হেরেই খেপে লাল ট্রাম্প, এবার পরমাণু যুদ্ধ: ম্যাপ থেকে মুছে গেল ইরান, বন্ধ হরমুজ প্রণালী? ভয়াল চিত্র
US attack Iran: কাতারের মধ্যস্থতায় আমেরিকাকে নতুন পরমাণু প্রস্তাব পাঠাল ইরান। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার থেকে হরমুজ প্রণালী।তেহরানের ৭টি প্রধান শর্ত এবং চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পূর্ণ বিশ্লেষণ।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনা। ওয়াশিংটনের কোর্টে বল ঠেলে দিল তেহরান। কাতারের (Qatar) মধ্যস্থতায় আমেরিকার কাছে একটি নতুন পরমাণু প্রস্তাব (Nuclear Proposal) পাঠিয়েছে ইরান। তবে নিছক আলোচনার টেবিলে বসা নয়, স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে-- আমেরিকাকে আগে মেনে নিতে হবে কঠিন ৭টি শর্ত (7 Conditions)। সেই শর্ত পূরণ না হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খোলা হবে না এবং কোনও আনুষ্ঠানিক বৈঠকও সম্ভব নয়।
নেপথ্যে কী কারণ? কেন এই ৭ শর্ত?
ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা আধিকারিক মহসিন রেজাই (Mohsen Rezaei) সাফ জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক সমঝোতার জন্য ওয়াশিংটনকে আগে সদিচ্ছা প্রমাণ করতে হবে।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, তেহরানের দেওয়া ৭টি প্রধান শর্তের কেন্দ্রে রয়েছে:
- নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার (Lifting Sanctions): আমেরিকার চাপানো সমস্ত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে।
- আটকে থাকা অর্থ মুক্তি (Releasing Frozen Assets): আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সমুদয় সম্পদ ছাড়তে হবে।
- যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ (War Reparations): বিগত সংঘাতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে আমেরিকাকে।
- নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার (Naval Blockade Relief): ইরানি সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর নজরদারি ও অবরোধ সরাতে হবে।
- শত্রুতা বন্ধ (Halting Hostilities): লেবানন ও আঞ্চলিক অন্যান্য ফ্রন্টে সামরিক সংঘাত ও আক্রমণ অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে।
- মার্কিন সেনা প্রত্যাহার (Reducing US Military Presence): মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত অঞ্চলগুলো থেকে মার্কিন সামরিক পরিকাঠামো ও উপস্থিতি হ্রাস করতে হবে।
- সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তা গ্যারান্টি (Security Guarantees): ভবিষ্যতে আর সামরিক হামলা হবে না--এমন সুনির্দিষ্ট ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিশ্চয়তা দিতে হবে।
হরমুজ প্রণালী ও বৈশ্বিক জ্বালানি চাপ
ইরান এই প্রস্তাবে নিজের সবচেয়ে বড় দর কষাকষির তাসটি (Bargaining Chip) সামনে এনেছে-- হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের সমুদ্রবাহিত অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) একটি বিশাল অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে যায়। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের শর্ত না মানা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ রুট সাধারণ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে না।
ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া ও ট্রাম্পের কড়া সুর
হোয়াইট হাউস (White House) জানিয়েছে, তারা কাতারের পাঠানো নথিপত্র পর্যালোচনা করছে। তবে আমেরিকার অবস্থান পরিষ্কার-- যেকোনও আলোচনার প্রথম বৈঠকেই ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি (Uranium Enrichment) সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সামরিক অভিযানের হুমকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। তিনি মন্তব্য করেছেন, আমেরিকা সামরিক দিক থেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং ইরানকে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
সংঘাত থামবে নাকি উত্তাপ বাড়বে?
কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার জন্য দৌড়ঝাঁপ বাড়ালেও সংকট সমাধানের পথ এখনও যথেষ্ট পিচ্ছিল। আমেরিকা চাইছে আলোচনার আগেই পরমাণু কার্যকলাপে লাগাম, আর ইরান চাইছে আলোচনার টেবিলে আসার আগেই অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বস্তি। এই দুই বিপরীত অবস্থানের সংঘাত কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্য কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছবে, নাকি হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হবে-- তা নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)