সর্বোচ্চ দর হাঁকিয়েও কেন মিলল না বিলাসবহুল ফ্ল্যাট? এবার হাইকোর্টের তোপের মুখে NBCC
দিল্লির সরোজিনী নগরের ১৫ কোটির ফ্ল্যাট নিলামে জালিয়াতির অভিযোগ! সর্বোচ্চ দর হাঁকিয়েও মিলল না এনবিসিসি-র ফ্ল্যাট? বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করল দিল্লি হাইকোর্ট।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেশের অন্যতম মূল্যবান আবাসন প্রকল্পকে ঘিরে এবার মাথাচাড়া দিয়েছে বড়সড় বিতর্ক। দিল্লির অন্যতম অভিজাত এলাকা সরোজিনী নগরে নির্মাণাধীন এনবিসিসি-র (NBCC) ‘এভিনিউ টাওয়ার্স’ প্রকল্পে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৪৯টি ফ্ল্যাটের বিড আকস্মিকভাবে বাতিল করার অভিযোগ উঠেছে। সর্বোচ্চ দর দিয়েও ক্রেতারা কেন আবাসন পাচ্ছেন না এবং কোন ভিত্তিতে এই ‘বাছাই করা দরপত্র বাতিল’ করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যেই আদালতের দরজায় কড়া নেড়েছেন একাধিক ক্রেতা। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দিল্লি হাইকোর্ট রাষ্টায়ত্ত সংস্থা এনবিসিসি-কে কড়া নোটিশ জারি করেছে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ঘটনার নেপথ্য ও ক্রেতাদের গুরুতর অভিযোগ
এনবিসিসি-র এই প্রিমিয়াম আবাসন প্রকল্পে মোট ২৬২টি ফোর-বিএইচকে ফ্ল্যাট রয়েছে। গত জুলাই মাসে প্রতি বর্গফুটের রিজার্ভ প্রাইস ৩৭,১৬১ টাকা ধার্য করে এই ইউনিটের প্রথম নিলাম আহ্বান করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী আগ্রহী ক্রেতারা কোটি কোটি টাকার দর হাঁকেন। একাধিক ক্রেতার অভিযোগ, সব নিয়ম মেনে সর্বোচ্চ টাকা দিতে যিনি রাজি সেই হিসেবে বিজয়ী তালিকা প্রকাশ করার পর হঠাৎই প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে কিছু নির্বাচিত নিলামপত্র বাতিল করে দেওয়া হয়। ক্রেতাদের প্রশ্ন—সব নিয়ম মেনে যখন রিজার্ভ প্রাইসের চেয়ে বেশি দাম প্রস্তাব করা হলো এবং সফল দরদাতার তালিকা প্রকাশ হলো, ঠিক তারপর কোন যুক্তিতে নিলাম বাতিল করা হলো?
নিলামে অস্বচ্ছতার অভিযোগ
নিলামের দিনক্ষণ বারবার বদল এবং অস্পষ্ট কারণ দেখিয়ে প্রক্রিয়া বাতিল করা নিয়ে অসন্তোষ তীব্র হয়েছে। গত ১৯ অগাস্ট হঠাৎ করেই পুরো নিলাম প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পুনরায় ২৬২টি ইউনিটের জন্য বিডিং ডাকা হয়। কিন্তু সেখানেও আচমকা ১৭টি ফ্ল্যাটের বিডিং বাতিল করা হয় এবং পরবর্তীতে ২৮ অক্টোবর আবারও সফল বিজয়ী ক্রেতাদের নিলামপত্র খারিজ করে দেওয়া হয়। সরকারি সংস্থার এই ধরনের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা স্পষ্ট অভিযোগ তুলেছেন যে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো স্বচ্ছতা নেই।
আদালতের হস্তক্ষেপ ও এনবিসিসি-কে নোটিশ
সংস্থার এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভুক্তভোগী ক্রেতারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত পুরো বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে। হাইকোর্ট এনবিসিসি-র কাছে এই আকস্মিক ও বাছাই করা দরপত্র বাতিলের স্পষ্ট কারণ দর্শাতে বলেছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এনবিসিসি-কে। মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে ২০২৭ সালের ১২ জানুয়ারি।
এভিনিউ টাওয়ার্সের বিলাসবহুল বৈশিষ্ট্য
প্রকল্পটির অভিজাত অবস্থানের কারণেই ক্রেতাদের মধ্যে এটি ঘিরে বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছিল। ৮.৮৯ একর জুড়ে বিস্তৃত এই প্রকল্পে ৯টি ভবন ও ২৬২টি বিলাসবহুল ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের কার্পেট এরিয়া ২,৫১৮ থেকে ২,৫৯৮ বর্গফুটের মধ্যে এবং প্রারম্ভিক মূল্য ১৫ কোটি টাকারও বেশি। উন্নত জীবনযাত্রার জন্য এখানে রয়েছে তিন-তিনটি কভার্ড কার পার্কিং এবং ৫০,০০০ বর্গফুটের এক সুবিশাল ক্লাব হাউস।
সর্বোচ্চ দর হাঁকিয়েও যদি আবাসন বরাদ্দ না মেলে, তবে নিলাম প্রক্রিয়ার সার্বিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়। এখন দেখার, আদালতের প্রশ্নের মুখে এনবিসিসি ঠিক কী সাফাই পেশ করে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)