দশমী শেষ হতেই বড় ধাক্কা: লক্ষ্মীবারের শুরুতেই লাখ লাখ টাকা নিমেষে ধসে গেল, ভারতীয় শেয়ার বাজারে কেন এই আচমকা পতন? এখন কী করা উচিত?
Sensex Crash: অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন বন্ড ইল্ডের ধাক্কায় বড় পতন ভারতীয় শেয়ার বাজারে। সেনসেক্স ও নিফটির এই পতনের নেপথ্যের কারণ জানুন বিস্তারিত এক্সপ্লেনারে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দশমী শেষ হয়ে অফিস খুলতেই বৃহস্পতিবার সকালে ট্রেডিং সেশনের শুরুতেই ভারতীয় শেয়ার বাজারে (Indian Stock Market) বড় ধাক্কা। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স (BSE Sensex) ৫২৫ পয়েন্টের বেশি নিচে নেমে যায় এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি ৫০ (NSE Nifty 50) ২২,৬০০-র নিচে খসে পড়ে। অটো, মেটাল ও ফাইনান্সিয়াল সেক্টরের শেয়ারগুলিতেই সবচেয়ে বেশি বিক্রি বা সেল-অফ (Sell-off) দেখতে পাওয়া গেছে।
কিন্তু হঠাৎ করে দালাল স্ট্রিটে কেন এত বড় ধস নামল? কেন রাতারাতি আতঙ্ক ছড়াল বিনিয়োগকারীদের মধ্যে? সহজ ও ঝকঝকে বাংলায় রইল এই পতনের আসল কারণের বিস্তারিত এক্সপ্লেনার (Explainer)।
১. অপরিশোধিত তেলের দামে আগুন (Rising Crude Oil Prices)
ভারত তার প্রয়োজনীয় খনিজ তেলের সিংহভাগই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করে। বিশ্ববাজারে ক্রুড অয়েল (Crude Oil) বা অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া মানেই ভারতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হওয়া। তেলের দাম বাড়লে দেশের মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা ভারতের আমদানি খরচ বাড়িয়ে দেয় এবং ভারতীয় টাকা বা রুপি (Rupee) দুর্বল করে। তেলের চড়া দাম কর্পোরেট সংস্থাগুলির লাভের পরিমাণ কমিয়ে দেয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ার সূচকে।
২. ইউএস বন্ড ইল্ড ও সুদের হারের ভয় (High US Bond Yields)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছরের সরকারি বন্ডের আয় বা বন্ড ইল্ড (US Bond Yields) নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। যখনই মার্কিন বন্ডের সুদের রিটার্ন বাড়ে, তখনই বিশ্বজুড়ে বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে এনে নিরাপদে মার্কিন বন্ডে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন। এর ফলে ভারত সহ সমস্ত উদীয়মান বাজার (Emerging Markets) থেকে বিদেশি মূলধন বাইরে চলে যেতে শুরু করে।
৩. বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিপুল শেয়ার বিক্রি (Continuous FII Selling)
বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বা এফআইআই (Foreign Institutional Investors - FII) ভারতীয় বাজার থেকে ক্রমাগত তাদের পুঁজি তুলে নিচ্ছেন। ইউএস ডলারের শক্তিবৃদ্ধি এবং মার্কিন বন্ডে আকর্ষণীয় রিটার্নের কারণে এফআইআই-রা টানা বিক্রি বাড়িয়ে চলেছেন। যদিও দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বা ডিআইআই (Domestic Institutional Investors - DII) বাজার ধরে রাখার চেষ্টা করছে, কিন্তু এফআইআই-এর টানা বিক্রির ধাক্কা সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
৪. প্রফিট বুকিং ও ওভারভ্যালুয়েশন (Profit Booking & Expensive Valuations)
বিগত কিছুদিনে বাজার বেশ কিছু ক্ষেত্রে রেকর্ড উচ্চতা স্পর্শ করেছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক টানাপোড়েন শুরু হতেই বিনিয়োগকারীরা সাবধানী হয়ে গেছেন এবং নিজেদের লাভ ঝুলিতে পুরতে প্রফিট বুকিং (Profit Booking) শুরু করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় বাজারের কিছু কিছু শেয়ারের মূল্যায়ন বা ভ্যালুয়েশন (Valuation) অনেকটাই চড়া ছিল, যা বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির সামনে সংশোধন বা কারেকশন (Correction)-এর সম্মুখীন হচ্ছে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন কী করবেন?
শেয়ার বাজারে যখন রক্তক্ষরণ বা মার্কেট ক্র্যাশ (Market Crash) হয়, তখন আতঙ্কিত হয়ে পোর্টফোলিওর সব শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
প্যানিক সেল এড়িয়ে চলুন: বাজারে সাময়িক অস্থিরতা স্বাভাবিক। ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন বা ফান্ডামেন্টালি স্ট্রং (Fundamentally Strong) সংস্থায় আস্থা রাখুন।
এসআইপি চালিয়ে যান: মিউচুয়াল ফান্ড বা ডায়রেক্ট ইক্যুইটিতে এসআইপি (SIP) চালু থাকলে তা বন্ধ করবেন না; কারণ পতনের বাজারে বেশি ইউনিট (Units) পাওয়ার সুযোগ থাকে।
ধীরে ধীরে বাই অন ডিপস: ভাল কোয়ালিটির শেয়ারগুলোতে এককালীন সব টাকা না ঢেলে, ধাপে ধাপে বা বাই অন ডিপস (Buy on Dips) পদ্ধতিতে অল্প অল্প করে ভালো শেয়ার কেনা যেতে পারে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)