অমাবস্যার রাতে গভীর জঙ্গল থেকে ভেসে আসত অলৌকিক ঘণ্টাধ্বনি, কে করত রহস্যময় এই কালীপুজো?
Jongla Kali Puja in Falakata: জঙ্গলের মধ্যেই নাকি প্রতি দীপান্বিতা অমাবস্যায় মাঝরাতে ভেসে আসত কাঁসর-ঘণ্টার ধ্বনি। পরের দিন সকালে দেখা যেত, জঙ্গলের এক কোণে দেবী কালীর মূর্তি পূজিত অবস্থায় পড়ে আছে। পুজোর সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সর্বত্র। কে পুজো করল?
তপন দেব: উত্তরবঙ্গের প্রাচীনতম কালীমন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম ফালাকাটার জংলা কালীমন্দির। প্রায় ১৭৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দির ঘিরে আজও রয়েছে বহু কৌতূহল। জানা যায়, এক সময় মুজনাই নদীর তীরে ছিল গভীর অরণ্য। দিনের আলোতেও অন্ধকারে ঢেকে থাকত সেই জঙ্গল। জঙ্গলের মধ্যেই নাকি প্রতি দীপান্বিতা অমাবস্যায় মাঝরাতে ভেসে আসত কাঁসর-ঘণ্টার ধ্বনি। পরের দিন সকালে দেখা যেত, জঙ্গলের এক কোণে দেবী কালীর মূর্তি পূজিত অবস্থায় পড়ে আছে। পুজোর সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সর্বত্র। কে পুজো করল?
আরও পড়ুন: এবার সবচেয়ে বড় কালী? উচ্চতা জানলে চমকে
এসেছিলেন বামাখ্যাপাও
কে বা কারা এই পুজো করতেন, তা জানতেন না কেউই। স্থানীয়রা জানান, এ এক অলৌকিক ঘটনা। এবং এই ঘটনাই পরে এলাকাবাসীদের অনুপ্রাণিত করে সেখানে একটি মন্দির গড়তে। ক্রমে বন কেটে জনবসতি গড়ে ওঠে, আর সেই সঙ্গে তৈরি করা হয় একটি ছোট্ট কালীমন্দিরও। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরটি হয়ে ওঠে বৃহৎ, পূর্ণাঙ্গ এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। কথিত আছে, তন্ত্রসাধক বামাখ্যাপা নিজে এক সময় এই জংলা কালীমন্দিরে এসে ধ্যান ও সাধনা করেছিলেন। মন্দির প্রাঙ্গণে এখনও রয়েছে তাঁর ধ্যানের বেদী।
নদীপথে ডাকাত
আধুনিকতার ঢেউ এলেও মন্দিরের পুরনো আচার, নিয়ম, আর ভক্তির ধারা অবশ্য আজও অটুট। দীপান্বিতা অমাবস্যায় মন্দির চত্বর এখনও ভরে ওঠে হাজার হাজার ভক্তের ভিড়ে, কাঁসর - ঘণ্টার ধ্বনি আর দীপের আলোয়। স্থানীয় বাসিন্দা রামসেবক গুপ্তা বলেন, শুনেছি এবং কথিত আছে ডাকাতরা এই মুজনাই নদীপথে এসে এই জংলাকালি মায়ের পূজো দিয়ে তারপর জলপথে ডাকাতি করতে যেত।
দেবী চৌধুরানী
পরবর্তী সময়ে দেবী চৌধুরানীর বজরাও এই নদীপথেই যাতায়াত করত এবং উনিও এই মন্দিরে এসে মায়ের পুজো দিতেন। এখানে এই মুজনাই নদীর পাড়ে ঘন জঙ্গল থাকায় এবং এখানে এই কালী মায়ের পূজা হওয়ায় পরবর্তীকালে মন্দির হয়ে ওঠে এবং সেটা জংলাকালী মায়ের মন্দির নামেই পরিচিতি পায়। জানা গিয়েছে, পুরনো রীতি-নিয়ম মেনেই এই মন্দিরের পুজো হয়। এখানে পাঁঠাবলির প্রথাও রয়েছে। প্রতি বছরই শতাধিক পাঁঠা এখানে বলি হয় এবং পায়রা উৎসর্গ করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, বিজনেস, লাইফস্টাইল, কেরিয়ার, ইউটিলিটির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের Facebook, Whatsapp Channel, X, Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)