‘ফুটপাথে ঘুমিয়েছি, একবেলা খাবারের জন্য নেচেছি’, স্টারডামের আগে জীবনের কঠিন দিন মনে করলেন মিঠুন
Mithun Chakraborty: ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর অভিনয়জীবনের শুরুর দিনের কঠিন সময়ের কথা আবারও সামনে আনলেন। একসময় রাস্তায় ও ফুটপাথে রাত কাটিয়েছেন তিনি। এমনও হয়েছে, পার্টিতে নাচের বিনিময়ে টাকা নয়, শুধু রাতের খাবার পেয়েছেন। জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পরও কাজের নিশ্চয়তা ছিল না।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চার দশকের বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-সহ পেয়েছেন একাধিক সম্মান। আজ তিনি ভারতীয় সিনেমার অন্যতম পরিচিত মুখ। সেই ডিস্কো ডান্সারই একময় পকেটে টাকা নেই, মাথার উপর ছাদ নেই- কখনও ফুটপাথে, কখনও বাগানে রাত কাটিয়েছেন। এমনকী, শরীরের ক্লান্তিতে হাঁটতে হাঁটতে ফুটপাথেই ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
সম্প্রতি কোরিওগ্রাফার-পরিচালক ফারাহ খানের ইউটিউব ভ্লগে এসে নিজের জীবনের সেই চরম অনাহার ও ফুটপাতে দিন কাটানোর স্মৃতি শেয়ার করলেন 'মহাগুরু'! মিঠুনের কথায়, তাঁর জীবনের সেই সময়টাকে শুধু ‘সংগ্রাম’ বললে কম বলা হয়, বরং 'জীবনের কঠিন লড়াই' -এই শব্দবন্ধই বেছে নেন তিনি।
খাবারের জন্য পার্টিতে নাচতেন!
ফারাহ খান জানান, তাঁর মা মা কে কে শুক্লা চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার ছিলেন। সেই সূত্রে মিঠুন ও তার পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের পরিচয়। ভালো নাচের দক্ষতার কারণে মিঠুনকে বিভিন্ন পার্টিতে ডেকে নেওয়া হত। বিনিময়ে কোনো টাকা না নিয়ে কেবল রাতের খাবারের সুযোগটুকু পেতেন তিনি। জুনিয়র আর্টিস্ট থেকে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথ অতিসাধারণ কোনো বিষয় ছিল না।
জাতীয় পুরস্কার জেতার পরেও তাঁর জীবনে স্বচ্ছলতা আসেনি। মিঠুনের ছেলে নমাশি জানান, ১৯৭৫ সালে এফটিআইআই থেকে পাশ করার পরের বছরই অভিনয়ে পা রাখেন তিনি। জাতীয় পুরস্কার পেলেও তখন থাকার মতো বাড়ি ছিল না। তাই নিজের প্রথম গাড়িতেই থাকতে হত তাঁকে। বাড়ির বাথরুম ব্যবহারের সুযোগও ছিল না। একটি জিম পরিষ্কার করার বিনিময়ে সেখানকার শাওয়ার ব্যবহার করতেন অভিনেতা। মিঠুনের সেই প্রায় ৫০ বছরের পুরনো গাড়িটি এখনও যত্নে রাখা রয়েছে।
১৯৭৬ সালে মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী, যিনি পরবর্তীতে মিঠুন চক্রবর্তী নামে পরিচিতি লাভ করেন। প্রথম সিনেমাতেই তিনি সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর ‘সুরক্ষা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার বাণিজ্যিক সাফল্য শুরু হয়। আশির দশকে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’, ‘ড্যান্স ড্যান্স’, ‘পেয়ার ঝুকতা নেহি’, ‘কসম পয়দা করনে ওয়ালে কি’ এবং ‘কমান্ডো’র মতো কালজয়ী সিনেমার মাধ্যমে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছান তিনি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)