জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপ অঞ্চল কেঁপে গেল এক জোরাল ভূমিকম্পে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে যে, রিখটার স্কেলে ৬.৯ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গভীরে। রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের ভিলিউচিনস্ক শহরের প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল বলেই জানাচ্ছে ইএমএসসি। রাশিয়ার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে এই ৬.৯ মাত্রার ভূকম্পন রেকর্ড হয়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই কোনও সুনামি সতর্কতা জারি হয়নি। আমেরিকার ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে যে, এই কম্পনের ফলে কোনও বিপদের আশঙ্কা নেই। ভূমিকম্পের কারণে কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সেই সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
এর মাঝে জাপানের বিরাট ভুল
এর মাঝে জাপান এক বিরাট ভুল করে বসেছে! জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছিল যে, ৯.৯ ম্যাগনিটিউডের ভূমিকম্প হয়েছে। উত্তর, পূর্ব ও মধ্য জাপান জুড়ে তীব্র কম্পনের পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জেএমএ-র প্রাথমিক স্বয়ংক্রিয় ডেটার ভুলের কারণেই ৯.৯ মাত্রার এই জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সতর্কতাটি প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনাচক্রে ১৯৬০ সালে চিলির ভালদিভিয়া ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল মাত্রা ছিল ৯.৫। 'দ্য গ্রেট চিলিয়ান আর্থকোয়েক' আজও তীব্রতার দিক থেকে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট বিধ্বংসী সুনামি দক্ষিণ চিলি ছাড়াও হাওয়াই, জাপান, ফিলিপাইন ও নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত আঘাত করেছিল। বিশ্বজুড়ে মোট প্রায় ১৬৫৫ থেকে ২০০০+ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল! জেএমএ-র রিপোর্ট রাতারাতি ইতিহাস বদলে দিয়েছিল, সংশোধন করার আগেই বিরাট আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।
'রিং অফ ফায়ার'
কামচাটকা উপদ্বীপ 'রিং অফ ফায়ার' নামের এক টেকটোনিক বলয়ের ওপর অবস্থিত। যা প্রশান্ত মহাসাগরের বেশিরভাগ অংশকে ঘিরে রেখেছে এবং এটি ভূমিকম্পপ্রবণ এক এলাকা। গত বছরের জুলাই মাসে এই অঞ্চলের উপকূলে ৮.৮ মাত্রার একটি বিশাল ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে সৃষ্ট সুনামিতে একটি উপকূলীয় গ্রামের কিছু অংশ সমুদ্রে তলিয়ে যায়। 'রিং অফ ফায়ার' অঞ্চলের মাটির নীচে থাকা বিশাল টেকটোনিক প্লেটগুলি (যেমন: প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট ও উত্তর আমেরিকান প্লেট) অনবরত একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং একটি প্লেট অপরটির নীচে চলে যায়। এর ফলে সেখানে প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি হয় এবং তা হঠাৎ মুক্ত হয়ে তা শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটায়। রাশিয়ার নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল কিন্তু অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। বিশেষ করে কামচাটকা উপদ্বীপ এবং কুরিল দ্বীপপুঞ্জ পৃথিবীর অন্যতম প্রধান ভূকম্পনপ্রবণ এলাকা হিসেবেই পরিচিত
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)