হোয়াইট হাউসে রুদ্ধশ্বাস নাটক: ৫ দিনেই বিদায় কেটির, মিডিয়া ইন্টারভিউয়ের মাঝেই ছাঁটাই ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি
White House Press Secretery Katie Zacharia layoff: 'জেডি একটু কথা বলতে চান', বলেই সাক্ষাৎকার থামিয়ে বরখাস্ত! হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদ থেকে মাত্র ৫ দিনেই বিতাড়িত কেটি জ্যাকারিয়া। জানুন নেপথ্যের গল্প।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মার্কিন মসনদে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দ্বিতীয়বার ফেরার পর থেকেই হোয়াইট হাউসের কর্মী নিয়োগ ও বরখাস্তের ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদ শিরোনাম দখল করে চলেছে। তবে সেই তালিকায় এবার তৈরি হল নতুন রেকর্ড। মাত্র ৫ দিন দায়িত্ব সামলানোর পরেই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি (White House Press Secretary) পদ থেকে আচমকা বরখাস্ত করা হল কেটি জ্যাকারিয়াকে (Katie Zacharia)।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ব্যাপার, তাঁর বিদায়ের নাটকীয় মুহূর্ত। শুক্রবার মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (The Wall Street Journal)-এর সাংবাদিকদের নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন কেটি। ঠিক তখনই ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েন ট্রাম্পের প্রবীণ উপদেষ্টা জেসন মিলার (Jason Miller)। তিনি মাঝপথেই সাক্ষাৎকার থামিয়ে বলেন-- 'জেডি একটু কথা বলতে চান (JD wanted to chat with us real quick)'। আর সেই উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সের (JD Vance) সঙ্গে ‘জরুরি আলোচনা’র কয়েক মিনিটের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে ইতি ঘটে কেটি জ্যাকারিয়ার হোয়াইট হাউস অধ্যায়ের।
ইন্টারভিউয়ের মাঝে কী ঘটেছিল?
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে যখন সাক্ষাৎকার চলছিল, তখন কেটি অত্যন্ত ইতিবাচক মেজাজে প্রেস টিম সাজানো এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে কথা বলছিলেন। তিনি দাবি করছিলেন, কাউকে ছাঁটাই করা হবে না এবং সবাইকে একজোট করে টিম চালানোই তাঁর লক্ষ্য।
ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রবেশ করেন জেসন মিলার। ইন্টারভিউ মাঝপথে বন্ধ করে কেটিকে তিনি সরাসরি জেডি ভ্যান্সের অফিসে নিয়ে যান। সেখান থেকে বেরোনোর পর আর তিনি নিজের ডেস্কে ফিরে আসেননি; এমনকি সাক্ষাৎকারও আর শেষ হয়নি। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে যায়-- তাঁকে কার্যত পদত্যাগ করতে বা সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়েছে।
মাত্র ৫ দিনে কেন ছাঁটাই কেন?
দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে কেন এমন চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর শীর্ষ প্রশাসন? এর পেছনে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর কারণ:
প্রথম ব্রিফিংয়েই বিপর্যয় (Disastrous Debut Briefing): প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিজের প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই চূড়ান্ত নার্ভাস ছিলেন কেটি। প্রস্তুত করা লিখিত বিবৃতি পড়তে গিয়ে তিনি কার্যত তোতলামি করেন। এমনকি নিজের স্বামীকে ভুল করে ‘প্রেসিডেন্ট’ বলে সম্বোধন করে হাসির পাত্র হন। মাত্র তিন ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন নিয়েই তড়িঘড়ি পোডিয়াম ছাড়েন তিনি, আর তাতেই সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
যোগ্যতা ও বার কাউন্সিলের পরীক্ষা নিয়ে মিথ্যাচার (Bar Exam Controversy): ট্রাম্প শুরুতে তাঁকে ‘দক্ষ আইনজীবী’ (Attorney) বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তদন্তে প্রকাশ্যে আসে যে তিনি আমেরিকার বার পরীক্ষায় (Bar Exam) পাশই করতে পারেননি। ফলে খোদ প্রেস সেক্রেটারির বিশ্বাসযোগ্যতা (Credibility Crisis) নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন ওঠে।
ট্রাম্পের সতর্কবার্তা: শুক্রবার সকালে জর্জিয়া যাওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের সামনেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, 'আমি ওকে বলেছিলাম, কেটি, এই পদটা কি সত্যিই তোমার জন্য? সংবাদমাধ্যমের যে চাপের মুখে তুমি পড়েছ, আমি তোমার জায়গায় থাকলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা (Reconsider) করতাম।'
হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে অন্যতম ছাঁটাই
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের অ্যান্থনি স্কারমুচির (Anthony Scaramucci) ১১ দিনের মেয়াদের কথাও যেন ম্লান করে দিল কেটির এই ৫ দিনের কার্যকাল। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করে কেটি লেখেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে কাজ করা সম্মানের।"
তবে যেভাবে প্রকাশ্য সাক্ষাৎকারের মাঝপথে উপরাষ্ট্রপতির নাম করে তাঁকে ডেকে পাঠিয়ে অব্যাহতি দেওয়া হলো, তা আবারও প্রমাণ করল-- আমেরিকার প্রশাসনিক অলিন্দে ট্রাম্পের জমানায় টিকে থাকতে গেলে প্রচার ও ক্যামেরার সামনে বিন্দুমাত্র ভুলের কোন জায়গা নেই।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)