ভয়ংকর তাজপুর: সাইক্লোন অর্ণবের উত্তাল সৈকতে লাল সতর্কতার মধ্যেই পিকনিক-স্নান, তলিয়ে গেল ১৭র কিশোর
Cycle Arnab Tajpur Sea Tragedy: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে উত্তাল তাজপুর সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মৃত্যু হল দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র শুভজিৎ পন্ডার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন দুই বন্ধু। শোকস্তব্ধ রামনগর।
কিরণ মান্না: বঙ্গোপসাগরে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর (Cyclone Arnab) প্রভাবে উপকূলজুড়ে জারি রয়েছে কড়া সতর্কতা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমুদ্রে নামার ওপর নিষেধাজ্ঞা (Prohibition on Sea Bathing) জারি করা হয়েছিল আগেই। কিন্তু সেই সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করেই স্নান করতে নেমে ঘটে গেল মর্মান্তিক বিপর্যয়। পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুর সমুদ্র সৈকতে (Tajpur Sea Beach) স্নান করতে নেমে উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে তলিয়ে মৃত্যু হল দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে লড়াই করছেন তাঁর আরও দুই সহপাঠী। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত ছাত্রের নাম শুভজিৎ পন্ডা (১৮)। তিনি রামনগর থানার থিয়ারের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
টিউশন থেকে সোজা সৈকতে: কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে শুভজিৎ তাঁর সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গে এক শিক্ষকের কাছে টিউশন পড়তে গিয়েছিলেন। কিন্তু পড়াশোনা শেষের পর বাড়ি না ফিরে বন্ধুরা মিলে পরিকল্পনা করে তাজপুর সমুদ্র সৈকতে পিকনিক করতে যায়।
দুপুরের দিকে শুভজিৎ, সুভাষ সাউ এবং বিকাশ চন্দ্র জানা নামে তিন বন্ধু সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মেতে ওঠার জন্য জলে নামেন। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর কারণে সমুদ্রের চরিত্র ছিল অত্যন্ত উত্তাল ও বিপজ্জনক (Rough Sea Conditions)। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, আচমকাই একটি বিশালাকার ঢেউ শুভজিৎকে ভাসিয়ে গভীর সমুদ্রের দিকে নিয়ে যায়। শুভজিৎকে ডুবতে দেখে সুভাষ ও বিকাশ তাঁকে বাঁচাতে গেলে তাঁরাও প্রবল আন্ডারকারেন্ট ও ঢেউয়ের টানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জলে তলিয়ে যান।
উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি
সৈকতে থাকা স্থানীয় মানুষ ও কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ার ও পুলিসকর্মীদের তৎপরতায় দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। পুলিস কর্মীরা জলে নেমে সুভাষ সাউ ও বিকাশ চন্দ্র জানাকে জীবিত অবস্থায় সৈকতে নিয়ে আসেন। বেশ কিছুক্ষণ তল্লাশি চালানোর পর অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয় শুভজিৎকে।
তিনজনকেই দ্রুত নিকটবর্তী বালিসাই বড়-রাংকুয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা শুভজিৎ পন্ডাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সুভাষ সাউ বর্তমানে বালিসাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, বিকাশ চন্দ্র জানার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে (Contai Sub-Divisional Hospital) স্থানান্তরিত করা হয়েছে। শুভজিতের মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সাইক্লোন অর্ণবের সতর্কবার্তা
আবহাওয়া দফতর এবং জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকবে এবং সমুদ্রে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উপকূলবর্তী দিঘা, মন্দারমণি ও তাজপুরে নজরদারি চালানো হলেও পর্যটক ও তরুণ প্রজন্মের একাংশের মধ্যে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা বারবার দেখা যায়।
সৈকত বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘূর্ণিঝড় বা গভীর নিম্নচাপের সময় সমুদ্রের জলতলে তৈরি হওয়া রিপ কারেন্ট (Rip Currents) মানুষকে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই ধরনের আকস্মিক স্রোতে দক্ষ সাঁতারুরাও দিশেহারা হয়ে পড়েন। স্থানীয় প্রশাসন পুনরায় কড়া বার্তা দিয়ে সাধারণ মানুষকে সৈকতে সতর্ক থাকতে এবং জলে না নামার নির্দেশ দিয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)