নেট ও সোশ্যালের যুগে ফিরছে চিঠি! নতুন করে জেগে উঠার লগ্নে ঐতিহ্য-আবেগ-স্মৃতি-অনুভূতির লাল লাল ডাকবাক্স
Art of Letter Writing: চিঠি একটা ঐতিহ্য, একটা আবেগ। কিন্তু সেই ঐতিহ্য-আবেগ এত তাড়াতাড়ি স্মৃতি হয়ে যাবে, কেউ ভেবেছিল? ঘটনাচক্রে সেটাই ঘটেছে। স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া, হোয়াটসঅ্যাপের যোগাযোগের যুগে হারিয়ে যেতে বসেছে হাতে লেখা চিঠির অভ্যাস ও আন্তরিকতা।
পার্থ চৌধুরী: স্মার্টফোন,সোশ্যাল মিডিয়া এবং হোয়াটসঅ্যাপের দ্রুত যোগাযোগের যুগে হারিয়ে যেতে বসেছে হাতে লেখা চিঠির আবেগ ও আন্তরিকতা। একসময় ডাকবাক্সে পোস্টকার্ড, ইনল্যান্ড লেটার বা খামের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও এখন সেই পরিচিত লাল ডাকবাক্সগুলি প্রায় খালিই পড়ে থাকে। পুরনো সেই ঐতিহ্য এবং অনুভূতিকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে এবার এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বর্ধমানে।
আরও পড়ুন: ল্যান্ডফলের সময়ে গতি ছিল ১৫০ কিমি! প্রবল ঘূর্ণিঝড়
'ধরিত্রী মা-কে রক্ষা করার অঙ্গীকারের চিঠি'
ডাক বিভাগের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ‘স্টার্ট আপ ফাউন্ডেশন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আয়োজন করেছে এক অভিনব ইভেন্টের। ডাক বিভাগের জাতীয় স্তরের পত্রলিখন প্রতিযোগিতা ‘ঢাই আখর’। এই প্রতিযোগিতার মূল বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ধরিত্রী মাকে রক্ষা করার অঙ্গীকারের চিঠি’। তাতেই সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে সংস্থাটি। প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা, দূষণ রোধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষার ভাবনা হাতে লিখে প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন প্রতিযোগীরা। প্রতিযোগিতাটি বয়সভিত্তিক ভাবে দু'টি বিভাগে বিভক্ত-- ১৮ বছরের কম এবং ১৮ বছরের বেশি।
নতুন করে চিঠি লেখা
আয়োজক সন্দীপন সরকার জানান, বিজয় নারায়ণ মহাবিদ্যালয়, কালনা গভর্ণমেন্ট জেনারেল ডিগ্রি কলেজ, পোলবা মহাবিদ্যালয়, তেহট্ট সদানন্দ মহাবিদ্যালয় এবং স্যর রাসবিহারী ঘোষ মহাবিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ইতিমধ্যেই অনেক পড়ুয়া এতে অংশ নিয়ে চিঠি জমা দিয়েছেন।
এ-ফোর মাপের কাগজে বা পোস্টকার্ডে হাতে লেখা চিঠি স্থানীয় পোস্ট অফিসে জমা দেওয়া যাবে। চিঠি পাঠাতে হবে ‘চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল, পশ্চিমবঙ্গ সার্কেল’-এর ঠিকানায়। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর। উদ্যোক্তা ও বিশিষ্টজনেদের আশা, প্রযুক্তির এই সময়ে দাঁড়িয়েও নতুন করে চিঠি লেখার এই অভ্যাস মানুষের অন্তরের গভীর আবেগ ও মানবিক সম্পর্ককে আরও একবার জীবন্ত করে তুলবে।
ভাষার প্রতি আগ্রহ
সন্দীপন সরকার জানান, জেন জি' র মধ্যে এক পুরোদস্তুর চিঠি লেখার অভ্যাস ফেরাতে পারলে ভাষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে।
তরুণ চিকিৎসক শান্তরূপ দে জানান, বার্তা প্রদানের সঙ্গে চিঠি একটা আবেগ বয়ে আনত। এই উদ্যোগ সেই ইমোশনকে মনে করাবে। পার্থপ্রতিম মিত্র লেখালেখি করেন। তিনি এখনও চিঠি লেখেন। ব্যস্ততার যুগে কীভাবে চিঠিকে ফিরিয়ে আনা যায়, এটা তাঁর একটা ভাবনা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)