ভোটে 'হেরে গেলেও' কোন মন্ত্রে ক্ষমতায় থেকে যাবেন নেতানিয়াহু?
Israel Elections 2026: ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর জোট ৫২ আসন পাচ্ছে বলে বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের প্রধান বাধা দূর করতে তিনি নিশ্চিত ভাবেই বিরোধী শিবিরের কোনো একটি দলকে নিজের দিকে টানার চেষ্টা করবেন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইসরায়েল ভোট থেকে দুটি অদ্ভুত ও বিপরীতমুখী বিষয় সামনে এসেছে। ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এ নির্বাচন থেকে দুটি অদ্ভুত ও বিপরীতমুখী বিষয় সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন: ভোটে নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী কে এই
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা
বিষয় দুটির প্রথমটি হল, নির্বাচনে কোনো পক্ষই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বেশির ভাগ ভোটার নেতানিয়াহুর জোটকে ভোট না দেওয়ার পরও সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হয়ে আপাতত তিনিই ইসরায়েলের ক্ষমতায় থাকছেন। দ্বিতীয় বিষয়টি হল, আরব ইসরায়েলিদের অভাবনীয় সাফল্য। নির্বাচনী প্রচারে যাঁদের কণ্ঠ ও উদ্বেগের বিষয়টি প্রায় উপেক্ষিত ছিল, তাঁরাই এখন সরকার গঠনের মূল চালিকা শক্তি বা 'কিংমেকার' হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। অথচ ইসরায়েলের মূল ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলি দীর্ঘদিন ধরে আরবদের ক্ষমতার অংশীদার হিসেবে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।
আরও পড়ুন: ভোটে হারছেন ইসরায়েলের 'বিবি'? ভারতের সঙ্গে
নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কী
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর জোট ৫২ আসন পাচ্ছে বলে বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের প্রধান বাধা দূর করতে তিনি নিশ্চিতভাবেই বিরোধী শিবিরের কোনো একটি দলকে নিজের দিকে টানার চেষ্টা করবেন। এ শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেসের (আইডিএফ) সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকট।
'টুগেদার' এবং
এ মুহূর্তে নেতানিয়াহুর লক্ষ্য, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল। বেনেটের দল 'টুগেদার'এবার ১২-১৩টি আসন পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এটি হলে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৬২ বা ৬৩, যা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তব চিত্র হল, নাফতালি বেনেটের পার্টি নেতানিয়াহুর জোটের অংশ নয়। তারা কট্টর নেতানিয়াহুবিরোধী বা বিরোধী শিবিরের অন্যতম প্রধান অংশীদার।
নেতানিয়াহুবিরোধী জোট
অন্য দিকে, নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের নেতারা পুরো নির্বাচনী প্রচারে বারবার বলেছেন যে, তাঁরা আরব দলগুলির সঙ্গে কোনো জোট করবেন না। যদিও আরব দলগুলির নেতৃত্ব এ জোটকে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। বিশেষ করে নাফতালি বেনেট শুরু থেকেই আরব দলগুলির সঙ্গে কাজ না করার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অনমনীয় ছিলেন। নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের আরেক শীর্ষ নেতা অ্যাভিগদর লিবারম্যানও যেকোনো ধরনের সংখ্যালঘু সরকারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। এমন রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে নেতানিয়াহুর নিজের দলের কিছু প্রবীণ রাজনীতিকও তাঁর জোট শরিকদের প্রতি ভিন্ন আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা নেতানিয়াহুকে ছেড়ে আইজেনকটের জোটে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
প্রকৃত গল্প
এই যদি পরিস্থিতি হয়, তা হলে কোন মন্ত্রে নেতানিয়াহুই ক্ষমতায় থেকে যাবেন? না, ব্যাপারটা তা নয়। সরকার গঠন সংক্রান্ত এইসব রাজনৈতিক সমীকরণ ও দরকষাকষি যত চলতে থাকবে, ততই নেতানিয়াহুর পক্ষে মঙ্গল। কেননা, এসব ক্ষেত্রে একটু সময় লাগেই-- তা, কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর্যব্ত হতে পারে! যতদিন না কোনও সমীকরণ বেরিয়ে আসে তত দিন নেতানিয়াহুই প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থেকে যাবেন। কোনো সরকার গঠন করা না গেলে ফের ভোট হবে। আর নতুন নির্বাচন ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত তিনিই দায়িত্বে থাকছেন।
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
১৯৯০-এর দশকে প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পরে ২০০৯ সাল থেকে টানা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ৭৭ বছর বয়সি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সমর্থকদের কাছে তিনি 'কিং বিবি' নামে পরিচিত। তাঁরা বিশ্বাস করেন, নেতানিয়াহু-ই ইসরায়েলকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন। তবে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা ও দেশে চলতি দুর্নীতি মামলার কারণে ইদানীং তিনি নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছেন বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। ইদানীং তাঁর জনপ্রিয়তাও অনেকটা কমেছে বলেই মত কারও-কারও।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)