লাখো মানুষের ভিড়ে রানীগঞ্জে প্রজাপতি দুর্গার বিদায়, ঢাকের তালে নাচলেন বিধায়ক পার্থ ঘোষ
Durga Puja: আবেগ আর উৎসবের মেলবন্ধনে রানীগঞ্জের এই বিসর্জন পর্ব কার্যত জনসমুদ্র
বাসুদেব চট্টোাপাধ্যায়: আড়ম্বর, ঐতিহ্য আর জনজোয়ারে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাল রানীগঞ্জ। লক্ষ্মীপুজোর পর নির্দিষ্ট বুধবারে বিসর্জনের রীতি মেনে এ বারও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হল আসানসোলের রানীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ষোল আনার দুর্গা, যা ‘প্রজাপতি দুর্গা’ নামেও পরিচিত।
এ বছর ১৩০ বছরে পা দিয়েছে এই পুজো। দেবীর বিদায়পর্বকে ঘিরে বুধবার রানীগঞ্জ শহরে মানুষের ঢল নামে। বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে শিল্পীদের মনোজ্ঞ পরিবেশনা আর ভক্তদের উচ্ছ্বাসে উৎসবের চেহারা নেয় গোটা শহর। সেই শোভাযাত্রায় অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠলেন রানীগঞ্জের বিধায়ক তথা আইনজীবী পার্থ ঘোষ। এতোয়ারি মোড়ে বাদ্যযন্ত্রের তালে পুজো উদ্যোক্তা ও অন্যদের সঙ্গে তাঁকেও নাচতে দেখা যায়।
প্রতিবছরই এই বিসর্জন শোভাযাত্রা দেখতে রানীগঞ্জে ভিড় জমান দূরদূরান্তের মানুষ। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শোভাযাত্রার বিভিন্ন পর্বে অংশ নেন নানা প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীরা। তাঁদের পরিবেশনা দেখতে রাস্তার দু’ধারে অপেক্ষা করেন অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ। ভক্তি, আবেগ আর উৎসবের মেলবন্ধনে রানীগঞ্জের এই বিসর্জন পর্ব কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বিধায়ক পার্থ ঘোষ। তাঁর কথায়, এই শোভাযাত্রা দেখে মনে হচ্ছে যেন ব্রিগেড গ্রাউন্ডে কোনও বড় জনসভা হচ্ছে, বরং তার থেকেও বেশি কিছু। রানীগঞ্জের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাঁকে মুগ্ধ করেছে বলেও জানান তিনি। বিধায়কের দাবি, এই প্রথম এত বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এমন বিসর্জন শোভাযাত্রা প্রত্যক্ষ করলেন তিনি। তাঁর কথায়, রানীগঞ্জের মানুষ ধর্মপ্রাণ। এখানে সব ধর্মকে সমান চোখে দেখা হয় এবং প্রতিটি উৎসবই নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন-কার দখল থাকবে টোটো ইউনিয়ন? রণক্ষেত্র সুভাষগ্রাম স্টেশন চত্বর
আসানসোলের রানীগঞ্জের ব্যবসায়ী সমাজের উদ্যোগে দীর্ঘ ১৩০ বছর ধরে হয়ে আসছে এই ষোল আনার দুর্গাপুজো। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, একবার একটি প্রজাপতি উড়ে এসে দেবী দুর্গার বুকে পড়েছিল। সেই ঘটনা থেকেই এই পুজোর নাম হয় ‘প্রজাপতি দুর্গাপুজো’। সেই স্মৃতিকে ধরে রাখতে দেবীর বুকে বসানো হয় সোনার প্রজাপতি। আজও সেই বিশেষ বৈশিষ্ট্য এই পুজোকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছে।
রানীগঞ্জের ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে মা লক্ষ্মীর আরাধনার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সেই ঐতিহ্য মেনেই লক্ষ্মীপুজোর পর যে বুধবার পড়ে,সেই দিনই এই দুর্গার বিসর্জন সম্পন্ন করা হয়। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই রীতি আজ রানীগঞ্জের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
১৩০ বছরের ঐতিহ্য, সোনার প্রজাপতির বিশেষত্ব আর লাখো মানুষের আবেগ—সব মিলিয়ে রানীগঞ্জের প্রজাপতি দুর্গার বিসর্জন শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, শিল্পাঞ্চলের মানুষের মিলনোৎসবও। দেবীর বিদায়ের মুহূর্তে তাই বিষাদের সুর ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠল ঐতিহ্য রক্ষার আনন্দ ও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)