২৫ বছরের রাজনৈতিক হিংসার 'খতিয়ান'! নিহতদের পরিবারকে সরকারি চাকরি, আর্থিক সাহায্য
Jobs for political violence victims' families নবান্ন সূত্রে খবর, বিজ্ঞাপন দিয়ে আবেদন চাওয়া হবে। তারপর জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই করার পর মিলবে চাকরি।
কমলাক্ষ ভট্টাচার্য: বদলের বাংলায় বড় সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক হিংসা নিহতদের পরিবারকে চাকরি দেবে সরকার। সঙ্গে আর্থিক সাহায্যও। গত ২৫ বছরে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ। নবান্ন সূত্রে খবর, বিজ্ঞাপন দিয়ে আবেদন চাওয়া হবে। তারপর জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই করার পর মিলবে চাকরি।
আরও পড়ুন: দু’ঘণ্টা বাজি পোড়ানোর অনুমতি, ফানুস ওড়াতে লাইসেন্স! কালীপুজো-দীপাবলিতে কড়া সরকার
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসা নতুন কিছু নয়। কম-বেশি সেই হিংসার বলি হতে হয়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দলের কর্মীদেরই। ২০১৯ থেকে ২০২১। বিজেপির সূত্রে খবর, এই ক'বছরে রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ গিয়েছে দলের ৩১৫ কর্মী। ছাব্বিশে বিধানসভা ভোটে আগে যে সংকল্পপত্র প্রকাশ করেছি, তাতে নিহতদের পরিবারকে চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বস্তুত, মন্ত্রিসভায় আলোচনাও হয়েছে বলে খবর। এবার পরিকল্পনাই এবার বাস্তবায়নের পথে সরকার। ২-১ দিনের মধ্যে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। সূত্রের খবর তেমনই।
কী প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে? মমতা তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্য়ায়ের দাবি, 'সঠিক ভিত্তিতে যদি করে থাকেন, তাহলে ভালো। অনেক সময় অনেক কর্মী রাজনৈতিক লড়াইয়ে মারা গিয়েছে, তাদের যদি স্বীকৃতি দেওয়া তাহলে ভালো। কিন্তু সেটাতো করবে না। বিজেপি কর্মীদের খুঁজে খুঁজে আক্রান্ত বানাবে, এবং তাদেরকে সরকারিভাবে কোনও একটা সাহায্য দেওয়া হবে। স্ক্রুটিনি যথার্থ হবে কিনা, সেটাও দেখার আছে'।
ঋত তৃণমূলের নেতা ঋজু দত্তের প্রতিক্রিয়া, 'এই উদ্য়োগ নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই, সাধু উদ্যোগ। কিন্তু আশা করব, রাজনৈতিক হিংসায় বিজেপি কোনও কর্মী যদি মারা যান, তার পরিবার চাকরি পাবে। একইভাবে বামফ্রন্ট আমলে তৃণমূল বা কংগ্রেসের যারা মারা গিয়েছেন রাজনৈতিক হিংসার কারণে, তারা যেন চাকরিটা পায়। একটা রাজনৈতিক দলে অধীনে যেন প্রকল্পটা না থাকে, নিয়মটা যদি সবদলের ক্ষেত্রে সমান হয়, তাহলে রাজনীতির কোনও জায়গা নেই। যদি দেখা যায় যে শুধু বিজেপি কর্মী যাঁরা মারা গিয়েছেন রাজনৈতিক হিংসার জন্য়, তাঁরাই চাকরি পাচ্ছেন। আর তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা আর সিপিএমের কর্মীরা, তাঁরা বঞ্চিত। তাহলে এটা একতরফা হয়ে যাবে, তাহলে সেটা সরকারের কাজ নয়'।
আরও পড়ুন: সন্দীপের পর এবার সুমন, আরজি কর দুর্নীতি মামলায় ফের জামিন
সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বক্তব্য, 'গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কংগ্রেস আমলে, তাদের একটা ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা কার্যকর করেছিল বামফ্রন্ট সরকার। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার আদেশটা প্রত্যাহার করে নেয়। সেটার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করে জিতি এবং ওটাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে সরকার। সরকার আগে ওই মামলাটা প্রত্য়াহার করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত যারা ছিল, তাদের প্রত্য়েকের ভাতাটা আগে পুনস্থাপনা করুন। তারপর ওইসব লোকভোলানো যুক্তি খাঁড়া করবেন'।
কংগ্রেসের আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় বলছেন, 'রাজনৈতিক খুন, রাজনৈতিক আন্দোলন করতে গিয়ে মারা যাওয়া মানুষজন, তাঁরা সবসময় শ্রদ্ধার জায়গায় থাকেন। পশ্চিমবঙ্গের দলবদলু রাজনীতিকদের কৃপায় একটা রীতি হয়ে গিয়েছে, অর্থ দিয়ে সবকিছু মাপা'। তাঁর স্পষ্ট কথা, যতগুলি রাজনৈতিক খুন আছে, রাজ্য সরকার দ্রুত তদন্ত করিয়ে যাঁদের শাস্তি পাওয়া দরকার, তাঁদের শাস্তি দেওয়া হোক। সেটা হচ্ছে না। চাকরি দেবেন, কী দেবেন, সেটা সর্বদল বৈঠকে আলোচনা করা যেতে পারে, বিধানসভায় আলোচনা হয়ে যেতে পারে। বলতে বাধ্য হচ্ছি, ছাব্বিশ হাজার যাঁরা ন্যয্য চাকরিপ্রার্থী ছিলেন, সরকার কিন্তু এখনও পর্যন্ত চাকরি দিতে পারে সেটা গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, SLST হতে পারে'।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)