অচিরেই মিশে যাবে গঙ্গা-ফুলহার? তারপর দুই নদীর মিলিত উজানে প্লাবিত হবে বিস্তীর্ণ অঞ্চল? আতঙ্কে কাঁপছে বসতি
Landslide in Malda: শুধু গঙ্গা নয়, ফুলহার ও কোশি নদীর পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। অর্থের সমস্যা নেই। ঝাড়খণ্ড ও বিহারের সঙ্গে সমন্বয় করে সকলের সম্মতিতে ভাঙন রোধের কাজ করা সম্ভব। আগামী ২৭ তারিখে এ বিষয়ে দিল্লিতে বৈঠকও রয়েছে।
রণজয় সিংহ: গত ৫০ বছরে প্রায় ৬ কিলোমিটার নিজের গতিপথ থেকে সরে এসেছে গঙ্গা। বর্তমানে গঙ্গা ও ফুলহার নদীর দূরত্ব কেবলমাত্র ৭৫০মিটার। আগামী ছয়-সাত বছরে গঙ্গা ও ফুলহার নদী মিশে যাওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। তা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। ডুবে যেতে পারে বিস্তীর্ণ এলাকা।
গঙ্গা, ফুলহার, কোশি
রবিবার আকাশপথে মালদার ভূতনি ও রতুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা পরিদর্শনের পর এমনই আশঙ্কার কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। তিনি জানান, শুধু গঙ্গা নয়, ফুলহার ও কোশি নদীর পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। তাঁর কথায়, 'আমি একা এই সমস্যার সমাধান করতে পারব না। আমরা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছি। অর্থের কোনও সমস্যা নেই। ঝাড়খণ্ড ও বিহারের সঙ্গে সমন্বয় করে সকলের সম্মতিতে ভাঙন রোধের কাজ করা সম্ভব।' আগামী ২৭ তারিখে এ বিষয়ে দিল্লিতে একটি বৈঠকও রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ভয়াল ভাঙনের কোপে জেটি, অচিরেই তলিয়ে যেতে পারে নদীগর্ভে; বিশ্রামঘরটিও কি বাঁচবে
নদীগর্ভে বিলীন
উল্লেখ্য, প্রতি বছর গঙ্গার ভাঙনে মালদহের মানিকচকের ভূতনি, ইংলিশবাজার, রতুয়া এবং কালিয়াচক-৩ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদীগর্ভে বিলীন হয় বসতভিটে ও চাষের জমি। এ বছরও বন্যা ও ভাঙনের জেরে বিপর্যস্ত হয়েছেন বহু মানুষ। গঙ্গার গতিপথ পরিবর্তন এবং ফুলহারের সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগের আশঙ্কায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থায়ী ভাঙন রোধে আন্তঃরাজ্য সমন্বয়ের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে মালদহের নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
কালনাতেও ভাঙন
ওদিকে কালনাতেও ভাঙন! নদীভাঙনের আশঙ্কায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়াল কালনার কিশোরগঞ্জ এলাকায়। গত ৭ দিন ধরে এলাকায় ফের নতুন করে শুরু হয়েছে নদীভাঙন। আর তাতেই বিপদের মুখে পড়েছে নদীর পাড়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ জেটি। জেটির সংলগ্ন অংশে ভাঙন শুরু হওয়ায় যেকোনও সময় জেটিটিও নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নদীগর্ভে জেটি?
এলাকাবাসীদের আশঙ্কা, অবিলম্বে ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে জেটিটি। বিগত সরকারের আমলে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছিল এই জেটি। কিন্তু বর্তমানে নদীভাঙনের জেরে সেই জেটির অস্তিত্ব নিয়েই তৈরি হয়েছে সংশয়।
তলিয়ে যাবে বিশ্রামঘরও
পাশাপাশি স্থানীয় এলাকায় রয়েছে একটি বিশ্রামঘরও। সেটিও নদীভাঙনের ক্ষতির মুখে। যেভাবে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেওয়ার আগেই প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। সময়মতো ভাঙন রোধের ব্যবস্থা না করা হলে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত জেটিটি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন দেখার, নদীভাঙন রুখতে প্রশাসনের তরফে কত দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)