রণজয় সিংহ: মালদহে ভূতনির অবস্থা কী তা দেখেছে রাজ্যাবাসী। বিরাট এলাকা থেকে জল সরছে না। চরম বিপাকে মানুষজন। রবিবার মালদহের ভূতনি ও রতুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা আকাশপথে পরির্ধশ করলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল। পরিস্থিতি এমনই কয়েক বছরের মধ্যেই মিশে যেতে পারে গঙ্গা ও ফুলাহার নদী। তাতে গ্রামের পর গ্রাম বিলিন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, গত ৫০ বছরে প্রায় ৬ কিলোমিটার নিজের গতিপথ থেকে সরে এসেছে গঙ্গা। বর্তমানে গঙ্গা ও ফুলহার নদীর দূরত্ব কেবলমাত্র ৭৫০মিটার। আগামী ৬-৭ বছরে গঙ্গা ও ফুলাহার নদী মিশে যাওয়ার সম্ভবনা তৈরী হয়েছে। তা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। ডুবে যেতে পারে বিস্তীর্ণ এলাকা।
রবিবার আকাশপথে মালদার ভূতনি ও রতুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা পরিদর্শনের পর এমনই আশঙ্কার কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। তিনি জানান,শুধু গঙ্গা নয়,ফুলাহার ও কোশি নদীর পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হয়েছে।
মনোজ আগরওয়ালের কথায়, “আমি একা এই সমস্যার সমাধান করতে পারব না। আমরা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছি। অর্থের কোনও সমস্যা নেই। ঝাড়খণ্ড ও বিহারের সঙ্গে সমন্বয় করে সকলের সম্মতিতে ভাঙন রোধের কাজ করা সম্ভব। দুই নদী একসঙ্গে মিশে গেলে রতুয়ায় ডল ঢুকে যাবে, মালদা টাউনে জল ঢুকে যাবে। রেল লাইন ডুবে যাবে। সব দিক ডিসটার্ব হয়ে যাবে। এলাকা সব জায়গা ঘুরে দেখা হয়েছে। ” আগামী ২৭ তারিখে মালদহের ভাঙ্গন নিয়ে দিল্লিতে একটি বৈঠকও রয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর গঙ্গার ভাঙনে মালদার মানিকচকের ভূতনি, ইংলিশবাজার, রতুয়া এবং কালিয়াচক-৩ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদীগর্ভে বিলীন হয় বসতভিটে ও চাষের জমি। এ বছরও বন্যা ও ভাঙনের জেরে বিপর্যস্ত হয়েছেন বহু মানুষ। গঙ্গার গতিপথ পরিবর্তন এবং ফুলহরের সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগের আশঙ্কায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থায়ী ভাঙন রোধে আন্তঃরাজ্য সমন্বয়ের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে মালদার নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)