জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, এ বারের ভোটে ইজরায়েলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস-হামলা। ওই দিন প্যালেস্টাইনের গাজা উপত্যকা থেকে ইহুদি ভূমিতে ঢুকে গণহত্যা চালিয়েছিল ইরানের মদতপুষ্ট সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী। এতে প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ১২০০ জন। ঘটনার পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেন নেতানিয়াহু।
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
১৯৯০-এর দশকে প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পরে ২০০৯ সাল থেকে টানা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ৭৭ বছর বয়সি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সমর্থকদের কাছে তিনি 'কিং বিবি' নামে পরিচিত। তাঁরা বিশ্বাস করেন, নেতানিয়াহু-ই ইসরায়েলকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন। তবে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা ও দেশে চলতি দুর্নীতি মামলার কারণে ইদানীং তিনি নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছেন বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। ইদানীং তাঁর জনপ্রিয়তাও অনেকটা কমেছে বলেই মত কারও-কারও।
৪১ শতাংশ বনাম ৪৯ শতাংশ
ইজরায়েলের সংসদীয় ব্যবস্থার নির্বাচন পদ্ধতি ভারতের মতো নয়। সেখানে প্রার্থী নন, দলকে ভোট দিতে হয়। এ হল আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব। প্রার্থীর বদলে পছন্দমাফিক দলকে ভোট দিয়ে থাকেন সেখানকার আমভোটার। ইজরায়েলের পার্লামেন্টর মোট আসন সংখ্যা ১২০, ফলে ৬১ হল সরকার গঠনের ম্যাজিক নাম্বার। ইজরায়েলের নিউজ চ্যানেলগুলির দাবি, এ বারের ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না কোনও দল। ৪৮ থেকে ৫০টি আসন পেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফের 'বিবি'কে চাইছেন ৪১ শতাংশ ইহুদি। অন্য দিকে, ৪৯ শতাংশ ঝুঁকে আছেন আইজনকোটের দিকে।
নেতানিয়াহু-আইজেনকোট
নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন, ২০১৫-১৯ সাল পর্যন্ত ইহুদি রাষ্ট্রটির স্থলবাহিনী ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ-এর প্রধান ছিলেন আইজেনকোট। ২০২৩ সালে গাজার লড়াইয়ে ছেলে ও দুই ভাগ্নেকে হারান তিনি। সংযত ব্যক্তিত্ব ও শীর্ষ সেনা অফিসার পরিচয়ের জেরে নেতানিয়াহুর প্রতি মোহভঙ্গ হওয়া ভোটারদের সঙ্গে ক্রমাগত ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে তাঁর। প্যালেস্টাইনের চরম বিরোধী হিসেবেও ইজরায়েলে তাঁর জনপ্রিয়তা দারুণ। হামাসের সামরিক সক্ষমতাও ভাঙতে চান সাবেক আইডিএফ প্রধান। কোনও অবস্থাতেই ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেবেন না তিনি। আইজেনকোটের নির্বাচনী প্রচারে ইতিমধ্যেই মিলেছে সেই ইঙ্গিত। ইজরায়েলের সামরিক নিরাপত্তা নীতি পরিত্যাগের কোনও প্রতিশ্রুতি দেননি তিনি।
নেতানিয়াহু-আইজেনকোট মতপার্থক্য
সামরিকপ্রশ্নে একটি বিষয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে আইজেনকোটের। মার্কিন সাহায্য নিয়ে ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে চান নেতানিয়াহু। কিন্তু প্রাক্তন আইডিএফ প্রধান গোটা অভিযানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখার পক্ষপাতী।
ভারত-ইসরায়েল
বিশ্লেষকদের দাবি, নেতানিয়াহু বা আইজেনকোট, ইজরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী যেই হোন না কেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনও হাওয়াবদল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। কারণ, গত কয়েক বছরে সামরিক প্রশ্নে আরও কাছাকাছি এসেছে নয়াদিল্লি ও তেল আভিভ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)