জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে যুদ্ধ ও হিংসা প্রতিরোধের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার (Nobel Peace Prize 2026) পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান প্রখ্যাত আইনজ্ঞ ও বিচারপতি নভনেথম 'নাভি' পিল্লাই (Navanethem 'Navi' Pillay)। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি (Norwegian Nobel Committee) শুক্রবার ওসলোয় তাঁর নাম ঘোষণা করে। যুদ্ধাপরাধ (War Crimes), মানবতাবিরোধী অপরাধ (Crimes Against Humanity) এবং গণহত্যার মতো জঘন্য অপরাধের বিচার নিশ্চিত করে বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনকে শক্তিশালী করায় তাঁর আজীবন অবদানকে কুর্নিশ জানাল নোবেল কমিটি।
বর্ণবৈষম্য বিরোধী লড়াই থেকে আন্তর্জাতিক বিচারালয়
পিল্লাইয়ের উত্থান
১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত তামিল পরিবারে জন্ম নাভি পিল্লাইয়ের। চরম বর্ণবৈষম্য বা অ্যাপার্থাইড (Apartheid)-এর যুগে বর্ণবৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের কর্মী ও রাজনৈতিক বন্দিদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন।
তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাটাল প্রদেশে নিজের ল' ফার্ম খোলার সুযোগ পাওয়া প্রথম অ-শ্বেতাঙ্গ নারী।
পরবর্তীতে নেলসন ম্যান্ডেলা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পিল্লাইকে দক্ষিণ আফ্রিকার সুপ্রিম কোর্টের (High Court of South Africa) প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
ঐতিহাসিক রায় ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ
নোবেল কমিটির রিসার্চে উঠে এসেছে যে, নাভি পিল্লাই আন্তর্জাতিক আইনের পরিধি ও প্রভাবকে অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন:
১. রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনাল (ICTR): রুয়ান্ডা গণহত্যা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক থাকাকালীন তিনি ঐতিহাসিক রায় দেন যে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ধর্ষণকে প্রথমবার 'গণহত্যা' ও 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
২. আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) ও রাষ্ট্রপুঞ্জ: তিনি আইসিসির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিচারক ছিলেন এবং ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার (UN High Commissioner for Human Rights) হিসেবে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
৩. ফিলিস্তিন ও মায়ানমার ইস্যু: সাম্প্রতিক সময়ে অধিকৃত প্যালেস্তাইন ভূখণ্ড সংক্রান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের (UN Commission of Inquiry) নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) মায়ানমারের বিরুদ্ধে চলা রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলার অন্যতম বিচারক হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।
নোবেল কমিটি স্পষ্ট জানিয়েছে-- কোর্টরুমের ঐতিহাসিক সব রায়ের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, আইনের শাসন ও বিচার প্রক্রিয়া কী ভাবে প্রত্যক্ষ হিংসা ও যুদ্ধ থামাতে পারে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)