DOOMSDAY WARNING EXPLAINER: মজুত রাখুন ৭২ ঘণ্টার জরুরি রসদ! মহাপ্রলয়ের সতর্কবার্তা সরকারের, কোন অশনি সংকেতে বুক কাঁপছে বিশ্বের?
DOOMSDAY WARNING: মহাপ্রলয়ের সতর্কবার্তা? সরকার কেন মানুষকে ৭২ ঘণ্টার জন্য জরুরি সামগ্রী মজুদ রাখার পরামর্শ দিচ্ছে? কোন আতঙ্কে হাড়হিম আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান এবং ইউরোপের! জানুন বিশদে
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সামনেই কি ভয়াল মহাবিপর্যয়? আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান এবং ইউরোপ জুড়ে এখন হাড়হিম আতঙ্কের পরিস্থিতি। সেখানকার সরকারের এখন একটাই পরামর্শ- আগামী ৭২ ঘণ্টার জন্য় ইমারজেন্সি সামগ্রী মজুত রাখার! ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ, সাইবার হামলা ও অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি—এই সব কারণেই পরিস্থিতির বিরাট পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। পাশাপাশি এও বলা হচ্ছে যে, জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার অর্থ এই নয় যে দুয়ারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ! তাহলে ঠিক কী চলছে, কেন আপতকালীন পরিস্থিতির প্রস্তুতি? তাহলে কি আবার লকডাউন? ফের কি করোনার মতো কোনও মহামারি আসছে? এই প্রতিবেদনে চোখ বুলিয়ে দেখে নিন কী এই 'ডুমসডে ওয়ার্নিং' (মহাপ্রলয়ের সতর্কবার্তা)
ব্রিটেন প্রতিটি পরিবারকে তিন দিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুদ রাখতে বলছে
গত ২২ অক্টোবর ইউকে সরকার তাদের 'বি রেডি' বা 'তৈরি থাকুন' প্রচার নতুন করে শুরু করেছে। এর মাধ্যমে পরিবারগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেন তারা তিন দিনের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুদ রাখে, যাতে স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতেও তারা নিজেদেরটা অনায়াসে চালাতে পারে। প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে—পানীয় জল, সহজে নষ্ট হয় না এমন খাবার, টর্চ, অতিরিক্ত ব্যাটারি, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম (ফার্স্ট এইড কিট), নগদ অর্থ, পাওয়ার ব্যাংক এবং হাত দিয়ে ঘুরিয়ে চালানো যায় এমন রেডিও (উইন্ড-আপ রেডিও)। মন্ত্রীদের মতে, কোনও সংকটকালীন পরিস্থিতিতে জরুরি পরিষেবাগুলি হয়তো সবার কাছে তাৎক্ষণিক ভাবে পৌঁছতে পারবে না; তাই স্বল্প সময়ের জন্য নিজেদের মতো করে টিকে থাকার মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রতিটি পরিবারের কাছে থাকা জরুরি। ব্রিটেনের ২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে রাশিয়ার আগ্রাসন, ক্ষতিকারক সাইবার কার্যক্রম এবং অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রধান নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পেন্টাগন, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে জোরদার প্রস্তুতি
আমেরিকার ফরচুন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন ‘ফোর্ট্রেস’ নামে একটি পরিকল্পনা তৈরি করছে। যার লক্ষ্য হল বড় সামরিক ঘাঁটিগুলিকে বাইরের কোনও সহায়তা ছাড়াই ৯০ দিন পর্যন্ত সচল রাখা। এই পরিকল্পনায় শক্তিশালী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি মজুত রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। জাপানের কৌশল মূলত ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী গোশি হোসোনো জানিয়েছেন আগামী ২ নভেম্বর দেশের নতুন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি কার্যক্রম শুরুর সময় এই জরুরি আহ্বান জানানো হবে। যে ডাকে প্রতিটি পরিবারকে অন্তত তিন দিন, এমনকী সম্ভব হলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত নিজেদের প্রয়োজন নিজেদেরকেই মেটানোর প্রস্তুতিতে উৎসাহিত করা হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে গৃহীত তাদের প্রস্তুতি বিষয়ক কৌশলে সুপারিশ করা হয়েছে যে, জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষ যেন অন্তত ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত কোনও সহায়তা ছাড়াই টিকে থাকতে সক্ষম হয়।
রুশ হুমকির মুখে ইউরোপীয় দেশগুলির বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোর
