজটের কারণে সৃষ্ট দূষণ কমাতেই এই হাইব্রিড কর্মপদ্ধতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে এই নিয়ম যা আগামী বছর অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত বলবৎ থাকতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
দিল্লির এই নতুন পরিবেশ নীতি ও শীতকালীন কর্মপরিকল্পনার মূল দিকগুলো কী কী?
১. অফিস সময় পরিবর্তন: দূষণ নিয়ন্ত্রণে এবং যাতায়াতের চাপ কমাতে সরকারি দফতরগুলোর সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি (MCD)-র অফিসগুলো সকাল ৮:৩০ টা থেকে বিকেল ৫:০০ টা পর্যন্ত এবং দিল্লি সরকারের (GNCTD) অধীনস্থ অফিসগুলো সকাল ১০:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ টা পর্যন্ত হবে। এই পরিবর্তিত সময় ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
২. বেসরকারি অফিসগুলোর জন্য নির্দেশিকা: শুধু সরকারি দফতরই নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের কর্মীদের অর্ধেক অংশে অনলাইন বা বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৩. পার্কিংয়ের বর্ধিত ফি: ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এবং গণপরিবহন ব্যবহারে নাগরিকদের উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে সরকারি অনুমোদিত পার্কিং স্থানে পার্কিং ফি দ্বিগুণ করা হচ্ছে। ১ নভেম্বর থেকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বর্ধিত শুল্ক কার্যকর থাকবে। তবে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC)-এর মালিকানাধীন বা পরিচালিত পার্কিং লটগুলি এই নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
৪. নির্মাণ কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা: দূষণ ছড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত ধুলো উৎপাদনকারী ও ধ্বংসাত্মক (ডেমোলিশন) নির্মাণ কাজের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বহিরাগত সিভিল নির্মাণ এবং বাড়ি ভাঙার কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এছাড়া, ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারির মধ্যে সমস্ত ধরণের নির্মাণ কাজের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপগুলি দিল্লির বিষাক্ত বাতাস ও ধোঁয়াশা বা স্মগের প্রকোপ কিছুটা হলেও কমাতে সাহায্য করবে। সরকার আশা করছে যে প্রশাসনের এই সবধরনের পদক্ষেপ ও নাগরিকদের সহযোগিতা শীতকালীন দূষণের ভয়াবহতা মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বাঁচবে মানুষ, দীর্ঘ হবে মাবনজীবন। মানুষের জীবন রক্ষার্থে সরকারের এই সদর্থক ভূমিকা কতটা বলবৎ হয়, তা সময়ই বলবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)