'মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করছেন, মানুষ বলব না...', চোরবাগানকাণ্ড নিয়ে কাকে নিশানা সুকান্তর?
Sukanta Majumdar: সুকান্ত বলেন, দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। আমরা মর্মাহত। এখানে রাজনীতি করতে মানা করব
অরূপ লাহা: 'মৃতদেহের রাজনীতি করছেন কুণাল ঘোষ। মানুষ বলব না শকুন?’ চোরবাগান-কাণ্ডে তৃণমূলকে তোপ সুকান্ত মজুমদারের। শনিবার সন্ধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের মেমারির পালসিটে এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে যান সুকান্ত মজুমদার।
কলকাতার চোরবাগান পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় কলকাতার পুলিস কমিশনার অজয় নন্দকে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর সেই দাবির পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার । তাঁর অভিযোগ, মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করছে তৃণমূল। কুণাল ঘোষকে নিশানা করে তিনি বলেন, যারা মৃতদেহের পলিটিক্স করেন মানুষ বলা উচিত তাঁদের? না শকুন বলা উচিত? সেটা আমি জানি না।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন,চোরবাগানকাণ্ডের তদন্ত চলছে। তদন্তে কারও অপরাধ প্রমাণিত হলে কাউকে রেয়াত করা হবে না।
চোরবাগান-কাণ্ডে পুলিসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুজোর আগে যথাযথ পরিদর্শন ও সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল ঘোষ। অন্যদিকে, বিজেপি নেতার বক্তব্য, একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। পুজোর যে ঘটনাটা, আমরা মর্মাহত। এখানে রাজনীতি করতে মানা করব। তাঁর দাবি, বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি বদলে যায় এবং মানুষ উল্টো দিক থেকে ঢুকতে শুরু করেন। প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দ্বিতীয় ঘোষক বাবু চৌধুরীর একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে ক্লাবে গিয়ে থানার বড়বাবু ও ছোটবাবুকে বসে থাকতে দেখেন। কিছুক্ষণ পর চিৎকার করে তাঁরা বেরিয়ে যান। এক পুলিসকর্মী তাঁকে ঘোষণা করতে বলেছিলেন বলেও পোস্টে দাবি করা হয়। এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতার বক্তব্য, তদন্তে যদি কারও নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়,তা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।
আরও পড়ুন-বছরে ১ লক্ষ চাকরি, বাল্যবিবাহ রোধ, কাকদ্বীপকে জেলা! গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতা পুরসভা নির্বাচন নিয়েও মুখ খোলেন সুকান্ত। তৃণমূলের কাউন্সিলররা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তারা যোগাযোগ করুক, তারা কলিং বেল বাজাক, কিন্তু আমরা দরজা খুলব কেন? প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের বিজেপির প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁর দাবি, অনেকেই যোগাযোগ করেছে। আমরা কলিং বেলের আওয়াজ শুনতে আগ্রহী নই। আমাদের যা আছে, তাই যথেষ্ট।
আগামী পুর নির্বাচনে বিজেপি বোর্ড গঠন করবে বলেও দাবি করেন তিনি। কলকাতা, হাওড়া-সহ বিভিন্ন পুরসভার নির্বাচন কবে হবে, সেই প্রশ্নে তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের সময়সূচি ঠিক করবে নির্বাচন কমিশন ও সরকার। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নির্বাচন হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)