জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মক্কায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছে দুই বাংলাদেশি। আর তার পরই সোজা হয়ে বসেছে গোটা দেশ। সৌদি আরবের কড়া আইনে কী কী বলা রয়েছে? কোনও নিয়ম বা আইন ভাঙলে কী শাস্তি হয়? সৌদি আরবে ইসলামি শরিয়ত ও বিধান অত্যন্ত কঠোরভাবে পালন করা হয়। পর্যটক, প্রবাসী বা যেকোনও নাগরিককেই সৌদি আরবের এই কড়া নিয়মকানুন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে। কোন কোন কাজ সৌদি আরবে নিষিদ্ধ? আইন ভাঙলে জরিমানা কত? কী কী শাস্তি?
জেল-জরিমানা-বহিষ্কার- মৃত্যুদণ্ড
সৌদি আরবে কাজ করতে যাওয়া ভিন দেশের কর্মী, পর্যটক কিংবা তীর্থ (হজ, ওমরাহ) করতে যাওয়া মানুষের জন্য সে দেশের আইন ও নিয়মকানুন জেনে রাখা খুবই জরুরি। মাদক বহন থেকে শুরু করে প্রকাশ্য আচরণ, অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা ইত্যাদি বিভিন্ন অপরাধে সেখানে জেল-জরিমানা, এমনকী (বিদেশিদের ক্ষেত্রে) দেশ থেকে বহিষ্কারের মতো শাস্তিও মিলতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এমনকি মৃত্যুদণ্ডের নিয়মও রয়েছে!
ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা
সৌদি আরবে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনও ধর্মের উপাসনালয় নির্মাণ, ধর্মপ্রচার বা প্রকাশ্যে সেই ধর্মীয় আচার পালন করা নিষিদ্ধ। সৌদির পবিত্র স্থানে অমুসলিমদের প্রবেশেও আছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। মক্কার সম্পূর্ণ এলাকা এবং মদিনা শরিফের নির্দিষ্ট সীমানায় অ-মুসলিমদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সৌদির পবিত্র স্থানে এবং অন্য়ান্য সাধারণ জায়গাতেও ইসলামি-নৈতিকতার পরিপন্থী কোনও আচরণ করা যায় না। এর জেরে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত সাজা হতে পারে।
মদ ও মাদক
সৌদি আরবে মদ আমদানি, মদ নিজের কাছে রাখা, মদ্য পান, মদ তৈরি করা বা তা বিক্রি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। মদ্যপ অবস্থায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা বা বিশৃঙ্খল আচরণও নিষিদ্ধ। শাস্তি হিসাবে জরিমানা, কারাদণ্ড এবং বিদেশিদের ক্ষেত্রে বহিষ্কার পর্যন্ত করা হতে পারে। শুধু মদ নয়, গাঁজা কোকেন এবং অন্যান্য মাদক কাছে রাখা, তা সেবন করা, বিক্রি করা বা পাচার করাও গুরুতর অপরাধ আরবে। মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
আচরণ
প্রকাশ্যে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ, অশালীন অঙ্গভঙ্গি, গালিগালাজ করা বা কাউকে ভয় দেখানো সৌদি আরবে নিষিদ্ধ। কারও সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শনও সমস্যার কারণ হতে পারে এদেশে। আচরণের ধরন অনুযায়ী জরিমানা, কারাদণ্ড বা বহিষ্কার বিধি। সৌদি আইনে বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক ও পরকীয়া অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। পর্যটকদের ক্ষেত্রে অবিবাহিত যুগল একই হোটেল রুমে থাকতে পারেন-- এমন বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।
পোশাকবিধি
সৌদি আরব রক্ষণশীল দেশ। সেখানে জনসমক্ষে শালীন পোশাক পরাটা অত্যন্ত জরুরি। খুব আঁটসাঁট পোশাক পরা ওদেশে চলে না। অশ্লীল ছবি বা স্লোগান-লেখা পোশাকও এড়িয়ে চলাই ভালো।
মহিলা পর্যটকদের সব ক্ষেত্রে মাথা ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক নয়; তবে স্থানীয় পোশাকবিধি তাঁদের মানতেই হয়। পোশাকবিধি লঙ্ঘনে প্রথমবার ১০০ রিয়াল এবং একই অপরাধে পরের বার ২০০ রিয়াল জরিমানা।
অনুমতি ছাড়া ছবি নয়
সৌদি আরবে কোনও সরকারি ভবন, তাদের সামরিক ঘাঁটি, প্রাসাদ, নিরাপত্তা বাহিনীর ছবি তোলা নিষিদ্ধ। এছাড়া সৌদি আরবে অন্যের ছবি বা ভিডিয়ো তোলার আগেও তাঁর অনুমতি নেওয়া উচিত। বিনা অনুমতিতে ছবি তোলা সেদেশে অপরাধ হিসেবে গণ্য। ধরা পড়লে শাস্তি হিসেবে জরিমানা, আটক বা কারাদণ্ড হতে পারে।
সোশ্যাল পোস্ট
রাজপরিবার, সরকার, ধর্ম বা জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে এমন মন্তব্য করা উচিত নয়, যা কর্তৃপক্ষ জনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তার জন্য বিপদপূর্ণ বলে বিবেচনা করতে পারে। এ জাতীয় গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দীর্ঘ কারাদণ্ড-সহ অন্যান্য শাস্তি হতে পারে।
সবচেয়ে কঠোর শাস্তি
মাদক পাচার, হত্যা, ধর্ষণ, গুরুতর অপরাধ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধে অত্যন্ত কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। কিছু অপরাধে মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।
পণ্যে 'না'
সৌদিতে প্রবেশের সময় কিছু জিনিস নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। কী কী সেগুলি? এগুলি হল: শূকরের মাংস ও এর তৈরি কোনও জিনিস, নিষিদ্ধ ছবি বা ভিডিয়ো, বেআইনি অস্ত্র ও গোলাবারুদ, নিষিদ্ধ মাদক, বিশেষ কিছু ওষুধ, নজরদারির সরঞ্জাম ও ড্রোন। ধরা পড়লে এসব জিনিস বাজেয়াপ্ত করা, আটক করা এবং এসব জিনিস বহনের অপরাধে জরিমানা বা (অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী) কারাদণ্ডও হতে পারে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)