বিশ্বজিত্ মিত্র: ২০১৮ সালের ২৪ মে। নদীয়ার হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মেলের মাঠ এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব শিকদারকে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। বিপ্লব শিকদার ছিলেন বিজেপির বুথ সভাপতি।
পরিবারের অভিযোগ, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরেই তাঁকে খুন হতে হয়েছিল। পরিবারের দাবি, রাত দুটো থেকে আড়াইটে নাগাদ বিপ্লব শিকদার যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, সেই সময় তিন-চারজন দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে বাড়িতে ঢুকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের হামলার প্রতিবাদ করেছিলেন বিপ্লব। এমনকী সংশ্লিষ্ট বুথে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিজেপি জয়লাভ করায় তাঁর উপর রাজনৈতিক আক্রোশ আরও বেড়ে যায়। এই ঘটনায় মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন। কিন্তু ঘটনার আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও সুবিচার পাননি বলে দাবি নিহতের পরিবারের।
সম্প্রতি রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি দেওয়ার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে পরিবার। তাদের বক্তব্য, সরকার মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে চাকরির প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাবার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
নিহত বিপ্লব শিকদারের ছেলে সুফল শিকদারের কথায়, "আমার বাবাকে যারা বাড়িতে ঢুকে গুলি করে খুন করেছিল, তাদের প্রত্যেকের সঠিক বিচার চাই। এখনও অভিযুক্তদের অনেকে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রথমে তাদের গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। তারপর আমার চাকরির বিষয়টি বিবেচনা করা হোক। সরকার মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু আট বছর ধরে বাবার হত্যার বিচার না পাওয়ার যন্ত্রণা এখনও আমাদের বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।"
সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি আট বছর আগের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিই এখন নিহত বিপ্লব শিকদারের পরিবারের প্রধান দাবি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)