রাশিয়ার নিকটবর্তী দেশগুলির ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতির এই প্রবণতা বিশেষভাবে দৃশ্যমান। ল্য মঁদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে ফিনল্যান্ড, সুইডেন, পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়া তাদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারিত করেছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রগুলির সংস্কার, জরুরি অবস্থায় লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি এবং সাধারণ নাগরিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান। ফিনল্যান্ড তাদের শস্যের মজুদ বাড়িয়ে নয় মাসের চাহিদার সমান করেছে, সুইডেন তাদের সর্বাত্মক প্রতিরক্ষা কৌশল পুনরায় কার্যকর করেছে এবং পোল্যান্ড ২০২৫ সালে একটি বেসামরিক প্রতিরক্ষা আইন পাস করেছে। এসব দেশ কেবল সামরিক আগ্রাসনের আশঙ্কা নিয়েই উদ্বিগ্ন নয়; বরং বিদ্যুৎ গ্রিড, পরিবহণ নেটওয়ার্ক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর হামলাও তাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। কারণ, কোনও বিদেশি সৈন্য সীমান্ত অতিক্রম না করেও—কেবল এই সব পরিকাঠামোয় হামলার মাধ্যমেই—এক দেশের অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাগুলি ব্যাহত হতে পারে এবং দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রম অচল হয়ে পড়তে পারে।
সরকার কেন ৭২ ঘণ্টার জরুরি রসদ মজুত রাখার পরামর্শ দেয়
৭২ ঘণ্টার এই পরামর্শের উদ্দেশ্য হল, কোনও সংকট শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে—যখন জরুরি পরিষেবাগুলি এবং সরকারি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে—তখন পরিবারগুলি যেন নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারে। বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট, চরম আবহাওয়া কিংবা সাইবার হামলার মতো ঘটনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলো ব্যাহত হতে পারে। জরুরি অবস্থার শুরুর দিকে উদ্ধারকাজ চালানো বা হাসপাতাল সচল রাখার মতো অত্যন্ত জরুরি বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দিতে হয়, যার ফলে সাধারণ পরিবারগুলিকে সাময়িক ভাবে নিজেদের মজুত করা রসদের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। কর্তৃপক্ষ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমাকে প্রস্তুতির একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে। এটি সংকটকালীন পরিস্থিতিতে একটি সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে, আবার অনেক পরিবারের জন্য খরচ ও জায়গা সংরক্ষণের দিক থেকেও এটি সামলানো সম্ভব। এছাড়া, বৈরী রাষ্ট্রগুলির কর্মকাণ্ড, সাইবার হামলা এবং অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটেও এই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সতর্ক করেছে যে, প্রচলিত সামরিক আক্রমণ ছাড়াই ডিজিটাল ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ওপর হামলার মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত করা সম্ভব। জাপান, যারা দীর্ঘকাল ধরে ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে আসছে, তারা তিন দিনের রসদকে ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা বলে মনে করে এবং পরিবারগুলিকে সম্ভব হলে এক সপ্তাহের রসদ মজুত রাখার উৎসাহ দেয়।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি আসন্ন?
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘনিয়ে আসছে—এমন কোনও প্রমাণ যদিও নেই। বিভিন্ন সরকার জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি জোরদার করার পিছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ রয়েছে। ওয়াশিংটনে সামরিক সক্ষমতা বা সহনশীলতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। জাপানে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি প্রধান উদ্বেগের বিষয়। অন্যদিকে, ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলি রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের সম্ভাবনার বিষয়ে বিশেষ ভাবে সতর্ক। এই পদক্ষেপগুলি কোনও আসন্ন বিশ্বযুদ্ধের একক বা সমন্বিত সতর্কবার্তা নয়। সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া আর সেই পরিস্থিতি ঘটবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করা—এক বিষয় নয়। সংকট শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলে সরকার বা সাধারণ মানুষের পক্ষে কার্যকর ভাবে সাড়া দেওয়ার সুযোগ অনেক কমে যাবে। অধিকাংশ মানুষের জন্য পরামর্শ খুবই সহজ: বাড়িতে কয়েক দিনের জল, খাবার ও ওষুধ মজুদ রাখুন। সরকারি জরুরি সতর্কবার্তা পাওয়ার উপায়গুলো জেনে রাখুন এবং স্থানীয় জরুরি কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে অবগত থাকুন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)