রাগী ট্রাম্পের খাঁড়া পড়ছে ভারতেরই উপর: TCS, Infosys, Wipro এবার আমেরিকার কালো তালিকায়, ভয়ঙ্কর
US suspends Infosys TCS Wipro Green Card: টিসিএস, ইনফোসিস ও উইপ্রোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা সর্বদা মার্কিন অভিবাসন ও শ্রম আইন কঠোরভাবে মেনে চলে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি (IT) শিল্পে বড় আঘাত। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS), ইনফোসিস (Infosys), উইপ্রো (Wipro)-সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় আইটি সংস্থাকে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী নাগরিকত্ব বা গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। অর্থাৎ যে সব ভারতীয় অনেকদিন ধরে আমেরিকায় রয়েছেন এবং ভাবছেন যে সেখানেই পাকাপাকিভাবে থেকে যাবেন, তাদের স্বপ্ন ভেঙে ছারখার। আমেরিকার শ্রম দপ্তর (US Department of Labor) ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের যৌথ নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপে কোনও ভারতীয় কোম্পানীর কর্মীকে গ্রিন কার্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীর স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। একই সঙ্গে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলির ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঠিক কী কারণে এই কঠোর পদক্ষেপ?
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ভারতীয় ও বহুজাতিক আইটি সংস্থাগুলি তাদের বিদেশি কর্মীদের জন্য গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ ও পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন (PERM) প্রক্রিয়ার নিয়মে অনিয়ম করেছে।
মূল অভিযোগগুলো কী কী:
স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার না দেওয়া: মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী, কোনো সংস্থাকে বিদেশি কর্মীর জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করার আগে প্রমাণ করতে হয় যে, সেই কাজের জন্য উপযুক্ত কোনো আমেরিকান নাগরিক পাওয়া যায়নি। অভিযোগ, এই কোম্পানিগুলি স্থানীয় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখেনি।
বেতন বৈষম্য (Wage Disparity): আমেরিকান কর্মীদের তুলনায় কম বেতনে বিদেশি বা ভারতীয় কর্মীদের ধরে রাখতে গ্রিন কার্ড আবেদনকে ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ: সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নিয়ম ও শর্তাবলি লঙ্ঘন করায় এই সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নতুন কোনো গ্রিন কার্ড সার্টিফিকেশন জমা দেওয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ভারতীয় আইটি কর্মীদের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার ও আইটি বিশেষজ্ঞদের জন্য এটি একটি চরম ধাক্কা:
১. স্থায়ী বসবাসের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ: যেসব কর্মী ইতিমধ্যে এইচ-১বি (H-1B) ভিসায় আমেরিকায় রয়েছেন এবং নিজেদের সংস্থার মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় (I-140 পর্যায়) ছিলেন, তাঁদের আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে যেতে পারে।
২. ভিসা নবায়নে সংকট: গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া আটকে গেলে এইচ-১বি ভিসার ৬ বছরের মেয়াদের পর সে দেশে থাকা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
৩. চাকরি বদলের অনিশ্চয়তা: স্পনসরশিপ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় কর্মীরা সহজে পদোন্নতি বা সংস্থা বদলের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত নিয়মের ফাঁদে পড়বেন।
আইটি সংস্থাগুলির প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ
টিসিএস, ইনফোসিস ও উইপ্রোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা সর্বদা মার্কিন অভিবাসন ও শ্রম আইন কঠোরভাবে মেনে চলে। এই স্থগিতাদেশ পর্যালোচনার জন্য তারা মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে এবং দ্রুত এই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় কর্মসংস্থান রক্ষা ও অভিবাসন কঠোর করার নীতিই এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এই পদক্ষেপের কারণে আগামী দিনে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য অন-সাইট কর্মী নিয়োগের খরচ যেমন বাড়বে, তেমনই ভারতীয় মেধা পাচারের গতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের টেক মহল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)