জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় মহা-বিপ্লব। একদিকে তিস্তা সেতু, অন্যদিকে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের পুনর্নির্মাণ, সঙ্গে গোরখপুর-শিলিগুড়ি গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে। সবমিলিয়ে গতির জোয়ার আসতে চলেছে উত্তরবঙ্গে। সিকিম এবং সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ দেশের সুরক্ষার ক্ষেত্রে কৌশলগত ভাবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এখন ভূমিধস, বৃষ্টি প্রভৃতির কারণে উত্তরবঙ্গের যাতায়াত ব্যবস্থা বেশ কিছু ক্ষেত্রে বেহাল হয়ে পড়েছিল। এবার কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রক একগুচ্ছ মেগা সড়ক প্রকল্প ঘোষণা করেছে। যার মধ্যে রয়েছে তিস্তা নদীর ওপর ১,১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ লেনের আধুনিক সেতু নির্মাণ। শিলিগুড়ি টু সিকিম লাইফলাইন, ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর টানেল ও ব্রিজ। সেইসঙ্গে চার রাজ্যকে যুক্ত করে গোরখপুর-শিলিগুড়ি গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে, যেখানে ঘণ্টায় ১২০ কিমি গতিতে ছুটবে গাড়ি।
তিস্তা নদীর ওপর ১,১৭৫ কোটি টাকার নতুন ৬ লেনের মেগা সেতু
উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের মধ্যে যাতায়াত সহজ করতে তিস্তা নদীর ওপর ৬ লেনের একটি বিশাল সেতু নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,১৭৫.৫৯ কোটি টাকা। সেবকে তিস্তা নদীর ওপর ৬.৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু তৈরি করা হবে। অত্যাধুনিক এই সেতুটি হবে ৬ লেনের। উল্লেখ্য, ১৯৪১ সালে তৈরি হয়েছিল করোনেশন ব্রিজ। দীর্ঘদিন ধরেই সেই করোনেশন ব্রিজের উপর চাপ বাড়ছিল। পাশাপাশি রয়েছে শিলিগুড়ি করিডোর। দেশের নিরাপত্তায় যার ভৌগোলিক গুরুত্ব অপরিসীম। নতুন ৬ লেনের সেতু হলে করোনেশন ব্রিজের উপর ট্রাফিকের চাপ কমবে। পাশাপাশি ভারী পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলেও সুবিধা হবে। যা সেনার পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।
১০ নম্বর জাতীয় সড়কে টানেল, ব্রিজ
সিকিম ও শিলিগুড়ির মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘লাইফলাইন’ বলা হয় ১০ নম্বর জাতীয় সড়ককে। কিন্তু প্রতি বছর বর্ষায় বৃষ্টি ধস নামার কারণে জাতীয় সড়ক বার বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। যার ফলে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগ ব্যাহত হয়। বাসিন্দা থেকে পর্যটকরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার রানিপুল থেকে রংপো পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দু' লেনের মহাসড়ক তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একাধিক টানেল ও ব্রিজ থাকবে সেখাবে। এই মহাসড়ক তৈরিতে খরচ হবে প্রায় ৭০৬.৬৩ কোটি টাকা। এই পুরো প্রকল্প নির্মাণে সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে মোট ১২ বছর।
গোরখপুর-শিলিগুড়ি গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে
গোরখপুর-শিলিগুড়ি গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে উত্তর ও পূর্ব ভারতের চার রাজ্য— উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামকে এক সুতোয় বাঁধার পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় সরকারের। ৬ লেনের এই এক্সপ্রেসওয়েতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিমি গতিতে ছুটতে পারবে গাড়ি। গোরখপুর-শিলিগুড়ি গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে উত্তর প্রদেশের কুশীনগর ও দেওরিয়া থেকে শুরু হয়ে বিহারে ঢুকবে। তারপর বিহারের ৮ট জেলা— পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, শিবহর, সীতামঢ়ী, মধুবাণী, সুপাউল, আরারিয়া এবং কিষাণগঞ্জের মধ্যে দিয়ে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকবে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলা ছুঁয়ে শিলিগুড়ি হয়ে আসাম পর্যন্ত যাবে। এই পুরো এক্সপ্রেসওয়েটি হবে সম্পূর্ণ অ্যাক্সেস-কন্ট্রোলড। মানে এই গোরখপুর-শিলিগুড়ি গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠানামা করার জন্য নির্দিষ্ট এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্ট থাকবে। যেখামে সেখানে গাড়ি থেকে ওঠানামা করা যাবে না। এর ফলে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)