জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেক সময় রোগীদের বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয় ওষুধ কেনার জন্য। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে যাঁদের ওষুধ খেতে হয়, তাঁদের কাছে এই খরচ বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। এবার সেই খরচ কিছুটা কমানোর লক্ষ্যেই রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে জনঔষধি কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের ১৬টি সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে এই কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
কী এই জনঔষধি কেন্দ্র?
প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল সাধারণ মানুষের কাছে কম দামে মানসম্মত জেনেরিক ওষুধ পৌঁছে দেওয়া। জেনেরিক ওষুধে মূল ওষুধের কার্যকর উপাদান একই থাকে, তবে ব্র্যান্ডের নামের বদলে ওষুধের জেনেরিক নাম ব্যবহার করা হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডেড ওষুধের তুলনায় কম দামে ওষুধ কেনার সুযোগ পাওয়া যায়। সরকারি হাসপাতালের ভিতরে বা হাসপাতাল চত্বরে এই কেন্দ্র চালু হলে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে। তবে কোন ওষুধ কত দামে পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ওষুধের প্রাপ্যতা ও নির্ধারিত দামের উপর।
কোন মডেলে চালু হবে কেন্দ্রগুলি?
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দফতর সূত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই কেন্দ্রগুলি চালানো, পরিষেবা দেওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা PPP মডেল নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, সরকারি ব্যবস্থার সঙ্গে বেসরকারি সংস্থাকে যুক্ত করে কেন্দ্রগুলি পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারবে, এমন সংস্থাকে বেছে নিয়ে কেন্দ্রগুলি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে উদ্যোগের কথা প্রকাশ্যে এলেও সব কেন্দ্র কবে থেকে সাধারণ মানুষের জন্য খুলবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সময়সীমা এখনও নিশ্চিত নয়।
কলকাতার কোন কোন হাসপাতালে মিলবে সুবিধা?
প্রথম পর্যায়ে কলকাতার ১১টি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজকে এই পরিকল্পনার আওতায় রাখা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে- এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ কলকাতা, ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এসএসকেএম), ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রি (আইডি), চিত্তরঞ্জন সেবা সদন, লেডি ডাফরিন ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল, শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল, কলকাতা পুলিস হাসপাতাল, স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন, ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, ড. আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল।
কলকাতার বাইরেও কোন কোন হাসপাতালে হবে কেন্দ্র?
কলকাতার বাইরে আরও পাঁচটি সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজকে এই পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। সেগুলি হল- নদিয়া: কল্যাণীর গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতাল, মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, উত্তর ২৪ পরগনা: সাগর দত্ত হাসপাতাল, পশ্চিম মেদিনীপুর: মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, হাওড়া: উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।
রোগীদের কী সুবিধা হতে পারে?
জনঔষধি কেন্দ্র চালু হলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীরা কম দামে জেনেরিক ওষুধ কেনার সুযোগ পেতে পারেন। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসায় নিয়মিত ওষুধ প্রয়োজন হয় যাঁদের, তাঁদের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ আর্থিকভাবে সহায়ক হতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, কেন্দ্রগুলি চালুর পরিকল্পনা ও টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার অর্থ এই নয় যে সব হাসপাতালেই ইতিমধ্যে পরিষেবা চালু হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রগুলি চালুর নির্দিষ্ট তারিখ, ওষুধের তালিকা এবং পরিষেবা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য স্বাস্থ্য দফতরের পরবর্তী ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)