রাজ্যের ৭ম বেতন কমিশন নিয়ে বিরাট আপডেট: কোন কর্মীদের ভাগ্য খুলছে নতুন বেতন কমিশনে? অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বড় চমক
West Bengal 7th Pay Commission: রাজ্যের ২৫টি সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অশিক্ষক কর্মী ও ১৪টি উন্নয়ন পর্ষদকে সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় আনল নবান্ন। খতিয়ে দেখা হবে বেতন ও চাকরির শর্তাবলী।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পর এবার সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অশিক্ষক কর্মী এবং বিভিন্ন স্বশাসিত উন্নয়ন পর্ষদের কর্মীদের দিকে নজর দিল নবান্ন। রাজ্য অর্থ দফতর (Finance Department) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে সপ্তম বেতন কমিশনের (7th Pay Commission) পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মীদের বর্তমান বেতন কাঠামো (Pay Scale) এবং চাকুরির শর্তাবলী (Terms of Service) পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে রাজ্য সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে এই বেতন কমিশন।
২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অশিক্ষক কর্মীদের নজরদারি আওতায়
রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় অন্যতম চালিকাশক্তি হলেন অশিক্ষক কর্মীরা (Non-Teaching Staff)। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের ২৫টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অশিক্ষক কর্মীদের বেতন কাঠামো খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিশনকে। এই তালিকায় রয়েছে:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়
রবীন্দ্রভারতী, বর্ধমান, কল্যাণী, উত্তরবঙ্গ ও আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়-সহ একাধিক ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
স্কুল শিক্ষা পর্ষদ ও কারিগরি শিক্ষা পরিষদ
শুধু বিশ্ববিদ্যালয় স্তরেই নয়, স্কুল শিক্ষার মূল প্রশাসনিক সংস্থাগুলিকেও এই পর্যালোচনার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)
মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ (Madrasah Education Board)
এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ষদের নিয়মিত কর্মীদের বেতন কাঠামো খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সংক্রান্ত রাজ্য কাউন্সিল (State Council of Technical & Vocational Education)-কেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
১৪টি উন্নয়ন পর্ষদ ও একাধিক সরকারি নিগম
গ্রামীণ, পর্যটন এবং আঞ্চলিক পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত ১৪টি উন্নয়ন পর্ষদের (Development Boards) কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার রাস্তা প্রশস্ত হল। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
চ্যাংরাবান্ধা, মুকুটমণিপুর, ফুরফুরা শরিফ
তারকেশ্বর, বর্ধমান, তারাপীঠ-রামপুরহাট এবং গজলডোবা উন্নয়ন পর্ষদ।
এর পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া শ্রেণি ও জনকল্যাণমুখী একাধিক সংস্থাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে-- যেমন সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম (Minority Development and Finance Corporation), ওয়াকফ ট্রাইব্যুনাল, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন উন্নয়ন নিগম এবং আদিবাসী উন্নয়ন সমবায় নিগম।
এখনই কি বেতন বাড়ছে? বাস্তব চিত্র কী?
এই নির্দেশিকার পর কর্মীদের মনে বেতন বৃদ্ধি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসনিক মহলের স্পষ্ট বক্তব্য-- এটি এখনই সরাসরি বেতন বৃদ্ধির (Immediate Salary Hike) ঘোষণা নয়।
মূলত সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বর্তমান পে-স্কেল, পদমর্যাদা ও পেনশনের মতো চাকরির শর্তাবলী খতিয়ে দেখে কমিশন সরকারের কাছে একটি সুপারিশপত্র (Recommendation Report) জমা দেবে। কমিশন যত দ্রুত সম্ভব রিপোর্ট পাঠাবে, তার পরই অর্থ দফতর চূড়ান্ত আর্থিক দায়ভার ও কার্যকর হওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করবে। তবে নবান্নের এই পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট কর্মীমহলে দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করার এক ইতিবাচক বার্তা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)