ছেঁড়া জামা, যৌনাঙ্গ দিয়ে দরদর করে রক্ত গড়াচ্ছে: হোটেলের ঘরে মিস সুইজারল্যান্ডকে নারকীয় ধর্ষণ ট্রাম্পের, আমেরিকার ভোটের আগে তোলপাড়
Donald Trump: ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সালে নারকীয় ধর্ষণ ও শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন মিস সুইজারল্যান্ড বিট্রিস কিউল। ডেমোক্র্যাটদের রিপোর্টে প্রকাশ্যে আসা বয়ান ঘিরে মার্কিন রাজনীতিতে তোলপাড়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আমেরিকার ভোটের আগে রাজনৈতিক ঝড়। বিতর্কের কেন্দ্রে আবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মার্কিন প্রতিনিধি সভার জুডিশিয়ারি কমিটির (House Judiciary Committee) ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২৭ বছর আগের এক চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারিণী ১৯৯০-এর দশকের প্রাক্তন মডেল ও মিস সুইজারল্যান্ড (Former Miss Switzerland) বিট্রিস কিউল (Beatrice Keul)। তাঁর দাবি, ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্কের এক বিলাসবহুল হোটেলে ট্রাম্প তাঁকে নারকীয়ভাবে ধর্ষণ করেছিলেন।
আমেরিকার কুখ্যাত আর্থিক কেলেঙ্কারি ও যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইন (Jeffrey Epstein)-এর সঙ্গে ট্রাম্পের অতীত সম্পর্ক নিয়েও এর আগে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। রিপোর্টে কিউলের এই বয়ান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল ১৯৯৩ সালে?
রিপোর্টে উল্লিখিত বয়ান অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালের নভেম্বর মাসে মাত্র ২৪ বছর বয়সে ‘আমেরিকান ড্রিম পেজেন্ট’ (American Dream Pageant)-এ অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন বিট্রিস কিউল। সেই সুন্দরী প্রতিযোগিতাটির অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিযোগিতাটি আয়োজিত হয়েছিল নিউইয়র্কের বিখ্যাত প্লাজা হোটেলে (Plaza Hotel), সেই সময় ট্রাম্প ছিলেন সেই হোটেলের মালিক।
কিউলের অভিযোগ
হোটেলে নির্যাতন: ট্রাম্পের এক প্রতিনিধির ডাকে তিনি হোটেলের একটি প্রাইভেট স্যুটে পৌঁছনোর পরই তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন ট্রাম্প। কিউল এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত হিংস্র ও নারকীয় ধর্ষণ’ (Brutal Rape) বলে বর্ণনা করেছেন।
পোশাক ছেঁড়া ও রক্তাক্ত অবস্থা: ঘটনার সময় তাঁর পরনের পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তিনি গুরুতর শারীরিক আঘাত পান ও রক্তক্ষরণ হতে থাকে।
টোপ ও চুপ থাকার নির্দেশ: নির্যাতনের পর ট্রাম্প তাঁকে বিছানার কোণে বসিয়ে মার্কিন ভিসা পাইয়ে দেওয়া এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে (NYU) ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিউলের দাবি, ট্রাম্প তাঁকে বলেছিলেন-- 'দ্য শো মাস্ট গো অন' (The show must go on) এবং ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য চাপ দেন।
পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া ও ভয় দেখানো : কিউল জানিয়েছেন, আসার পরই আয়োজকরা তাঁর পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নিয়েছিল। ফলে পাসপোর্ট ফেরতের দাবি জানালে ট্রাম্পের রোষানলে পড়তে পারেন, সেই চরম আতঙ্ক ও ট্রমার মধ্যে প্রতিযোগিতা শেষ করে সুইজারল্যান্ডে ফিরে যান তিনি।
জেফ্রি এপস্টাইন বিতর্ক: এই অভিযোগ মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের পেশ করা ৫৩ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে। জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে ট্রাম্পের অতীত সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিকটি বিশদে তুলে ধরা হয়েছে।
কিউলের দাবি, সুন্দরী প্রতিযোগিতার সময়েই এপস্টাইন এসে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে নিজের পরিচয় দেন এবং ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-আ-লাগো (Mar-a-Lago) এস্টেটে একটি পার্টিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ফেডারেল হেফাজতে থাকা অবস্থায় যৌন অপরাধী এপস্টাইনের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছিল।
ট্রাম্প শিবির ও হোয়াইট হাউসের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের রাজনৈতিক মুখপাত্র এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অসত্য এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে আখ্যা দিয়েছে।ট্রাম্প শিবিরের বক্তব্য-- এই অভিযোগ, আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (US Midterm Elections) আগে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার একটি ‘হতাশাজনক রাজনৈতিক চক্রান্ত’। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে, এপস্টাইনের অপরাধমূলক কার্যকলাপ প্রকাশ্যে আসার অনেক আগেই তিনি তাঁর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।
কিউলের এই বয়ানের প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের হয়নি।
এই বিতর্কের রাজনৈতিক তাৎপর্য
অতীতে ই. জিন ক্যারল (E. Jean Carroll)-সহ একাধিক মহিলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ এনেছেন, যার মধ্যে কয়েকটি মামলায় ট্রাম্পকে আইনি ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে। তবে মার্কিন নির্বাচনের মুখে এই তদন্ত রিপোর্টে প্রাক্তন মিস সুইজারল্যান্ডের এই জবানবন্দি সামনে আসায় ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে ফের নারী নিরাপত্তা, নৈতিকতা এবং রিপাবলিকান বনাম ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক যুদ্ধ এক চরম মাত্রায় পৌঁছল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)