'বাজি ফাটালে অনেক অসুখ-বিসুখও সেরে যায়'! কালীপুজোয় বিতর্কে পাপিয়া
Papiya Adhikari: 'আশ্চর্য নেই। এইরকমই বিজ্ঞান বিরোধী মানসিকতাকে প্রচার করার জন্যই RSS-র জন্ম হয়েছে। RSS-বিজেপি এটাই চাই'। পালটা সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষের।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কালীপুজো বাজি ফাটে। কিন্ত বাজি ফাটালে কী হয়? 'বাজি ফাটালে অনেক অসুখ-বিসুখও সেরে যায়'! বিতর্কে টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। তাঁর মন্তব্যে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন: উৎসবের মাঝেই গড়িয়ায় হাড়হিম কাণ্ড! লিভ-ইন পার্টনারকে নৃশংস খুন, গ্রেফতার প্রেমিকা ও তার মা
বদলের বাংলায় প্রথম কালীপুজো
বদলের বাংলায় প্রথম কালীপুজো। বাজি পোড়োনায় এবার কড়া নিয়ম। নির্দেশিকা জারি করে বাজি পোড়ানোর সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। বলা হয়েছে, রাত আটটা থেকে দশটা। মাত্র এই দু'ঘন্টাই বাজি পোড়ানো যাবে, তাও অনুমোদিত গ্রিন বাজি! ওই সময়ের আগে বা পরে বাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ। শব্দের মাত্রা ১২৫ ডেসিবেলের বেশি হবে না। বস্তুত, দীপাবলীতে ফানুস ওড়ানোর জন্য লাইসেন্স প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে বাজি ফাটাতে উত্সাহ দিতে গিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বসলেন বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া।
বিতর্কে পাপিয়া
এদিন নিজের কেন্দ্র টালিগঞ্জেই একটি কালীপুজোর উদ্বোধনে যান পাপিয়া। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন বাজি তো হবেই। কালীপুজোয় বাজি ফাটবে না! ফলে বাজিটাই হোক। কিন্তু সচেতনভাবে যেভাবে নির্দেশ থানা, সেভাবেই সেইভাবেই আমরা বাজি ফাটাব'। এরপরই বিধায়কের মন্তব্য, 'বাজি ফাটালে অনেক অসুখ-বিসুখও সেরে যায়'!
আরও পড়ুন: জন্মদিনের পরই বড় ধাক্কা! কালীঘাট কাণ্ডে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই FIR পুলিসের
'বিজ্ঞান বিরোধী মানসিকতা প্রচার করার জন্যই RSS-র জন্ম'
সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া, 'আশ্চর্য নেই। এইরকমই বিজ্ঞান বিরোধী মানসিকতাকে প্রচার করার জন্যই RSS-র জন্ম হয়েছে। RSS-বিজেপি এটাই চাই। এর আগে, একটা সময়ে ওরা গোমূত্র খাইয়ে করোনা সারাচ্ছিল। তখন বলেছিল, গোমূত্র খেলে করোনা সেরে যায়। এখন শুনছি, বাজি ফাটলে নাকি অসুখ সেরে যায়'! সঙ্গে কটাক্ষ, 'পাপিয়া অধিকারীর এই যে মাথার অসুখ, এটা কোন মন্ত্রে সারবে, কোনও ঔষুধে সারবেন, সত্যিই আমরা জানি না'।
শতরূপ বলেন, 'রাজ্যটাকে সারানোর একটা ঔষুধ হচ্ছে, বিজেপিকে রাজ্য় থেকে বিদায় করা। যদি বিজেপি রাজ্যে থাকে, তাহলে এই ধরণের অবৈজ্ঞানিক কুসংস্কারাছন্ন কথার্বাতা আমাদের ভবিষ্যতেও শুনতে হবে। এরপর সেইসব দিন ফিরে আসছে যখন বলবে ওঝা এসে মন্ত্র পড়লে সাপের কামড়ের বিষ সেরে যায়। শরীর খারাপ হলে ডাক্তারখানা না নিয়ে গিয়ে মাদুলি তাবিজ পড়ালে তাঁর জ্বর সেরে যাবে, তার ক্যানসার সেরে যাবে। সেইসব দিন এবার আবার ফিরিয়ে আনছে! সেইদিন ফিরে আসার আগেই এদেরকে রাজ্য থেকে বিদায় করতে হবে। না হলে এগুলিই আমাদেরকে শুনতে হবে। একটা বিধায়কের বলা কথা সরকারের বয়ান হয়ে যাবে'।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)