চোরবাগানের জেরে, কালী পুজোয় 'আলোয় থাকবে ভূত'
Kali Puja: মণ্ডপে ভূত থাকুক, কিন্তু পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে
পিয়ালি মিত্র: দীর্ঘ বহু বছর ধরেই কালীপুজো করে আসছে কলকাতার গাঙ্গুলিবাগানের বিদ্যাসাগর ইউনাইটেড ক্লাব। প্রতি বছরই নতুন নতুন থিমের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে অভিনব ভাবনা তুলে ধরে এই পুজো কমিটি। এবছরও তাদের প্রাথমিক ভাবনা ছিল ‘ভয়কে জয়’।
মূলত ‘চিচিং ফাঁক’ ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়ার কথা ছিল মণ্ডপ। পরিকল্পনা ছিল, দু’দিক থেকে পাহাড়ের মতো কাঠামো খুলে যাবে, যার ভিতরে থাকবে বেশ কিছু ভূত। গোটা মণ্ডপ জুড়েই থাকত অন্ধকারের আবহ। কিন্তু চোরবাগানের ঘটনার পর কালীপুজোর মণ্ডপ ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কলকাতা পুলিসের কড়া নির্দেশিকা জারির পর বদল আনতে হয়েছে সেই পরিকল্পনায়।
পুলিসের স্পষ্ট নির্দেশ, মণ্ডপে ভূত থাকলেও কোনওভাবেই দর্শকদের ভয় দেখানো যাবে না। রাখা যাবে না অন্ধকার মণ্ডপও। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ নির্দেশিকা।
পুলিসের নির্দেশিকার কথা মাথায় রেখেই নিজেদের প্রাথমিক ভাবনায় পরিবর্তন এনেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ‘চিচিং ফাঁক’-এর পরিবর্তে এবার তৈরি হচ্ছে একটি হাভেলি। মণ্ডপে থাকবে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। ভূতের সাজে কয়েকজন বহুরূপী থাকলেও তাঁরা দর্শকদের একেবারে সামনে এসে ভয় দেখাবেন না। বরং নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে নিজেদের অভিনয়ের মাধ্যমে থিমের ভাবনাকে ফুটিয়ে তুলবেন।
ক্লাব কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, পুজোর থিমের থেকেও মানুষের নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই দর্শকদের আনন্দ ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত।
আরও পড়ুন-গত ২৫ বছর রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের একজন পাবেন চাকরি, জেনে নিন যোগ্যতা-শর্ত
টালিগঞ্জের রসা শক্তি সেবক সংঘের কালীপুজো এ বছর ৮১ বছরে পা দিয়েছে। প্রতি বছরই নতুন নতুন থিমের মাধ্যমে দর্শকদের চমক দেয় এই পুজো কমিটি। তবে তাদের থিমের অন্যতম আকর্ষণ থাকে ভূত। অন্ধকার মণ্ডপের আবহে ভূতের নানা কারসাজি দেখতে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। কিন্তু এ বছর সেই চেনা আবহেই আসছে বদল। ভূত থাকলেও মণ্ডপ আর রাখা যাবে না অন্ধকারে।
চোরবাগানের ঘটনার পর কালীপুজোর মণ্ডপ ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে কলকাতা পুলিশের কড়া নির্দেশিকা জারি হয়েছে। পুলিশের স্পষ্ট বার্তা, মণ্ডপে ভূত থাকুক, কিন্তু পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। এন্ট্রি ও এক্সিট গেট থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই মানতে হবে নির্দিষ্ট নিয়ম।
পুজো কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকার ও পুলিশের নির্দেশিকা মেনেই এ বছর পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। মণ্ডপ অন্ধকারে রাখা হবে না। ভূত থাকবে, তবে পর্যাপ্ত আলোর পাশাপাশি অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
রবিবার মণ্ডপে গিয়ে দেখা গেল, দমকলের আধিকারিকরা পরিদর্শনে এসেছেন। মণ্ডপে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে কি না, দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, এন্ট্রি ও এক্সিট গেট যথেষ্ট প্রশস্ত কি না এবং দমকলের নির্ধারিত বিধি মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন তাঁরা।
এমনকী, মণ্ডপের প্রবেশপথের পাশে থাকা ছোট এক্সিট গেট ছিল আগে। কিন্তু এবার এক্সিট জায়গা প্রশস্ত করতে একটু পাঁচিল ভেঙে এক্সিট গেট আরও চওড়া করার কাজ শুরু করেছে পুজো কমিটি। অর্থাৎ, ভূতের আকর্ষণ বজায় রেখেই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না রসা শক্তি সেবক সংঘ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)