জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্ব অর্থনীতির ডামাডোল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনেক শুল্ক জটিলতার মধ্যেই ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ইতিবাচক ও বড় মোড়। ভারত ও আমেরিকা একটি নতুন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (India-US Bilateral Trade Agreement - BTA) স্বাক্ষরের 'খুব কাছাকাছি' (Pretty Close) পৌঁছে গিয়েছে বলে স্বয়ং জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)। শুধু তাই নয়, এই চুক্তি অতীতের যে কোনও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা ও আধুনিক রূপরেখায় তৈরি হচ্ছে বলেও ওভাল অফিস (Oval Office) থেকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন বিদেশ সচিব মার্ক রুবিও (US Secretary of State Marco Rubio) একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে ভারতে এসেছেন এখন। তখনই ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
ওভাল অফিসে কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্পের কথায়:
'ওরা (ভারত) চুক্তি করতে আগ্রহী, আমরাও চুক্তি চূড়ান্ত করতে চলেছি। হ্যাঁ, আমরা একেবারে খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি। তবে এই চুক্তি আগে আমরা যে সমস্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছি, তার চেয়ে অনেকটাই আলাদা এবং অভিনব ধরনের হতে চলেছে।'
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই বার্তা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে দীর্ঘদিনের শুল্ক প্রাচীর এবং আমদানি-রফতানির জটিলতা কাটিয়ে দুই দেশ এমন এক সমঝোতায় পৌঁছচ্ছে, যা উভয় পক্ষের শিল্পমহল ও অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করবে।
কেন এই চুক্তি সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের?
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলের নজর এখন এই 'ডিফারেন্ট ডিল'-এর রূপরেখার ওপর। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, গত ফেব্রুয়ারি মাসেই দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (BTA Phase-1) কাঠামো তৈরি হয়েছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্ক নীতি এবং নতুন সংরক্ষণবাদী পদক্ষেপের কারণে আলোচনায় সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়।
চলতি মাসের শুরুতেই ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Commerce Minister Piyush Goyal) আমেরিকার মিলওয়াকি এবং ওয়াশিংটনে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ারের (US Trade Representative Jamieson Greer) সঙ্গে বিস্তারিত বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই মূলত শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হয়।
মার্ক রুবিওর দিল্লি সফর ও চুক্তির ৫টি মূল স্তম্ভ
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তর সময় মার্কিন বিদেশ সচিব মার্ক রুবিও দিল্লি সফরে এসে ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চালাচ্ছেন। সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত এই মেগা ট্রেড ডিলে পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রকে পাখির চোখ করা হয়েছে:
১. বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খল (Trade & Supply Chain): পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস এবং জিরো-ট্যারিফ করিডোর।
২. জ্বালানি নিরাপত্তা (Energy Security): আমেরিকা থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) ও জ্বালানি আমদানির সুবিধা।
৩. প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর (Critical Technology): এআই, সাইবার সিকিউরিটি ও চিপ তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ।
৪. প্রতিরক্ষা সহযোগিতা (Defence Ties): আধুনিক সমরাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির যৌথ উৎপাদন।
৫. জনসংযোগ ও পেশাদারদের ভিসা (People-to-People Ties): তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের যাতায়াত ও কাজের সুযোগ সহজতর করা।
ভারতীয় অর্থনীতির জন্য কী বার্তা?
যদি এই বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত রূপ নেয়, তবে তা ভারতীয় রফতানিকারক, বিশেষ করে টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির জন্য বিরাট স্বস্তির কারণ হবে। মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের মাটিতে আরও বেশি মার্কিন প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) আসার পথ সুগম হবে। ট্রাম্পের ইতিবাচক ঘোষণায় তাই দেশীয় বাণিজ্য মহলে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)