আসল টার্গেট সলমন খান: দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা ভাঙতে না পেরেই টাইগার শ্রফের ওপর হামলা? জুহু শুটআউট কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য, তোলপাড় বলিউড
Tiger Shroff shootout case: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি কাণ্ডে বড় মোড়। গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের কড়া নিরাপত্তায় ব্যর্থ হয়েই টাইগারকে সফট টার্গেট বানায় শ্যুটাররা। তদন্তে বিষ্ণোই গ্যাং।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বলিউডের অ্যাকশন স্টার টাইগার শ্রফকে (Tiger Shroff) গুলির (Firing Incident) ঘটনায় সামনে এল গায়ে কাঁটা দেওয়া খবর। প্রাথমিক তদন্তে তদন্তকারীদের হাতে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য-- শ্যুটারদের আসল টার্গেট (Original Target) টাইগার শ্রফ ছিলেনই না। তাঁদের প্রধান নিশানা ছিলেন খোদ মেগাস্টার সলমন খান (Salman Khan)।
কিন্তু ভাইজানের বাড়ির কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সেই ছক ব্যর্থ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে নিশানা বদল করে 'সহজ টার্গেট' (Easier Mark) হিসেবে টাইগার শ্রফকে বেছে নেয় হামলাকারীরা। মুম্বই পুলিস ও দিল্লি পুলিসের স্পেশাল সেলের যৌথ তদন্তে এই বড় তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে কম্যান্ডো পাহারা ও প্ল্যান বদল
তদন্তকারী সংস্থা সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, ধৃত হামলাকারীরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, তারা প্রথমে সলমন খানের বান্দ্রার বাসভবন 'গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট' (Galaxy Apartments)-এর আশপাশে রেইকি (Recce) করেছিল। তবে সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পায় ভাইজানের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে সলমন খানের নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে এলিট কম্যান্ডো বাহিনী, যাঁদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক এমপি৫ এসডি৬ সাবমেশিন গান (MP5 SD6 Submachine Guns)। এই দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয় (Heavy Security Cover) ভেদ করে সলমনের কাছাকাছি পৌঁছনো সম্পূর্ণ অসম্ভব বুঝে তারা পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসে এবং বিকল্প নিশানার খোঁজ শুরু করে।
ফ্যানদের রিলস দেখে টাইগারের কোথায় তা জানতে পারে হামলাকারী
সলমন খানকে নিশানা করতে ব্যর্থ হওয়ার পর হামলাকারীরা সোশ্যাল মিডিয়া ও ইনস্টাগ্রাম রিলসের (Fan-made Reels) ওপর নজর রাখতে শুরু করে। সেখান থেকেই তারা লক্ষ্য করে, জুহুর ফুটবল মাঠ বা জিমে যাওয়ার সময় টাইগার শ্রফের সঙ্গে কোনও সরকারি পুলিসি নিরাপত্তা বা ওয়াই-ক্যাটাগরি কভার (Police Cover) থাকে না। একা ও কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় যাতায়াত করার কারণেই তাঁকে 'সফট টার্গেট' বানায় শ্যুটাররা।
জেরায় অভিযুক্তরা জানিয়েছে, এই অপারেশনের জন্য তাদের অগ্রিম ৫০,০০০ টাকা (₹50,000 Upfront Cash) দেওয়া হয়েছিল এবং কাজ শেষ হলে আরও বড় অঙ্কের টাকা ও চাকরির প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল।
রবিবারের সেই রক্তক্ষয়ী মুহূর্ত
গত ১৮ অক্টোবর, রবিবার জুহুর একটি ফুটবল গ্রাউন্ড থেকে খেলা শেষে যখন টাইগার শ্রফ নিজের গাড়িতে উঠছিলেন, তখনই একটি মোটরবাইকে চেপে আসা তিন দুষ্কৃতী এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।
টাইগার শ্রফ অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও গাড়ির চালক এবং এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে জখম হন।
খুব কাছ থেকে গুলি চালানোর সময় এক বন্দুকবাজের অস্ত্র জ্যাম (Weapon Jammed) হয়ে যাওয়ায় আরও বড় বিপদ থেকে রক্ষা পান অভিনেতা।
হামলার পরেই সামাজিক মাধ্যমে অনিল পণ্ডিত ও হরমন সান্ধুর নামে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের (Lawrence Bishnoi Gang) তরফে দায় স্বীকার করে পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে দাবি করা হয়, সলমন খানের সঙ্গে কাজ করা এবং সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করার কারণেই টাইগারকে নিশানা করা হয়েছে।
অস্ত্র পাচারে মহিলাদের ভূমিকা
ঘটনার পরই দ্রুত অভিযান চালিয়ে রাজস্থানের কোটা (Kota, Rajasthan) থেকে নেপালে পালানোর সময় তিন মূল শ্যুটার-- হৃতিক ওরফে রোশন (২২), রেহান (১৮) এবং ফুল সিংকে (১৮) গ্রেফতার করে পুলিস।
পাশাপাশি দিল্লি পুলিসের স্পেশাল সেল অস্ত্র সরবরাহ ও লজিস্টিক সাপোর্টের অভিযোগে কুণাল (২১), সুমিত (১৯) এবং রাধা (২৩) ও ববিতা (২৩) নামের দুই তরুণীকে পাকড়াও করেছে। মূল ষড়যন্ত্রকারী কে এবং মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ভয় তৈরি করাই এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা এখন পুরো শিকড় পর্যন্ত খতিয়ে দেখছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
আরও পড়ুন: টাইগার শ্রফ নন, শ্যুটারদের টার্গেটে ছিল অন্য এক সেলিব্রিটি? তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়
আরও পড়ুন: সলমন খান থেকে টাইগার শ্রফকে নিশানা, এবার বলিউডে ফিরছে দাউদ-বরদাভাই জমানা?
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)