মৃত্যুতেও #MeToo-র খোঁচা! স্যান্ডউইচ খেতে খেতে তনুশ্রীর 'এভিল ডেড' মন্তব্যে ঝড়
Tanushree Dutta on Nana Patekar Death: ভিডিয়ো পোস্ট করে তনুশ্রী দত্তের মন্তব্য, "ভেবেচিন্তে প্রতিক্রিয়া জানাব। মিডিয়া এখন এভিল ডেড কভার করতে ব্যস্ত থাকবে।" ২০১৮ সালে তনুশ্রী দত্ত নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে #MeToo অভিযোগ আনেন। বলিউডে শুরু হয় 'মি টু' আন্দোলন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: #MeToo আন্দোলনের সময় তাঁর অভিযোগে ঝড় বয়ে গিয়েছিল। বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে #MeToo এনেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। নাচ শেখানোর নামে তাঁকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। এদিন নানা পাটেকরের মৃত্যুতে নাম না করে তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে 'এভিল ডেড' বলে মন্তব্য তনুশ্রী দত্তের।
তনুশ্রী দত্তের 'এভিল ডেড' খোঁচা
তনুশ্রী দত্ত এদিন তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বেশ কয়েকটি পোস্ট শেয়ার করেন। প্রায় ২০টি মতো পোস্ট। একটি অনুষ্ঠানের কাজে লখনউ যাচ্ছিলেন তিনি। তার ভিডিয়ো পোস্ট করে তাঁর মন্তব্য, "ভেবেচিন্তে প্রতিক্রিয়া জানাব। মিডিয়া এখন এভিল ডেড কভার করতে ব্যস্ত থাকবে।" স্যান্ডউইচ খেতে খেতে তাঁর করা এই ভিডিয়ো পোস্ট ভাইরাল হতে সময় নেয়নি। 'এভিল ডেড' বলে তনুশ্রী দত্ত যে আসলে কারও নাম না নিয়েও পরোক্ষভাবে নানা পাটেকরকেই খোঁচা দিতে চেয়েছেন তা বলাই বাহুল্য। তবে শেষে অভিনেতার পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি সমবেদনাও প্রকাশ করেন।
বিমানবন্দর থেকে স্যান্ডউইচ খেতে খেতে তাঁর শেয়ার করা ভিডিয়োতে তনুশ্রী বলেন, "হ্যাঁ, আমি খবরটি শুনেছি। আজ আমার একটা কাজের দিন। আমি একটি ইভেন্টের কাজে লখনউ যাচ্ছি। তাই এখন আমাকে কাজ নিয়েই ভাবতে হবে। এটা আমার জন্য অত্যন্ত বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি ইভেন্ট। আমার সারা দিনের পরিকল্পনা আগে থেকেই করা আছে। যা নিয়ে আমি আপডেট পোস্ট করতে থাকব।" এরপর তিনি আরও যোগ করেন, "আমার চিন্তা হচ্ছে পুরো মিডিয়া এখন 'এভিল ডেড' কভার করার পিছনে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তাই আমি ভেবেচিন্তে আমার প্রতিক্রিয়া জানাব। কী বলব তা নিয়ে এখনও ভাবছি। তবে তাঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।"
নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে তনুশ্রী দত্তের #MeToo
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে তনুশ্রী দত্ত নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে #MeToo অভিযোগ আনেন। তনুশ্রী দত্তের অভিযোগ ছিল, ২০০৮ সালে 'হর্ন ওকে প্লিজ' নামক একটি হিন্দি ছবির শুটিং সেটে নাচের দৃশ্য শ্যুট করার সময় নানা পাটেকার তাঁর সাথে অসৌজন্যমূলক ও অনভিপ্রেত আচরণ করেছিলেন। তনুশ্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, সিনেমার ওই গানের দৃশ্যটি মূলত তনুশ্রীকে একা নিয়ে শ্যুট করার কথা থাকলেও, নানা পাটেকার জোর করে সেখানে তাঁর সাথে একটি ঘনিষ্ঠ নাচের দৃশ্য যুক্ত করতে চান।
তনুশ্রী এর প্রতিবাদ জানিয়ে সেট ছেড়ে চলে যেতে চাইলে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা তাঁর গাড়িতে আক্রমণ করে ও ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনায় ২০০৮ সালে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তনুশ্রী। ঘটনার ১০ বছর পর, ২০১৮ সালে তনুশ্রী এই ঘটনায় মুম্বাই পুলিশের কাছে নানা পাটেকার, কোরিওগ্রাফার গণেশ আচার্য, পরিচালক রাকেশ সারং এবং প্রযোজক সামি সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। যদিও নানা পাটেকার শুরু থেকেই তনুশ্রী দত্তের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসেন। এমনকি মানহানির আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও ইঙ্গিত দেন।
#MeToo খারিজ
তনুশ্রী দত্ত মুখ খোলার পরই বলিউডের অনেক মহিলা কর্মী ও অভিনেত্রী তাঁদের অতীতের নানা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শুরু করেন। বলিউডে শুরু হয় #MeToo আন্দোলন। ২০১৯-এ মুম্বাই পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে একটি 'বি-সামারি' রিপোর্ট জমা দেয়। পুলিশ জানায় যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণের অভাব রয়েছে। সেটের সাক্ষীরা কোনও অনভিপ্রেত ঘটনার কথা স্বীকার করেননি। শেষে ২০২৫-এর মার্চ মাসে মুম্বাইয়ের ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটির নিষ্পত্তি করে। আইন সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার যুক্তিতে মামলাটি খারিজ করে দেয়।
আরও পড়ুন, ৪ দিন আগেই নিজ মুখে নিজের মৃত্যুর 'ভবিষ্যদ্বাণী' করেন নানা! নাচে-গানে অভিনেতার শেষ ভিডিয়ো...
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)